Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

জিও-র অনুষ্ঠানে নীতা আম্বানির কাঞ্জিভরম, নজর কাড়ল হিরের ঘড়ি

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৯ এএম

জিও-র অনুষ্ঠানে নীতা আম্বানির কাঞ্জিভরম, নজর কাড়ল হিরের ঘড়ি

বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়িক সাফল্যের বিশেষ মুহূর্তে ঐতিহ্য আর আধুনিক বিলাসিতার মেলবন্ধনে নজর কাড়লেন নীতা আম্বানি (Nita Ambani)। ২৮ অক্টোবর Jio-র তালিকাভুক্তি অনুষ্ঠানে তাঁর পোশাকে প্রাধান্য পেল ভারতীয় হস্তশিল্প, কাঞ্জিভরম সিল্ক এবং মূল্যবান গয়নার সূক্ষ্ম সমন্বয়। আইভরি ও নীল রঙের কাঞ্জিভরম শাড়ির সঙ্গে বহুস্তর মুক্তোর মালা এবং হিরে বসানো Patek Philippe ঘড়ি তাঁর সাজে যোগ করল আলাদা মাত্রা। জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত অলংকরণের বদলে শাড়ির বুনন, সূক্ষ্ম নকশা এবং গয়নার বৈশিষ্ট্যকেই সামনে রেখেছিলেন তিনি।

আইভরি ও নীল কাঞ্জিভরম শাড়িতে ভারতীয় হস্তশিল্পের ছোঁয়া

নীতা আম্বানির শাড়িটি তৈরি করেছে Swadesh, ভারতীয় কারুশিল্প ও শিল্পীদের কাজকে তুলে ধরার জন্য রিলায়েন্সের উদ্যোগ। আইভরি রঙের সিল্কের উপর নীল ও সবুজ রঙের ফুলের নকশা দিয়ে সাজানো হয়েছিল শাড়ির পাড় ও আঁচল। হালকা রঙের জমিনের সঙ্গে রঙিন সুতোয় করা নকশার এই সমন্বয় শাড়িটিকে দিয়েছিল স্বতন্ত্র পরিচয়।

শাড়ির বিশেষত্ব ছিল তার সংযত রঙের ব্যবহার। গাঢ় বা অতিরিক্ত ঝলমলে রঙের বদলে আইভরি জমিনের উপর নীল ও সবুজের সূক্ষ্ম কাজ নজর কেড়েছে। এতে ঐতিহ্যবাহী শাড়ির সৌন্দর্য বজায় থেকেছে, আবার সাজেও এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া।

তামিলনাড়ুর কাঞ্জিপুরম অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত কাঞ্জিভরম সিল্ক শাড়ি ভারতের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্পের অন্যতম পরিচিত নিদর্শন। সমৃদ্ধ সিল্ক, জটিল বুনন এবং স্বতন্ত্র পাড়ের জন্য এই শাড়ির বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। বিয়ে, উৎসব এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে বহুদিন ধরেই কাঞ্জিভরম শাড়ির জনপ্রিয়তা রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই শাড়ি সংরক্ষণ করার ঐতিহ্যও ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত।

হিরে বসানো Patek Philippe ঘড়িতে বিলাসিতার ছোঁয়া

শাড়ির পাশাপাশি নীতা আম্বানির হাতে থাকা ঘড়িটিও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। প্রকাশিত বর্ণনা অনুযায়ী, ঘড়িটি হিরে বসানো Patek Philippe Nautilus Haute Joaillerie-র একটি সংস্করণ হতে পারে। ঘড়ির কেস, বেজেল এবং ডায়ালে হিরের ঝলক ঐতিহ্যবাহী সিল্কের সাজের সঙ্গে আধুনিক বিলাসবহুল ঘড়ি নির্মাণের এক অভিনব সমন্বয় তৈরি করেছে।

Patek Philippe-এর Nautilus সিরিজের সূচনা ১৯৭৬ সালে। বিখ্যাত ঘড়ি-নির্মাতা জেরাল্ড জেন্টার নকশা করা এই সিরিজ বিলাসবহুল স্পোর্টস ঘড়ির জগতে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছে। Haute Joaillerie সংস্করণে ঘড়ির নকশার সঙ্গে মূল্যবান রত্নের ব্যবহার যুক্ত হয়, যা সাধারণ সময় দেখার যন্ত্রকে গয়নার মতো আকর্ষণীয় করে তোলে।

তবে নীতা আম্বানির ঘড়িটির সঠিক মডেল নম্বর, উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য এবং বাজারমূল্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই এটিকে নির্দিষ্ট Nautilus Haute Joaillerie মডেল হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি আপাতত নিশ্চিত তথ্য হিসেবে ধরা ঠিক হবে না।

বহুস্তর মুক্তোর মালায় ক্লাসিক সাজ

নীতা আম্বানির গলার বহুস্তর মুক্তোর মালাটিও তাঁর সাজের অন্যতম আকর্ষণ ছিল। সাদা মুক্তোর একাধিক সারি গলার কাছে সুন্দরভাবে সাজানো ছিল। আইভরি শাড়ির সঙ্গে মুক্তোর রঙের সামঞ্জস্য পুরো সাজে একটি নরম, ক্লাসিক আবহ তৈরি করেছে।

মালার কাঁধের কাছের অংশে হিরে বসানো ক্ল্যাস্পের মতো অলংকরণ ঝলমলে মাত্রা যোগ করেছে। পাশাপাশি মুক্তো ও হিরে বসানো ব্রেসলেট এবং নজরকাড়া কানের দুলের মাধ্যমে গয়নার সাজে সামঞ্জস্য বজায় রেখেছিলেন তিনি।

মুক্তোর বিশেষত্ব হল, এগুলি পোশাকে অতিরিক্ত রঙ বা ভারী নকশা যোগ না করেও সৌন্দর্য বাড়াতে পারে। সিল্ক শাড়ি, এমব্রয়ডারি করা পোশাক কিংবা সন্ধ্যার আনুষ্ঠানিক সাজের সঙ্গে মুক্তোর মালা দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। নীতা আম্বানির ক্ষেত্রেও মুক্তোর কোমল আভা এবং হিরের ঝলক একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছে।

মেকআপ ও চুলের সাজেও ছিল সংযম

গয়না ও শাড়ির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মেকআপেও সংযত সৌন্দর্য বজায় রেখেছিলেন নীতা আম্বানি। চোখে ছিল স্পষ্ট উইংড আইলাইনার এবং মাসকারা, যা চোখের গঠনকে আরও ফুটিয়ে তুলেছে। গালে হালকা ব্লাশ ও উজ্জ্বল হাইলাইটারের ব্যবহার তাঁর সাজে উষ্ণতা যোগ করেছে। ঠোঁটে ছিল হালকা নিউড রঙের লিপস্টিক।

চুল সিঁথি করে একদিকে ভাগ রেখে খোলা রাখা হয়েছিল। এর ফলে জমকালো অনুষ্ঠানের সাজেও একটি স্বাভাবিক ও স্বচ্ছন্দ ভাব বজায় ছিল। কপালে ছোট মেরুন রঙের টিপ ঐতিহ্যবাহী সাজকে সম্পূর্ণ করেছে।

এই সাজের বিশেষত্ব ছিল প্রতিটি উপাদানের মধ্যে ভারসাম্য। শাড়ি দিয়েছে রঙ ও কারুশিল্পের পরিচয়, মুক্তোর মালা যোগ করেছে কোমলতা, আর হিরে বসানো ঘড়ি এনেছে আধুনিক বিলাসিতার ছোঁয়া।

নীতা আম্বানি: ব্যবসা, সমাজসেবা ও ফ্যাশনের মেলবন্ধন

নীতা আম্বানি ব্যবসায়িক জগতের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গেও যুক্ত। তিনি রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন। মুম্বইয়ে ধীরুভাই আম্বানি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির মতো একাধিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন তিনি।

রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির স্ত্রী নীতা আম্বানি। তাঁদের সন্তান ঈশা আম্বানি, আকাশ আম্বানি এবং অনন্ত আম্বানি।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর পোশাকে ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের গয়না ও আনুষঙ্গিক সামগ্রীর মেলবন্ধন দেখা যায়। Jio-র তালিকাভুক্তির অনুষ্ঠানের আইভরি কাঞ্জিভরম শাড়ি, বহুস্তর মুক্তোর মালা এবং হিরে বসানো ঘড়িও সেই ধারারই উদাহরণ।

ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় শাড়ির সৌন্দর্যকে সামনে রেখে আধুনিক বিলাসিতার ছোঁয়া যোগ করাই ছিল এই সাজের মূল বৈশিষ্ট্য। ফলে ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানের জাঁকজমকের মধ্যেও ভারতীয় কারুশিল্প ও বস্ত্রঐতিহ্য বিশেষভাবে নজরে এসেছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার