Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ঘরের কাজে আসছে টেসলার মানবসদৃশ রোবট, গৃহিণীদের কাজ কতটা সহজ করবে নতুন প্রযুক্তি?

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২১ এএম

ঘরের কাজে আসছে টেসলার মানবসদৃশ রোবট, গৃহিণীদের কাজ কতটা সহজ করবে নতুন প্রযুক্তি?

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা তাদের মানবসদৃশ রোবট ‘অপটিমাস’-এর প্রাথমিক উৎপাদন শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের পরিকল্পনা, ভবিষ্যতে এই রোবট শিল্পকারখানার পাশাপাশি মানুষের বাড়িতেও দৈনন্দিন কাজে সহায়তা করবে। কাপড় ভাঁজ করা, জিনিসপত্র গোছানো এবং ঘরের বিভিন্ন পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে রোবটটির। তবে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এর বিক্রি শুরু হয়নি। টেসলার লক্ষ্য, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বাইরের গ্রাহকদের কাছে রোবট সরবরাহ শুরু করা। এই সময়সীমা অবশ্য নিশ্চিত নয়।

টেসলার তৃতীয় প্রান্তিকের আয়সংক্রান্ত আলোচনায় মাস্ক স্বীকার করেছেন, রোবটকে বাস্তব জীবনের নানা ধরনের কাজে কার্যকর করে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও যান্ত্রিক সক্ষমতার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। প্রাথমিক পর্যায়ে অপটিমাসকে শিল্পকারখানায় বিপজ্জনক ও একঘেয়ে কাজের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর উৎপাদন বাড়লে সাধারণ মানুষের জন্য বাজারজাত করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে রোবটটির চূড়ান্ত দাম, সাধারণ পরিবারের জন্য এর পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা এবং বিক্রির নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও এ নিয়ে সতর্কতা রয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ভার্জের ২২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির রোবোটিকস অধ্যাপক কেন গোল্ডবার্গ রোবটের সফটওয়্যার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম হলো, রোবট তৈরি করা সম্ভব হলেও বাস্তব পরিবেশে সেটিকে নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করানোর প্রযুক্তি এখনো যথেষ্ট উন্নত নয়। কাপড় ভাঁজ করা, ভঙ্গুর বাসনপত্র সামলানো কিংবা রান্নাঘরের জটিল পরিস্থিতিতে নিরাপদে কাজ করার জন্য রোবটকে আরও নির্ভুল হতে হবে।

একটি কারখানায় নির্দিষ্ট পরিবেশে কাজ করা এবং বাড়ির পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি সামলানো এক বিষয় নয়। ঘরে ছড়িয়ে থাকা খেলনা, বিভিন্ন আকৃতির জিনিসপত্র কিংবা গরম পানি ও ধারালো সরঞ্জামের মতো ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হলে রোবটকে পরিবেশ বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রদর্শনীতে কোনো কাজ সফলভাবে দেখানো গেলেও সেটি মানুষের সাহায্য ছাড়া বারবার নির্ভরযোগ্যভাবে করা সম্ভব কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এ ছাড়া উৎপাদন বাড়ানো, যন্ত্রাংশের স্থায়িত্ব এবং সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতাও টেসলার সামনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।

ভবিষ্যতে অপটিমাস নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ত পরিবারগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ঘর গোছানো, কাপড় ভাঁজ করা এবং জিনিসপত্র সরানোর মতো কাজে এটি সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে যেসব গৃহিণী প্রতিদিন ঘরের নানা কাজ সামলান, তাঁদের দৈনন্দিন পরিশ্রম কমাতে এ ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ভূমিকা রাখতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তি বা শারীরিকভাবে সীমাবদ্ধ মানুষের দৈনন্দিন কাজেও সহায়তার সুযোগ রয়েছে। তবে রোবটটির দাম, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। টেসলা এখনো সাধারণ পরিবারের জন্য চূড়ান্ত মূল্য ঘোষণা করেনি।

সব মিলিয়ে, টেসলার অপটিমাস গৃহস্থালি কাজে রোবট ব্যবহারের সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে এসেছে। তবে উৎপাদন শুরু হওয়া মানেই ঘরের কাজের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রোবট বাজারে চলে আসা নয়। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বাইরের গ্রাহকদের কাছে সরবরাহের লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তির উন্নয়ন, নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা এবং উৎপাদন সক্ষমতার ওপর।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার