বিজ্ঞাপন
ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে আরও ৫০৮ বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১১ এএম
বিজ্ঞাপন
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যকারিতা ও সক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সেখানে নতুন করে আরও ৫০৮ জন বিশেষজ্ঞ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম কেন্দ্রটিতে কর্মরত জনবলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৭০০ জনে উন্নীত করার যে বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তারই অংশ হিসেবে এই নতুন বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে দুই দেশের পরমাণু খাতের এই ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার তথ্যটি সামনে এসেছে।
রোসাটমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেক্সি লিখাচেভ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে রুশ কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো চিন্তাভাবনা মস্কোর নেই। বরং কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক সেবা কার্যক্রমে ১৯২ জন রুশ বিশেষজ্ঞ নিয়োজিত রয়েছেন। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তাদের সঙ্গে যুক্ত হবেন আরও ৫০৮ জন বিশেষজ্ঞ, যা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মোট কর্মীর সংখ্যা ৭০০ জনে নিয়ে যাবে। এর পাশাপাশি কেন্দ্রটিতে নতুন কয়েকটি বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণের স্থান নির্ধারণ নিয়ে ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলেও জানা গেছে।
রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত এই সহযোগিতার খবরটি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে মস্কো সফর করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সফরকালে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেছেন।
এর আগে, সিআইএস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর রোসাটমের প্রধান ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইরানে ছোট ও বড় আকারের আরও বেশ কয়েকটি নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পশ্চিমা নানা বিধি-নিষেধের মুখেও রাশিয়া ও ইরানের পারমাণবিক খাতের কৌশলগত মিত্রতা আরও সুদৃঢ় হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।