বিজ্ঞাপন
'আমার স্বামীকে ভোট দেন, নাহলে আমরা সবাই মারা যাব' ফাঁস হওয়া ফোনালাপে নেতানিয়াহুর স্ত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
বিজ্ঞাপন
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি কথিত ফাঁস হওয়া ফোনালাপ ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে আলট্রা-অর্থোডক্স বা অতি রক্ষণশীল ইহুদি ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছিলেন তিনি। এ সময় সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি নিয়ে প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের কথা শুনে তাঁকে বিরক্তি প্রকাশ করতে শোনা যায় বলে জানিয়েছে জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়্যাল নিউজ।
ফাঁস হওয়া বলে দাবি করা ওই কথোপকথনে নেতানিয়াহুকে বলতে শোনা যায়, “আমাকে বলুন, তারা কি পাগল হয়ে গেছে? তারা কি বামপন্থি সরকার চায়?”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক রাজনৈতিক কর্মীর সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন নেতানিয়াহু। ওই কর্মী তাঁকে জানান, সামরিক বাহিনীতে নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আলট্রা-অর্থোডক্স ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ফলে তাঁদের ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
কথোপকথনের সময় নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুকেও পেছন থেকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর কণ্ঠে শোনা যায়, “কিন্তু আমরা সবাই মারা যাব!”
তবে রেকর্ডিংটির সত্যতা এবং কথোপকথনের পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ইসরায়েলের রাজনীতিতে আলট্রা-অর্থোডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের সমর্থন দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত অতি রক্ষণশীল ইহুদি পুরুষদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি দেশটিতে দীর্ঘদিনের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
এই অব্যাহতি নিয়ে বিরোধের কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে এবং নেতানিয়াহুর জোট সরকারের ঐক্য ধরে রাখার প্রচেষ্টাও জটিল হয়েছে। আলট্রা-অর্থোডক্স দলগুলোর সমর্থন তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ সম্প্রদায়ের ভোটারদের অসন্তোষ বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
ফাঁস হওয়া ফোনালাপের বক্তব্য সেই রাজনৈতিক চাপেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে রেকর্ডিংয়ের সত্যতা ও পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কথোপকথনটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।