Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ইসরাইলি নির্বাচনে ‘ডাবল এনভেলপ’ কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ?

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম

ইসরাইলি নির্বাচনে ‘ডাবল এনভেলপ’ কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিজ্ঞাপন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে অধিকাংশ ভোট গণনা শেষ হলেও সরকার গঠনের হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর অন্যতম কারণ, সেনা সদস্য, কূটনীতিক ও কারাবন্দিদের মতো নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে না পারা ব্যক্তিদের ‘ডাবল এনভেলপ’ বা ‘দ্বৈত খাম’ পদ্ধতিতে দেওয়া ভোটের গণনা বাকি রয়েছে। এই ভোটের ওপর নির্ভর করছে কয়েকটি আসনের চূড়ান্ত হিসাব।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে দ্বৈত খামের ভোট বাদে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রের গণনা শেষ হয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত গণনা করা ভোটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন এবং সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে।

ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন। ফলে বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।

‘ডাবল এনভেলপ’ কী?

‘ডাবল এনভেলপ’ বা দ্বৈত খাম হলো এমন একটি ভোটদান পদ্ধতি, যেখানে নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে না পারা নির্দিষ্ট শ্রেণির ভোটাররা অন্য ব্যবস্থায় ভোট দেন। ইসরাইলের সেনা সদস্য, কূটনীতিক, হাসপাতালে থাকা ব্যক্তি ও কারাবন্দিদের মতো ভোটাররা এ পদ্ধতিতে ভোট দিতে পারেন।

এ পদ্ধতিতে ভোটারের পরিচয় যাচাই এবং ভোটের গোপনীয়তা রক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়। ভোটারের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য এবং ব্যালট আলাদা খামে রাখার মাধ্যমে ভোটারের যোগ্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি তার ভোটের গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়।

সাধারণ ভোটকেন্দ্রের ভোট গণনার পর এ ধরনের ভোট যাচাই ও গণনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। ফলে মূল ভোট গণনা শেষ হলেও দ্বৈত খামের ভোটের কারণে চূড়ান্ত আসনসংখ্যা নির্ধারণে আরও সময় লাগতে পারে।

আরও পড়ুন
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ভোট?

ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথের তথ্য অনুযায়ী, দ্বৈত খাম পদ্ধতিতে দেওয়া ভোটের সংখ্যা প্রায় ছয় লাখ। এসব ভোট মোট ভোটের আনুমানিক ১৫ শতাংশের সমান। বুধবার রাতে এ ভোট গণনা শুরু হয়ে বৃহস্পতিবারের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এত বিপুলসংখ্যক ভোট গণনা বাকি থাকায় কয়েকটি আসনের হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে। তবে এসব ভোটের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে কোন দল কতটি আসন পাবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

নির্বাচনে ইসরাইলি নাগরিক ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, তিনটি দলের সমন্বয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট ১২টি এবং মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম পার্টি সাতটি আসন পেতে পারে। সব মিলিয়ে আরব দলগুলো ১৯টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

সরকার গঠনের সমীকরণে কী প্রভাব পড়বে?

দ্বৈত খামের ভোট গণনা শেষে দলগুলোর আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে জোট গঠন ও সমঝোতার পথে এগোতে হবে।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব পাওয়া দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর যার সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে, তাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

প্রথম দফায় সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় দেওয়া হবে। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো যেতে পারে। এরপরও সরকার গঠন সম্ভব না হলে বিকল্প কাউকে দায়িত্ব দেওয়া কিংবা নতুন নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার