বিজ্ঞাপন
নিহত বেড়ে ৬৮ , আহত শতাধিক
স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় এত মৃত্যুর আসল কারণ জানা গেল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৭ এএম
বিজ্ঞাপন
২৮ অক্টোবর ২০২৬ সকালে স্পেনের তোলেদো প্রদেশের উর্দাতে ঘটা ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ হিসেবে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থার ত্রুটি এবং পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের অপারেটরের ‘হিউম্যান এরর’ বা মানুষের ভুলকেই দায়ী করা হচ্ছে। মাদ্রিদ-সেভিয়া রুটে ঘটা দ্রুতগতির দুই ট্রেনের এই সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ জনে, এবং আহত হয়েছেন শতাধিক যাত্রী।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা এবং এত বেশি মানুষের প্রাণহানির মূল কারণগুলো হলো—
কম্পিউটারাইজড সিগন্যালব্যবস্থায় বিপর্যয়
দুর্ঘটনার ঠিক আগে ওই অঞ্চলের রেললাইনের প্রধান স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা সিগন্যাল ব্যবস্থা (LZB System) হুট করে বিকল হয়ে যায়। এর ফলে স্বয়ংক্রিয় প্রটোকল অনুযায়ী ওই রুটে থাকা প্রায় ৬৩ কিলোমিটার এলাকার সব ট্রেন নিজ থেকেই থেমে যায়।
অপারেটরের 'ব্যাখ্যাতীত' নির্দেশ (হিউম্যান এরর)
স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল বন্ধ থাকায় রেল পরিকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা 'আদিফ' (Adif)-এর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ম্যানুয়ালি ট্রেন পরিচালনা শুরু হয়। সে সময় বেসরকারি খাতের 'ইরো (Iryo) ট্রেনটি' সিগন্যাল জটিলতার কারণে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল।
কিন্তু নিয়ন্ত্রণ কক্ষের অপারেটর লাইনে লালবাতি (Red Signal) থাকা সত্ত্বেও এবং সামনে অন্য ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত না করেই পেছনের 'রেনফে (Renfe) হাইস্পিড ট্রেনটিকে' চলাচলের অনুমতি দিয়ে দেন। স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের এই সিদ্ধান্তকে ‘সম্পূর্ণ ভুল এবং ব্যাখ্যাতীত’ বলে উল্লেখ করেছেন।
অতিরিক্ত গতি ও ভয়াবহ সংঘর্ষ
নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে রেনফে ট্রেনটিকে শুধুমাত্র ভুল সবুজ সংকেতই দেওয়া হয়নি, বরং সেটির কোনো গতিসীমাও নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে ট্রেনটি প্রায় ২০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে গিয়ে সামনে স্থির দাঁড়িয়ে থাকা ইরো ট্রেনটিকে পেছন থেকে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা মারে।
মৃত্যুর সংখ্যা এত বেশি হওয়ার কারণ
দ্রুতগতির কারণে সংঘর্ষের তীব্রতা ছিল মারাত্মক। ধাক্কার অভিঘাতে ইরো ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইনের পাশের গভীর ঢাল (Embankment) বেয়ে নিচে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ট্রেনের ভেতরের আসনগুলো উপড়ে যায় এবং যাত্রীরা একে অপরের ওপর ছিটকে পড়েন, যার ফলে ঘটনাস্থলেই অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেস দেশটিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন এবং ঘটনার পেছনে কোনো অপরাধমূলক অবহেলা ছিল কি না তা জানতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দক্ষিণ স্পেনের কর্দোবা প্রদেশে আরেকটি বড় ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনায় আইরিওর একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা রেনফের একটি ট্রেনকে ধাক্কা দেয়। এতে ৪৬ জন নিহত হন। এ ছাড়া বার্সেলোনার কাছে আরেকটি দুর্ঘটনায় একজন ট্রেনচালক নিহত হন।