Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ব্রাজিল থেকে পালানোর বিষয়ে যা বললেন ফ্লাভিও বলসোনারো

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৪ এএম

ব্রাজিল থেকে পালানোর বিষয়ে যা বললেন ফ্লাভিও বলসোনারো

বিজ্ঞাপন

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান পরাজিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। তবে মিয়ামিতে পৌঁছে দেশ ছেড়ে পালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেছেন, নিজের মাতৃভূমি ছেড়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তার ছিল না।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিবিসির খবরে জানানো হয়, দেশ ছাড়ার পর প্রথমবার বিবৃতি দেন ফ্লাভিও। তিনি বলেন, ‘আমি ব্রাজিল থেকে পালিয়ে আসিনি; ব্রাজিলের স্বার্থেই দেশ ছেড়েছি।’

ব্রাজিলে একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে তার পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছিল। এরপর যুক্তরাষ্ট্র তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেয়। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফ্লাভিও। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছি।’

অন্যদিকে, পুনর্নির্বাচিত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ফ্লাভিওর গোপনে দেশ ছাড়ার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘যাদের লুকানোর কিছু নেই, তাদের ভয় পাওয়ারও কিছু নেই।’

আরও পড়ুন
নিজেকে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ফ্লাভিওর পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে তার অবস্থান নিয়ে কয়েক দিনের বিভ্রান্তির অবসান হয়েছে। এর আগে তিনি আর্জেন্টিনা গেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। পরে মঙ্গলবারই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন বলে আগাম খবর ছড়িয়ে পড়ে।

এক বিবৃতিতে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন জনগণকে ধন্যবাদ জানান ফ্লাভিও।

তিনি বলেন, ‘আমার মাতৃভূমি ছেড়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার কখনোই ছিল না। কিন্তু পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, তা আমি ভালো করেই জানি। আমি ব্যতিক্রমী শাসনব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছি, যাতে আমার জনগণ যে নেতা পাওয়ার যোগ্য, সেই নেতা হয়ে উঠতে পারি।’

নিজেকে অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার দাবি করে ফ্লাভিও বলেন, পরিবারের সুরক্ষার জন্যই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন।

দীর্ঘ ওই বিবৃতিতে তিনি নির্বাচনে ‘কারচুপির’ অভিযোগও পুনরাবৃত্তি করেন। তার দাবি, নির্বাচনে এমন ফল হয়েছে, যা গাণিতিকভাবে অসম্ভব।

বুধবার ফ্লাভিওর বিবৃতিতে উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি এতে জড়াতে চাই না। তবে নির্বাচনটি যে খুব অদ্ভুত ছিল, তা নিশ্চিত।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ফ্লাভিও ও তার পরিবারের সঙ্গে অত্যন্ত অন্যায্য আচরণ করা হয়েছে বলে তার মনে হয়।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় ফ্লাভিও জয়ী হলেও দ্বিতীয় দফায় বামপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী লুলা ৪০ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। ভোটার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি এবং সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের সমর্থন লুলার পক্ষে যাওয়ায় এই ফল হয়েছে বলে মনে করা হয়।

ব্রাজিলের সর্বোচ্চ নির্বাচনি আদালতের প্রধানও ফলাফল নিশ্চিত করেন। ওই বিচারককে ফ্লাভিওর বাবা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো নিয়োগ দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন
যেভাবে মিয়ামিতে পৌঁছালেন ফ্লাভিও

আর্জেন্টিনার একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের পর ফ্লাভিওর অবস্থান নিয়ে প্রথম জল্পনা শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তিনি স্থলপথে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সীমান্ত অতিক্রম করে একটি ব্যক্তিগত বিমানে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

ব্রাজিলের পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। মঙ্গলবার ভোরে সীমান্ত পারাপারের স্থানগুলোতে তল্লাশি চালানো হলেও ফ্লাভিও দেশ ছেড়েছেন, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর্জেন্টিনার কর্মকর্তারাও জানান, তার সীমান্ত অতিক্রমের বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় বামপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর ফ্লাভিও হয়তো স্বাভাবিকের তুলনায় আড়ালে থাকার চেষ্টা করছেন, এমন ধারণাও তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে তার পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

মঙ্গলবার নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যে পাসপোর্ট জমা দিতে ব্যর্থ হলে ব্রাজিলের কর্তৃপক্ষ তার পাসপোর্ট বাতিল করে এবং সীমান্ত এলাকায় পুলিশি তল্লাশির নির্দেশ দেয়।

এরপরই তিনি দেশ ছেড়েছেন বলে জল্পনা বাড়তে থাকে। ফ্লাভিওর আইনজীবীরাও জানান, তিনি কোথায় আছেন, সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কয়েকটি সূত্র বিবিসি ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমকে জানায়, ফ্লাভিও যুক্তরাষ্ট্রের পথে রয়েছেন।

ফ্লাভিও ও তার ছোট ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারোর ঘনিষ্ঠ এক চাচাতো ভাই বিবিসি ব্রাজিলকে জানান, পরাজিত ডানপন্থি প্রার্থী মিয়ামিতে পৌঁছেছেন। এদুয়ার্দোর আরেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী বিবিসি মুন্ডোকে জানান, ফ্লাভিও তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে মিয়ামিতে রয়েছেন। সে সময় ফ্লাভিও বা এদুয়ার্দোর কারও সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে পরে আর্জেন্টিনার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে ফ্লাভিও, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে স্থলপথে আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেছেন।

বিবিসির যাচাই করা ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১৮ মিনিটে আর্জেন্টিনার পুয়ের্তো ইগুয়াজু থেকে বলসোনারো পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি ব্যক্তিগত বিমান ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিলের উদ্দেশে যাত্রা করে। সেখানে অল্প সময়ের যাত্রাবিরতির পর একই বিমান মিয়ামি-ওপা লকা এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়।

স্থানীয় সময় বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার কিছু আগে তারা সেখানে পৌঁছান। তার আগমনের অপেক্ষায় থাকা আলোকচিত্রীরা বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় ফ্লাভিওকে ঘিরে ধরেন। এ সময় তার সহযোগীরা ছাতা দিয়ে তাকে আড়াল করার চেষ্টা করেন।

পরে এদুয়ার্দো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাই ফ্লাভিওর সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবির অবস্থান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন
ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে দুটি তদন্ত

ফ্লাভিও বলসোনারোর শেষ গন্তব্য কোথায়, কিংবা তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কত দিন থাকবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ব্রাজিলের সুপ্রিম ফেডারেল কোর্টে তার বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি তদন্ত চলছে।

এর একটি হলো, বেসরকারি ব্যাংক ব্যাংকো মাস্টার থেকে প্রায় ৭ কোটি ডলার স্থানান্তরের ঘটনায় সম্ভাব্য অনিয়মের তদন্ত। এই অর্থ তার বাবাকে নিয়ে নির্মিত ‘ডার্ক হর্স’ নামের একটি চলচ্চিত্রের জন্য স্থানান্তর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

দ্বিতীয় তদন্তটি অর্থ পাচারের অভিযোগসংক্রান্ত। তবে দুটি অভিযোগই অস্বীকার করেছেন ফ্লাভিও।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার