বিজ্ঞাপন
সাইবার প্রতারণায় বছরে ১৮ বিলিয়ন ডলার হারাচ্ছেন মার্কিনিরা,বাংলাদেশকে উদীয়মান কেন্দ্র বলছে জাতিসংঘ
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৫ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইন ও সাইবার প্রতারণায় প্রতি ঘণ্টায় ২০ লাখ ডলারের বেশি হারাচ্ছেন মার্কিনিরা। ২০২৫ সালে এ ধরনের প্রতারণায় প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির অভিযোগ জমা পড়েছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) কাছে। অথচ আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের কাছ থেকে কত অর্থ উদ্ধার হয়েছে এবং তার কতটা ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেই মার্কিন সরকারের কাছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত মার্কিন কংগ্রেসের এক তদন্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রসঙ্গও এসেছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কংগ্রেসের জয়েন্ট ইকোনমিক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত চালিয়েছেন। সিনেটর ম্যাগি হাসান এবং কংগ্রেসম্যান ডন বেয়ারের নেতৃত্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কার্যক্রম, উদ্ধার করা অর্থ এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তার বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে।
তদন্তে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক প্রতারণা মোকাবিলায় সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতাও অনেক ক্ষেত্রে স্বেচ্ছামূলক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মার্কিন নাগরিকেরা সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার ক্ষতির অভিযোগ এফবিআইকে জানিয়েছেন। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার এবং প্রতি ঘণ্টায় ২০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে। তবে এটি শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জমা পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি হিসাব। অনেক ভুক্তভোগী প্রতারণার ঘটনা জানাতে চান না কিংবা কোথায় অভিযোগ করতে হবে, তা জানেন না। ফলে প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি আরও বেশি হতে পারে।
তদন্তে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা প্রতারণার অর্থ উদ্ধার এবং ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়ার কাজ করলেও এসব কার্যক্রমের সমন্বিত তথ্যভান্ডার নেই। বিশেষ করে বিদেশে পরিচালিত প্রতারণা কেন্দ্র থেকে কত অর্থ জব্দ করা হয়েছে, কোন সংস্থা কত অর্থ উদ্ধার করেছে এবং তার কতটা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ফেরত দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। এতে সরকারি উদ্যোগের প্রকৃত কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এফবিআই কংগ্রেসের তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের ৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার ফেরত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ফেডারেল ট্রেড কমিশন বা এফটিসি জানিয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন প্রতারণাসংক্রান্ত আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তাদের ১৮৩ কোটি ডলার ফেরত দেওয়া হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি। তবে এফটিসি নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি, ফেরত দেওয়া অর্থের কতটা বিদেশে পরিচালিত প্রতারণা চক্রের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছিল।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছর মিলিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার ঘটনায় জব্দ করা সম্পদ থেকে ভুক্তভোগীদের ৭৭ কোটি ডলারের বেশি ফেরত দেওয়া হয়েছে। এই অর্থও শুধু আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ফলে এফবিআই, এফটিসি ও সিক্রেট সার্ভিসের প্রকাশিত হিসাব সরাসরি যোগ করে বিদেশি প্রতারণা চক্র থেকে উদ্ধার করা মোট অর্থ হিসেবে দেখানো যাবে না। সংস্থাগুলোর হিসাবের সময়কাল এবং অপরাধের ধরনও আলাদা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাপ্রাপ্ত বিদেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো প্রতারণা চক্রের কাছ থেকে কয়েক শ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে। তবে সুনির্দিষ্ট হিসাব জানতে বিচার বিভাগ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, প্রতারণা মোকাবিলায় একাধিক সংস্থা কাজ করলেও উদ্ধার করা অর্থ এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রের কর্মকাণ্ড নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বড় আকারের প্রতারণা কেন্দ্র পরিচালনার তথ্য উঠে এসেছে। এসব কেন্দ্র থেকে ভুয়া বিনিয়োগের প্রলোভন, অনলাইন প্রেমের সম্পর্কের নামে প্রতারণা, ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন আর্থিক কৌশলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের নানা দেশের মানুষকে লক্ষ্য করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা ব্যবহার করছে অপরাধী চক্রগুলো।
কংগ্রেসের তদন্ত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর ইউএনওডিসির সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা কার্যক্রমের উদীয়মান কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে তৈরি ওই গবেষণায় আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে কতটি প্রতারণা কেন্দ্র রয়েছে কিংবা দেশটি থেকে মার্কিন নাগরিকদের কত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, তার নির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট কমানোর কারণে বাংলাদেশে সাইবার প্রতারণা তদন্তে সহায়তাকারী অন্তত একটি কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেছে বলে কংগ্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। কর্মসূচিটির আওতায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সাইবার প্রতারণার তদন্তসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্র নতুন নতুন দেশে কার্যক্রম বিস্তার করলেও অপরাধ মোকাবিলায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি উদ্যোগ বন্ধ হওয়ার বিষয়টিকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তবে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণার উদীয়মান কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করার অর্থ এই নয় যে দেশটির সব অনলাইন কার্যক্রম কিংবা সাধারণ নাগরিকেরা এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত। আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রগুলো বিভিন্ন দেশে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, আর্থিক যোগাযোগ এবং অপরাধী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। কিছু ক্ষেত্রে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদেরও জোরপূর্বক প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হয়। ফলে অপরাধী চক্রের পরিচালনাকারী এবং শোষণের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য করা গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন কংগ্রেসের জয়েন্ট ইকোনমিক কমিটির জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্য সিনেটর ম্যাগি হাসান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধী সংগঠনগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতারণা চালাচ্ছে। তাঁর মতে, প্রতারণার বিস্তার ও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় কংগ্রেস, প্রশাসন এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও কার্যকরভাবে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। শুধু অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ নয়, প্রতারণা সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মার্কিন প্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতারণা প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর সমন্বিত জবাবদিহির ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরে গ্রাহকদের প্রতারণা থেকে রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও আইনি বাধ্যবাধকতার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে এখনো একই ধরনের বিস্তৃত ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অবশ্য আন্তর্জাতিক প্রতারণা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়েছে। একাধিক সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত স্ক্যাম সেন্টার স্ট্রাইক ফোর্স বিভিন্ন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের সহায়তায় প্রতারণা চক্রের ব্যবহৃত মার্কিন প্রযুক্তিগত অবকাঠামো শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার কাজ করছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্র দপ্তর গুগল, মেটা ও স্টারলিংকের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তথ্য বিনিময় এবং অপরাধীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করার বিষয়ে যোগাযোগ করেছে।
তবে তদন্তকারীদের মতে, এসব উদ্যোগের পরও একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশলের প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছে আলাদাভাবে অভিযোগ করতে হয়। অনেকেই বুঝতে পারেন না, কোন সংস্থার কাছে অভিযোগ করলে দ্রুত সহায়তা পাওয়া যাবে। এ সমস্যা সমাধানে একটি কেন্দ্রীয় অভিযোগ গ্রহণ ও সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং উদ্ধার করা অর্থের হিসাব সংরক্ষণের ব্যবস্থা উন্নত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও অনলাইন প্রতারণার এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, অনলাইন বিনিয়োগ, চাকরির প্রস্তাব এবং সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে অর্থ দাবি করার মতো প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ পাঠানোর আগে পরিচয় যাচাই এবং সন্দেহজনক লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। প্রতারণার শিকার হলে এফবিআইয়ের ইন্টারনেট ক্রাইম কমপ্লেইন্ট সেন্টারের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের তদন্তে আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণার আর্থিক ক্ষতি এবং তা মোকাবিলায় সরকারি ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এসেছে। ২০২৫ সালে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির অভিযোগ থাকলেও উদ্ধার ও ফেরত দেওয়া অর্থের পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত হিসাব নেই।
একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম বিস্তারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রতারণা প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের সহায়তা এবং প্রযুক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর সমন্বয়ের সুপারিশ করেছেন তদন্তকারীরা।
সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের জয়েন্ট ইকোনমিক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যদের তদন্ত প্রতিবেদন, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের।