বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির বাজারে ধস, কিনতে লাগবে ৮১ হাজার ডলারের বেশি অগ্রিম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৪ এএম
বিজ্ঞাপন
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসন খাতে চরম মন্দা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বাড়ি বিক্রির হার এতটাই কমেছে যে, তা ২০০৭-২০০৮ সালের 'গ্রেট রিসেশন' বা মহামন্দার সময়কার পরিস্থিতিকেও ছাড়িয়ে গেছে। রিয়েল এস্টেট ডেটা ফার্ম অ্যাটম (Attom)-এর নতুন পদ্ধতিতে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে লস অ্যাঞ্জেলেস ডেইলি নিউজের বিজনেস কলামিস্ট জোনাথন ল্যান্সনার জানান, গত জুলাই মাস পর্যন্ত এই অঞ্চলে বাড়ি বিক্রির হার অবিশ্বাস্য রকম কম ছিল।
অন্যদিকে, যারা এই কঠিন বাজারেও বাড়ি কিনতে সক্ষম হচ্ছেন, তাদের প্রায় রেকর্ড পরিমাণ মূল্য গুনতে হচ্ছে। এই পরিসংখ্যানের মধ্যে পুরনো বাড়ি এবং নতুন তৈরি হওয়া বাড়ি বা কন্ডো—উভয় ধরনের বিক্রির হিসাবই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জুলাই মাসে শেষ হওয়া পূর্ববর্তী ১২ মাসে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ছয়টি কাউন্টিতে বাড়ি বিক্রির হার ২০০৫ সাল থেকে রেকর্ড করা বার্ষিক গড়ের চেয়ে ৩৩ শতাংশ কম ছিল। ল্যান্সনারের মতে, বিগত দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটি ছিল বাড়ি বিক্রির দ্বিতীয় মন্থরতম ১২ মাস, যার চেয়ে খারাপ অবস্থা দেখা গিয়েছিল কেবল ২০২৬ সালের মে মাসে।
আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, আবাসন খাতের সেই ভয়াবহ ধসের সময়কার সবচেয়ে খারাপ অবস্থার তুলনায় জুলাই মাসের বিক্রির গতি আরও ৩ শতাংশ ধীর ছিল। গত ২১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বাড়ি বিক্রি হওয়া ২৫টি মাসের মধ্যে ১৭টি মাসই ২০২৩ সালের পর রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি মাস ছিল ২০০৭-২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার সময় এবং আরেকটি ছিল ২০২০ সালের মে মাসে, যখন মহামারির কারণে অর্থনীতি থমকে গিয়েছিল।
এই চরম মন্থরতার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া বাড়ির আকাশছোঁয়া দাম ও উচ্চ মর্টগেজ রেট। স্থানীয় অর্থনীতির অনিশ্চয়তা এবং চড়া মূল্যের কারণে সম্ভাব্য ক্রেতারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং অনেকেই বাড়ি কেনার বদলে ভাড়ায় থাকাকে অনেক বেশি সাশ্রয়ী মনে করছেন।
বিক্রিতে মন্দা থাকলেও জুলাই মাসে এই অঞ্চলের একটি বাড়ির মধ্যম বা মিডিয়ান মূল্য ছিল ৮ লক্ষ ১৫ হাজার ডলার, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের চেয়ে মাত্র ২ শতাংশ কম এবং ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ। ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাসোসিয়েশন অফ রিয়েল্টরসের তথ্য মতে, গত বসন্তে অরেঞ্জ কাউন্টির মাত্র ১৫ শতাংশ পরিবার বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখত।
লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগোতে এই হার ছিল ১৭ শতাংশ, রিভারসাইডে ২৮ শতাংশ এবং সান বার্নার্ডিনোতে ৩৪ শতাংশ। ২০২৩ সালের পর থেকে মূল্যবৃদ্ধির হার বছরে ২ শতাংশে নেমে এলেও, ক্রেতারা এখন এত চড়া দামে আবাসন খাতে বিনিয়োগ করতে দ্বিধাবোধ করছেন।
বাড়ির মূল্যের পাশাপাশি মর্টগেজের মাসিক কিস্তিও ক্রেতাদের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যম মূল্যের একটি বাড়ি কিনলে মর্টগেজ, প্রপার্টি ট্যাক্স এবং ইন্স্যুরেন্সসহ সম্ভাব্য মাসিক কিস্তি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫ হাজার ৭৬৫ ডলার, যা গত পাঁচ বছরের তুলনায় ৭২ শতাংশ বেশি। এর সাথে ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট হিসেবে প্রায় ৮১ হাজার ৫০০ ডলার অগ্রিম প্রয়োজন হয়।
এর বিপরীতে ভাড়ায় থাকা অনেক বেশি সাশ্রয়ী। জিলোর (Zillow) হিসাব অনুযায়ী, জুলাই মাসে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া ছিল প্রায় ২ হাজার ৮৬০ ডলার, যা বাড়ি কেনার মাসিক খরচের অর্ধেকেরও কম। এছাড়া ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাবে জুলাইয়ে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজের গড় হার ৬.৫ শতাংশ থাকলেও, অক্টোবরের মাঝামাঝি তা ৭.৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এই সুদের হার বৃদ্ধিই ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা আরও প্রায় ৮ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে, যা এই ব্যয়বহুল বাজারকে সাধারণের জন্য আরও কঠিন করে তুলেছে।