বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের কম বয়সীদের প্রায় অর্ধেকই থাকছেন বাবা-মায়ের সঙ্গে, বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৬ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি, বাড়িভাড়া ও আবাসন ব্যয়ের চাপের মধ্যে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করছেন ৩০ বছরের কম বয়সী প্রায় অর্ধেক তরুণ-তরুণী। ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ পারিবারিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিবিষয়ক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে এই বয়সী ৪৯ শতাংশ তরুণ-তরুণী বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন। ২০১৯ সালে করোনা মহামারির আগে এ হার ছিল ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ ছয় বছরে হার বেড়েছে ১২ শতাংশ পয়েন্ট।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ১১অ্যালাইভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা তরুণদের স্বাধীনভাবে বসবাসের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বাড়িভাড়া, বাড়ি কেনার উচ্চ সুদের হার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং জ্বালানির ব্যয় সামলাতে গিয়ে অনেক তরুণ পরিবার ছেড়ে আলাদা বাসায় উঠতে পারছেন না।
ফেডারেল রিজার্ভের জরিপ অনুযায়ী, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাসকারী ৩০ বছরের কম বয়সীদের হার বেড়েছে ৬ শতাংশ পয়েন্ট। এর অর্থ, মহামারির পরও তরুণদের আবাসনসংকট পুরোপুরি কাটেনি। বরং বাড়তি ব্যয় ও আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে পরিবারের সঙ্গে থাকার প্রবণতা আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনভাবে বসবাস শুরু করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি আবাসন ব্যয়। অনেক শহরে বাসাভাড়া ও বাড়ি কেনার খরচ তরুণদের আয়ের তুলনায় বেশি। এর সঙ্গে মর্টগেজের উচ্চ সুদের হার যুক্ত হওয়ায় প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে চাকরি বা পড়াশোনা শেষ করার পরও অনেককে বাবা-মায়ের বাসায় থাকতে হচ্ছে।
শুধু আবাসন নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও তরুণদের বাজেটে চাপ তৈরি করছে। বাজারসদাই, গ্যাস ও অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আলাদা বাসায় থাকা, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ এবং সঞ্চয় গড়ে তোলা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে চাকরি পাওয়া ও ধরে রাখার অনিশ্চয়তা তরুণদের আর্থিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।
ফেডারেল রিজার্ভের ২০২৫ সালের জরিপে তরুণদের আর্থিক অবস্থার অবনতির বিষয়টিও উঠে এসেছে। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ জানিয়েছেন, গত ১২ মাসে পরিবারের বাইরের কারও কাছ থেকে কোনো না কোনো খরচ মেটাতে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। এই সহায়তা দৈনন্দিন বিল, ফোনের খরচ কিংবা অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে কাজে লেগেছে।
তবে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাসের অর্থ এই নয় যে সব তরুণই আর্থিকভাবে অসচ্ছল। কেউ কেউ পড়াশোনা শেষ করা, ঋণ পরিশোধ কিংবা ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে পরিবারের সঙ্গে থাকছেন। কিন্তু বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় ও চাকরির বাজারের চাপ অনেকের জন্য এই ব্যবস্থাকে পছন্দের বদলে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তে পরিণত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ব্যয় ও তরুণদের আর্থিক স্বাধীনতার বিষয়টি ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে নিজের বাসায় থাকা একসময় প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের স্বাভাবিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য অর্জনে অনেক বেশি সময় লাগছে।
ফেডারেল রিজার্ভের জরিপের এই পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও প্রাসঙ্গিক। উচ্চশিক্ষা, চাকরি ও স্বাধীনভাবে বসবাস শুরু করার পরিকল্পনা করা তরুণদের অনেকেই আবাসন ও দৈনন্দিন ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকা এখন শুধু পারিবারিক পছন্দের বিষয় নয়, বরং অর্থনৈতিক বাস্তবতারও প্রতিফলন।