Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

‘অর্ণব’ পরবর্তী ১০ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের তথ্য প্রকাশ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

‘অর্ণব’ পরবর্তী ১০ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের তথ্য প্রকাশ

বিজ্ঞাপন

প্রকৃতির এক ভয়ংকর রূপ হলো ট্রপিক্যাল সাইক্লোন, যা সমুদ্রের বুকে জন্ম নিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এই ধরনের শক্তিশালী ঝড়গুলোর নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বা কোড নম্বর দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো বা গণমাধ্যমে প্রচার করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়া, উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা এবং সাধারণ মানুষকে দ্রুত সচেতন করতে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতিটি ঝড়ের একটি সুনির্দিষ্ট নাম দেওয়া হয়। উত্তর ভারত মহাসাগর অঞ্চলের ক্ষেত্রে এই নামকরণের মূল দায়িত্ব পালন করে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি), যা এই অঞ্চলের একটি বিশেষ আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।

এই নামকরণের প্রক্রিয়াটি বেশ সুশৃঙ্খল। উত্তর ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের জন্য ২০০৪ সাল থেকে এই নামকরণ প্রথা শুরু হয় এবং ২০২০ সালে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ও এসকাপের সদস্য ১৩টি দেশের (বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন) প্রস্তাবনায় মোট ১৬৯টি নামের একটি নতুন ও দীর্ঘ তালিকা প্রস্তুত করা হয়। 

প্রতিটি দেশ থেকে ১৩টি করে নাম জমা দিয়ে এই বর্ণানুক্রমিক মাস্টার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। যখন সাগরে সৃষ্ট কোনো নিম্নচাপ বা লঘুচাপ ক্রমান্বয়ে শক্তি সঞ্চয় করে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় অন্তত ৬২ কিলোমিটার বা ৩৪ নটস বা তার বেশি স্পর্শ করে, কেবল তখনই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং পূর্বনির্ধারিত তালিকা থেকে সিরিয়াল অনুযায়ী পরবর্তী নামটি সেই ঝড়ের জন্য বরাদ্দ করা হয়। 

আরও পড়ুন
ঝড়ের নামকরণের ক্ষেত্রে ঝড়ের তীব্রতা, দিক বা আঘাত হানার দেশের কোনো ভূমিকা থাকে না, এটি কেবল তালিকার ধারাবাহিকতা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। আটলান্টিক মহাসাগরের নিয়মের বিপরীতে উত্তর ভারত মহাসাগরে একবার ব্যবহৃত নাম ভবিষ্যতে আর ককখনো পুনর্ব্যবহার করা হয় না; বরং চিরতরে তা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর পর উত্তর ভারত মহাসাগরের এই পূর্বনির্ধারিত মাস্টার তালিকা অনুযায়ী পরবর্তীতে আসার অপেক্ষায় থাকা পরবর্তী ১০টি সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের নাম ও সেগুলোর নেপথ্য দেশের পরিচিতি ক্রমানুসারে নিচে তুলে ধরা হলো:

তালিকায় ‘অর্ণব’ ঝড়ের ঠিক পরেই পরবর্তী ঝড়ের নাম হলো ‘মুরাসু’, যেটি ভারতের প্রস্তাব করা একটি নাম। এর পরপরই তালিকায় রয়েছে ইরানের প্রস্তাবিত নাম ‘আকভান’, যা পারস্য সংস্কৃতির এক পরিচিত পৌরাণিক চরিত্র বা পদের দ্যোতক। এরপর ক্রমানুসারে আসবে মালদ্বীপের প্রস্তাবিত আকর্ষণীয় নাম ‘কানি’, যার অর্থ সামুদ্রিক পরিবেশের সাথে জড়িত। এই ঝড়ের পর চতুর্থ নাম হিসেবে রয়েছে মিয়ানমারের প্রস্তাবিত ‘ঙ্গামান’।

তালিকার ধারা বজায় রেখে এরপর আসবে ওমানের প্রস্তাবিত চমৎকার নাম ‘সাইল’। ওমানের এই নামের পরপরই রয়েছে পাকিস্তানের প্রস্তাবিত নাম ‘সাহাব’। এরপর কাতার কর্তৃক প্রদত্ত সুনির্দিষ্ট তালিকার অন্তর্ভুক্ত নাম হলো ‘লুলু’, যার অর্থ মুক্তা। কাতারের পর ক্রমানুসারে সৌদি আরবের প্রস্তাবিত নাম হিসেবে তালিকায় রয়েছে ‘গাজীর’। এরপর দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার প্রস্তাবিত আকর্ষণীয় নাম হিসেবে তালিকায় রয়েছে ‘গিঘুম’। আর এই ধারায় ক্রমানুসারে দশম বা পরবর্তী দশটি ঝড়ের চক্রে এর পরেই রয়েছে থাইল্যান্ডের প্রস্তাবিত মিষ্টি ও অর্থবহ নাম ‘থিয়ানিয়ত’।

এভাবে প্রতিটি দেশ থেকে পর্যায়ক্রমে একেকটি নাম নির্ধারিত হয়ে সুশৃঙ্খলভাবে উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রলয়ংকরী সাইক্লোনগুলোর নামকরণ সম্পন্ন করা হয়, যা কেবল প্রশাসনিক ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের কাজের সুবিধাই দেয় না, বরং সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় আগাম প্রস্তুতির বার্তা পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা রাখে।

সূত্র: লাইভমিন্ট

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার