Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের ভয়াবহ সং ঘ র্ষ, প্রাণ হা নি বেড়ে অন্তত ৩৯ জনে, বাড়ছে উদ্বেগ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের ভয়াবহ সং ঘ র্ষ, প্রাণ হা নি বেড়ে অন্তত ৩৯ জনে, বাড়ছে উদ্বেগ

বিজ্ঞাপন

স্পেনের মধ্যাঞ্চলীয় তোলেদো প্রদেশে দুটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী ট্রেনের সং ঘ র্ষে অন্তত ৩৯ জনের প্রাণ হা নির খবর পাওয়া গেছে। বুধবার সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয়। কয়েকটি প্রতিবেদনে প্রাণ হা নির সংখ্যা ৪৬ বলা হলেও এ বিষয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে আঞ্চলিক সরকার অন্তত ১০ জনের প্রাণ হা নির তথ্য নিশ্চিত করেছিল। পরে জরুরি সেবার সূত্রের বরাতে প্রাণ হা নির সংখ্যা বাড়ার খবর আসে। উদ্ধারকাজ চলতে থাকায় হ তা হ তের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

স্পেনের রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফ জানিয়েছে, বুধবার সকালে তোলেদো প্রদেশে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি দ্রুতগতির ট্রেন থেমে থাকা আরেকটি ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। তবে ঠিক কী কারণে সং ঘ র্ষ ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া পর্যন্ত দ্রুতগতির রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। মাদ্রিদ, সিউদাদ রিয়াল ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে ট্রেন চলাচল স্থগিত থাকায় যাত্রীদের যাত্রা ব্যাহত হয়েছে। কখন আবার রেল চলাচল স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলোতে নিশ্চিত কোনো সময় জানানো হয়নি।

কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের সরকারের মুখপাত্র এস্থার পাদিয়া জানান, প্রথম দফায় অন্তত ১০ জনের প্রাণ হা নির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে উদ্ধারকাজ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। দুর্ঘটনায় আ হ তের সঠিক সংখ্যা এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ তথ্যও প্রাথমিক পর্যায়ে পাওয়া যায়নি।

স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভিইকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুটি ট্রেনেই কয়েক শ যাত্রী ছিলেন। একটি ট্রেন অন্যটির পেছনে ধাক্কা দেওয়ার পর দুটি বগি রেললাইন থেকে ছিটকে যায়। দুর্ঘটনাস্থলটি উর্দা ও লস ইয়েবেনেস শহরের মধ্যবর্তী কৃষিজমি ঘেরা সমতল এলাকায়। সং ঘ র্ষের তীব্রতায় একটি বগির বড় অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ধাতব টুকরাসহ বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ পাশের ঢালু জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।

স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোনিকা গার্সিয়া জানান, উদ্ধারকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বগি থেকে জীবিত যাত্রীদের উদ্ধার এবং প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের ম র দে হ উদ্ধারে মনোযোগ দিচ্ছেন। আ হ তদের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। দুর্ঘটনার তীব্রতা বিবেচনায় পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দুর্ঘটনায় স্পেনের রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফে এবং বেসরকারি রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইরিওর ট্রেন জড়িত ছিল। প্রাথমিক সংবাদে বলা হয়েছে, রেনফের ট্রেনটি ইরিওর ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দেয়। তবে সং ঘ র্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত প্রয়োজন।

আঞ্চলিক সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রেনফের ট্রেনে ৩৯৭ জন যাত্রী ছিলেন। ইরিওর ট্রেনে ছিলেন ১৪৭ জন যাত্রী। অর্থাৎ দুটি ট্রেনে মোট পাঁচ শতাধিক মানুষ ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কতজন আ হ ত হয়েছেন, তা নিয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলোতে একক কোনো নিশ্চিত হিসাব পাওয়া যায়নি।

ইরিও কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত জরুরি ব্যবস্থা চালু করেছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য সামরিক জরুরি সেবা ইউনিট, দমকলকর্মী, পুলিশ ও অন্যান্য জরুরি সেবার কর্মীদের মোতায়েন করা হয়। কাছের উর্দা শহরের মেয়র ম্যানুয়েল গালান জানান, আ হ ত যাত্রীদের প্রয়োজনে আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়ার জন্য স্থানীয় একটি ক্রীড়া ভবন প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর তাঁর নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি ঘটনাটিকে গুরুতর রেল দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রী ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বয় করছে বলেও জানান তিনি।

কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পাখে দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা জানান। স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবার কর্মীরা উদ্ধার এবং আ হ তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন।

চলতি বছর স্পেনে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের রেল দুর্ঘটনা। এর আগে জানুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় আদামুজ এলাকায় একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সং ঘ র্ষে জড়ায়। ওই দুর্ঘটনায় ৪৫ জনের প্রাণ হা নির খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ঘটনা স্পেনের বিস্তৃত দ্রুতগতির রেলব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছিল।

তোলেদোর নতুন দুর্ঘটনাও দেশটির রেল যোগাযোগের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে বর্তমান দুর্ঘটনার কারণ, দায়ী কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল কি না এবং রেল পরিচালনায় কোনো ভুল ঘটেছিল কি না—এসব বিষয়ে তদন্তের ফল না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার