Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের আরব দলগুলো কারা, কেনই বা তারা গুরুত্বপূর্ণ?

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম

ইসরায়েলের আরব দলগুলো কারা, কেনই বা তারা গুরুত্বপূর্ণ?

বিজ্ঞাপন

ইসরায়েলের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে দেশটির আরব রাজনৈতিক দলগুলো। বড় দলগুলো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে এ দলগুলোর ওপরই নির্ভর করতে পারে সরকার গঠন।

দ্য প্রিন্টের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েলের চলমান নির্বাচনে ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে ফিলিস্তিনপন্থী দলগুলো সর্বোচ্চ ১৯টি আসন পেতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। সরকার গঠনে প্রয়োজন ৬১টি আসন। তবে, চূড়ান্ত ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।

ইসরায়েলের আরব দলগুলো কারা?

ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আরব। তারা জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে এবং নেসেটে প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন। তবে আবাসন, সরকারি পরিষেবা ও পৌরসভাগুলোর অর্থায়নের মতো ক্ষেত্রে তারা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছেন।

২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রধান আরব রাজনৈতিক শক্তি দুটি হলো মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম এবং জয়েন্ট লিস্ট। জয়েন্ট লিস্ট গঠিত হয়েছে হাদাশ, তা’আল ও বালাদ- এই তিন দলের সমন্বয়ে। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে দল দুটির কৌশল আলাদা।

রা’আম

রা’আম বা ইউনাইটেড আরব লিস্ট একটি ইসলামপন্থী-রক্ষণশীল দল। এর নেতৃত্বে রয়েছেন মানসুর আব্বাস। দলটি আরব জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নত সরকারি পরিষেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি আরব নাগরিকদের সামষ্টিক অধিকার স্বীকৃতির পক্ষে।

অপরাধ দমন, আবাসন ও অবকাঠামোর উন্নয়ন, শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য কমানো এবং আরব পৌরসভাগুলোর জন্য বাড়তি বরাদ্দ নিশ্চিত করা দলটির অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে দলটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, দখলদারত্বের অবসান এবং ইসরায়েলি বসতি উচ্ছেদের পক্ষে।

সরকার গঠনের প্রশ্নে আব্বাস বাস্তববাদী কৌশল অনুসরণ করেন। তাঁর যুক্তি, স্থায়ীভাবে সরকারের বাইরে থাকার পরিবর্তে ইসরায়েলি সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আরব আইনপ্রণেতারা বাস্তব সুবিধা আদায় করতে পারেন।

২০২১ সালে রা’আম প্রথম স্বতন্ত্র আরব দল হিসেবে ইসরায়েলের সরকার গঠনকারী জোটে যোগ দেয়। দলটি নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন করেছিল।

এবারের নির্বাচনে রা’আম নিজেকে সম্ভাব্য আলোচনাসঙ্গী হিসেবে তুলে ধরেছে। দলটির প্রার্থী তালিকায় ইসরায়েলের সাবেক উপজননিরাপত্তামন্ত্রী ইয়োভ সেগালোভিৎসও রয়েছেন। তিনি একজন ইহুদি রাজনীতিক, যিনি আগে মধ্যপন্থী ইয়েশ আতিদ দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

জয়েন্ট লিস্ট

জয়েন্ট লিস্টে ভিন্ন রাজনৈতিক ঐতিহ্যের তিনটি দল রয়েছে।

হাদাশ: ইহুদি-আরব বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত দলটি সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, শ্রমিক অধিকার এবং ইহুদি ও আরব নাগরিকদের মধ্যে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেয়। ওফের কাসিফ দলটির পরিচিত নেতাদের একজন।

তা’আল: আহমাদ তিবির প্রতিষ্ঠিত দলটি ফিলিস্তিনিদের জাতীয় অধিকার আদায়ের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের সংসদীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে। আহমাদ তিবি ইসরায়েলের পরিচিত আরব আইনপ্রণেতাদের একজন।

বালাদ: সামি আবু শাহাদেহর নেতৃত্বাধীন দলটি আরব জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী। দলটি এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে, যেখানে শুধু ইহুদি জাতীয় পরিচয়কে প্রাধান্য না দিয়ে সব নাগরিককে সমান মর্যাদা দেওয়া হবে। অক্টোবরে আবু শাহাদেহ জয়েন্ট লিস্টের প্রার্থী তালিকা থেকে সরে দাঁড়ালেও বালাদের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন।

জয়েন্ট লিস্টের জমা দেওয়া নির্বাচনী প্রার্থী তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ইউসেফ জাবারিন ও আহমাদ তিবি। জোটটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, দখলদারত্বের বিরোধিতা, নাগরিক সমতা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকারের সুরক্ষার পক্ষে।

নির্বাচনে কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছে দলগুলো?

মতপার্থক্য থাকলেও অভ্যন্তরীণ কয়েকটি বিষয়ে দল দুটির অবস্থানের মিল রয়েছে।

অপরাধ ও বৈষম্য: আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সহিংস অপরাধ ও সংঘবদ্ধ অপরাধী কর্মকাণ্ডের উচ্চ হার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট- দুটিই আইন প্রয়োগ জোরদার করা, সরকারি পরিষেবার উন্নয়ন এবং আরব স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য বেশি সম্পদ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে। আবাসন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব: জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরব নাগরিকদের প্রভাব বাড়ানো এবং বৈষম্যমূলক বলে বিবেচিত নীতির বিরোধিতা দল দুটির লক্ষ্য। তবে কৌশলে পার্থক্য রয়েছে। আব্বাস বরাদ্দ ও নীতিগত ছাড় আদায়ে আলোচনাকে অগ্রাধিকার দেন। অন্যদিকে, জয়েন্ট লিস্ট নাগরিক সমতা ও ফিলিস্তিনিদের জাতীয় অধিকারের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়।

ফিলিস্তিন প্রশ্ন: দল দুটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে এবং দখলদারত্বের বিরোধী। তবে আদর্শগত অবস্থান ও ইসরায়েলের সরকার গঠনে অংশগ্রহণের কৌশল নিয়ে তাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। গাজায় যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আচরণের বিষয়টিও আরব ভোটারদের সঙ্গে ইসরায়েলের মূলধারার রাজনৈতিক নেতৃত্বের উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

ইসরায়েলে সরকার গঠন করবে কি ঠিক করে দিতে পারে আরব দলগুলো?

নির্বাচনের আসনবিন্যাসে আরব দলগুলোর আসন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটের কেউই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। ফলে বিরোধী জোট সরকার গঠন করতে চাইলে আরব আইনপ্রণেতাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।

তবে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণের মতো অবস্থানে থাকা আর সরকারে যোগ দেওয়া এক বিষয় নয়। নেতানিয়াহু আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। বিরোধী শিবিরের কয়েকজন নেতাও আরব দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট গঠনে আপত্তি জানিয়েছেন।

তাই আইনকটের সরকার গঠনের প্রচেষ্টা নির্ভর করতে পারে তিনি আরব প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করতে রাজি কি না, কিংবা মন্ত্রিসভায় পদ না দিয়েও তাঁদের সমর্থন আদায় করতে পারেন কি না, তার ওপর।

অতীতে রা’আমের সরকারে অংশগ্রহণ একটি সম্ভাব্য মডেল সামনে এনেছে। এ ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দ ও সরকারি পরিষেবার বিষয়ে প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে একটি জোটকে সমর্থন দেওয়া হয়। অন্যদিকে, জয়েন্ট লিস্টের অন্তর্ভুক্ত দলগুলো ঐতিহাসিকভাবে সরকার গঠনকারী জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বেশি অনাগ্রহী। বিশেষ করে এতে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও দখলদারত্ব নিয়ে তাদের অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তারা সতর্ক থাকে।

এখন পর্যন্ত বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাস আরব প্রতিনিধিত্ব বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তবে সরকার গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের নয়। শেষ পর্যন্ত আসনসংখ্যা, ছোট দলগুলোর অবস্থান এবং আরব আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর আগ্রহ- এসবের ওপর নির্ভর করবে আরব দলগুলো কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।

মূল প্রশ্ন হলো, সংসদে আরব প্রতিনিধিত্ব বাড়লে তা আরব নাগরিকদের জন্য বাস্তব নীতিগত পরিবর্তন আনতে পারবে কি না এবং ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে।

সূত্র: দ্য প্রিন্ট

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার