বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের আনতে চান? জানুন পিটিশন, যোগ্যতা ও আবেদনের ধাপ
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১২ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মার্কিন নাগরিক ও গ্রিন কার্ডধারীরা নির্দিষ্ট শর্তে পরিবারের সদস্যদের স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য স্পনসর করতে পারেন। এ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হলো আই-১৩০ পিটিশন জমা দেওয়া। তবে কার জন্য আবেদন করা যাবে, কত দিন অপেক্ষা করতে হবে এবং কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তা নির্ভর করে স্পনসরের অভিবাসন-অবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক ও সংশ্লিষ্ট ভিসা শ্রেণির ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকেরা তাঁদের স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা এবং নির্দিষ্ট শর্তে ভাই-বোনের জন্য আই-১৩০ পিটিশন করতে পারেন। বাবা-মা ও ভাই-বোনের জন্য আবেদন করতে হলে স্পনসরের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে।
অন্যদিকে, গ্রিন কার্ডধারীরা তাঁদের স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত ছেলে-মেয়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে গ্রিন কার্ডধারীরা সরাসরি বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা বিবাহিত ছেলে-মেয়ের জন্য এই পিটিশন করতে পারেন না।
আই-১৩০ পিটিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো আবেদনকারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যের মধ্যে আইনসম্মত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা। এ জন্য বিয়ের সনদ, জন্মসনদ, পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণসহ প্রযোজ্য নথিপত্র জমা দিতে হয়। আবেদনকারীকে প্রতিটি যোগ্য আত্মীয়ের জন্য আলাদা পিটিশন করতে হয়। তবে পিটিশন অনুমোদন পাওয়ার অর্থ এই নয় যে পরিবারের সদস্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেয়ে যাবেন।
পরবর্তী ধাপ নির্ভর করে পরিবারের সদস্য কোন ভিসা শ্রেণির আওতায় পড়ছেন তার ওপর। মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী, ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী বাবা-মা ইমিডিয়েট রিলেটিভ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এ শ্রেণিতে বছরে ভিসার সংখ্যাগত সীমা নেই। তবে অন্যান্য পারিবারিক অভিবাসন শ্রেণিতে ভিসার সংখ্যা সীমিত থাকায় আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।
বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে আই-১৩০ অনুমোদনের পর সাধারণত জাতীয় ভিসা কেন্দ্রের মাধ্যমে ভিসার আবেদন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ফি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং অন্যান্য যাচাই সম্পন্ন করে নির্ধারিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে সাক্ষাৎকার দিতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থানরত কিছু আবেদনকারী আইনগত যোগ্যতা পূরণ করলে সেখান থেকেই স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করতে পারেন।
পারিবারিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পনসরকে আই-৮৬৪ ফর্মের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার হলফনামা জমা দিতে হয়। এতে পরিবারের সদস্যের আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হয় এবং আয় ও করসংক্রান্ত নথি দিয়ে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়। স্পনসরের আয় নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করলে উপযুক্ত ক্ষেত্রে যৌথ স্পনসরের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া অভিবাসন ভিসা দেওয়ার সময় আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, আর্থিক সম্পদ, আয়, শিক্ষা ও দক্ষতার মতো বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে। এ ধরনের মূল্যায়নকে পাবলিক চার্জ বলা হয়। ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে পাবলিক চার্জ বন্ড চাওয়ার পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে এ ব্যবস্থা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। যাঁদের ক্ষেত্রে বন্ডের প্রয়োজন হবে, তাঁদের কনস্যুলার কর্মকর্তা এ বিষয়ে জানাবেন।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কিছু অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাই সম্প্রসারণের ঘোষণা দেয়। ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া এ পরিবর্তন নির্দিষ্ট ভিসা শ্রেণির জন্য প্রযোজ্য। এটি পারিবারিক অভিবাসনের আই-১৩০ পিটিশনের জন্য নতুন কোনো সাধারণ শর্ত নয়। তাই বিভিন্ন ভিসা শ্রেণির নিয়ম ও শর্ত আলাদাভাবে বুঝে আবেদন করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের আনার পরিকল্পনা থাকলে আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, আর্থিক শর্ত এবং সম্ভাব্য অপেক্ষার সময় সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত। পিটিশন অনুমোদনের পর ভিসা পাওয়ার সময় নির্ভর করতে পারে ভিসা শ্রেণি, অগ্রাধিকার তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট মাসের ভিসা বুলেটিনের ওপর। অভিবাসন আইন ও নির্দেশনা পরিবর্তিত হতে পারে বলে আবেদনকারীদের সর্বশেষ সরকারি তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।