Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ভোট জালিয়াতির তথ্য দিলেই ১০ লাখ ডলার! মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ঘোষণা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৯ এএম

ভোট জালিয়াতির তথ্য দিলেই ১০ লাখ ডলার! মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ঘোষণা

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোট জালিয়াতির তথ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করাতে সহায়তা করলে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার, ২৬ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুরস্কারটি শুধু আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন নয়, অতীতের নির্বাচনসংক্রান্ত জালিয়াতির তথ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। তবে কীভাবে তথ্য জমা দিতে হবে, কোন সংস্থা তা যাচাই করবে এবং পুরস্কারের অর্থ কোথা থেকে আসবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। রয়টার্স ও এবিসি নিউজের প্রতিবেদনেও পুরস্কারের অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভোটারদের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্বাচনের আগে ভোটার নিবন্ধনের তথ্য সংগ্রহ, ভোটের নিয়ম কঠোর করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ফেডারেল সরকারের ভূমিকা বাড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু নির্বাচনী কর্মকর্তা সম্ভাব্য ফেডারেল হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সমালোচকদের একাংশ এসব পদক্ষেপকে অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচনী কর্তৃত্বের ওপর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

ট্রাম্প অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর তিনি ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করেছিলেন। তবে তাঁর সেই দাবির পক্ষে ব্যাপক জালিয়াতির এমন প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি, যা নির্বাচনের ফল পরিবর্তন করতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে তাঁর অতীতের নির্বাচনী দাবিগুলোকে ভিত্তিহীন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বর্তমান ঘোষণার ক্ষেত্রেও অভিযোগ, তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং আদালতে প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি।

একই দিনে ট্রাম্প ব্রাজিলের সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়েও মন্তব্য করেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা জয়ী হওয়ার পর সোমবার সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনটি তাঁর কাছে কারচুপিপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। তিনি নির্বাচনের ভোট গণনা ও প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

ব্রাজিলের নির্বাচনে পরাজিত ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো ফল মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেননি বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তাঁর বাবা ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। এই রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে ব্রাজিলের নির্বাচনের ফল নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক সম্পর্ক বা কোনো নেতার বক্তব্য নিজে থেকে নির্বাচনে কারচুপির প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন এখন শুধু পুরস্কারের ঘোষণা নয়; বরং অভিযোগ যাচাইয়ের পদ্ধতি কতটা স্বচ্ছ হবে এবং তথ্যদাতাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কীভাবে পরিচালিত হবে। কোনো অভিযোগ উঠলেই সেটিকে প্রমাণিত ভোট জালিয়াতি হিসেবে গণ্য করা যায় না। নির্ভরযোগ্য তদন্ত, প্রাসঙ্গিক নথি এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করতে হয়।

এখন পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ঘোষিত ১০ লাখ ডলারের পুরস্কারের অর্থায়ন, তথ্য জমা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং পুরস্কার বাছাইয়ের দায়িত্বে কোন কর্তৃপক্ষ থাকবে—এসব বিষয়ে স্পষ্টতা নেই। ফলে ঘোষণাটির বাস্তব প্রয়োগ ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও সরকারি তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার