বিজ্ঞাপন
লক্ষণ প্রকাশের আগেই ক্যানসার শনাক্ত করবে এআই
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৩ এএম
বিজ্ঞাপন
চিকিৎসকদের সাধারণ পরীক্ষার অনেক আগেই প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার শনাক্ত করতে সক্ষম একটি শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন গবেষকেরা। ‘রেডমড’ নামের এই এআই মডেলটি রোগ নির্ণয়ের গড়ে ৪৭৫ দিন আগেই ক্যানসারের অদৃশ্য লক্ষণগুলো শনাক্ত করতে পেরেছে।
চিকিৎসাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘গাট’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এই যুগান্তকারী সাফল্যের তথ্য জানানো হয়েছে। এই প্রযুক্তিটি প্রয়োগ করা সম্ভব হলে মারাত্মক এই রোগে রোগীদের অকাল মৃ*ত্যুর ঝুঁকি অনেক কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিক স্তরেই রোগটি ধরা পড়লে সফল চিকিৎসার মাধ্যমে আক্রান্তদের জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।
বিএমজে গ্রুপের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে গবেষণাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
গবেষকরা ‘রেডিওমিক্স-বেসড আর্লি ডিটেকশন মডেল’ বা রেডমড নামের এই বিশেষ এআই তৈরি করেছেন, যা পেটের সিটি স্ক্যান বিশ্লেষণ করে কলার সূক্ষ্ম পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারে। একই সঙ্গে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অগ্ন্যাশয়ের সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করতে পারে, যার ফলে স্ক্যান মূল্যায়নে চিকিৎসকদের ভুল হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে।
গবেষণায় বিভিন্ন হাসপাতালের ২১৯ জন রোগীর পুরোনো সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করা হয়, যাদের পরবর্তীতে প্যানক্রিয়াটিক ডাক্টাল অ্যাডেনোকার্সিনোমা ধরা পড়েছিল।
এতে দেখা যায়, রেডমড ৭৩ শতাংশ ক্ষেত্রে আগাম লক্ষণ শনাক্ত করতে পেরেছে, যেখানে অভিজ্ঞ রেডিওলজিস্টদের শনাক্তের হার ছিল মাত্র ৩৯ শতাংশ। বিশেষ করে রোগ ধরা পড়ার দুই বছর আগের স্ক্যানের ক্ষেত্রে এআইটির সক্ষমতা রেডিওলজিস্টদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, রোগ প্রকাশের এত দীর্ঘ সময় আগে লক্ষণ শনাক্ত করতে পারা চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক বিশাল সুযোগ তৈরি করবে। তারা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা পড়ার হার শতকরা ১০ ভাগ থেকে ৫০ ভাগে উন্নীত করা গেলে রোগীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে। তাদের মতে, সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করতে পারাই রোগীদের সুস্থ করে তোলার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।
তবে সাধারণ চিকিৎসায় এটি পুরোপুরি ব্যবহারের আগে আরও মাঠপর্যায়ের পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা।
বিশেষ করে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের ওপর এবং দ্রুত ওজন কমে যাওয়া বা নতুন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত উচ্চ ঝুঁকির রোগীদের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা যাচাই করতে হবে। এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও গবেষকরা রেডমডকে প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারের মতো কঠিন রোগের চিকিৎসায় একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করছেন।