বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্কে প্রথমবারের আয়োজন ঘিরে উৎসব, নিজেদের শিকড়ের গল্প শোনালেন অভিবাসীরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৬ এএম
বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্কের কুইন্সে অভিবাসী কমিউনিটির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অবদান তুলে ধরতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘লিটল ম্যানিলা’ শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। এতে এক হাজারের বেশি ফিলিপিনো-আমেরিকান, বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন এবং স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়; আয়োজনটির খবর প্রকাশিত হয়েছে ২৬ অক্টোবর।
উডসাইড এলাকার এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিপিনো জনগোষ্ঠীর দীর্ঘ ইতিহাস এবং দেশটির সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবনে তাদের অবদান তুলে ধরা। শোভাযাত্রার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও কমিউনিটির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মান জানানো হয়।
নিউইয়র্ক স্টেটের অ্যাসেম্বলি সদস্য স্টিভেন রাগা এবং কুইন্স বরোর প্রেসিডেন্ট ডোনোভান রিচার্ডসের সহযোগিতায় আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিল্পী, শিক্ষক, উদ্যোক্তা, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক, কমিউনিটি সংগঠক ও বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের অবদান তুলে ধরা হয়। আয়োজকদের মতে, বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষ এবং প্রতিবেশীদের একত্র করার মধ্য দিয়ে নিজেদের ইতিহাস ও পরিচয় উদ্যাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী কমিউনিটির জন্য এ ধরনের আয়োজন শুধু উৎসব নয়; নতুন প্রজন্মের কাছে পারিবারিক ইতিহাস, ভাষা, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরারও একটি মাধ্যম। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি, সহযোগিতা ও সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটিরও রয়েছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাংলা ভাষার আয়োজন, ধর্মীয় উৎসব এবং সামাজিক সংগঠনভিত্তিক কার্যক্রম। ফিলিপিনো-আমেরিকানদের এই উদ্যোগ থেকে অন্যান্য অভিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়—নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা জরুরি।
তবে এই আয়োজন বাংলাদেশি কমিউনিটির কোনো অনুষ্ঠান নয়; এটি ফিলিপিনো-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক উদ্যোগ। বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য এর গুরুত্ব হলো, যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন অভিবাসী জনগোষ্ঠী কীভাবে নিজেদের ইতিহাস, পরিচয় ও সামাজিক অবদান তুলে ধরছে, তা জানা এবং নিজ নিজ কমিউনিটির ইতিবাচক উদ্যোগ সম্পর্কে ভাবার সুযোগ তৈরি হওয়া।