Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ভিসার অপেক্ষায় ভাঙছে পরিবারের স্বপ্ন, সন্তানদের থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে মা-বাবাকে

Icon

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৫ এএম

ভিসার অপেক্ষায় ভাঙছে পরিবারের স্বপ্ন, সন্তানদের থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে মা-বাবাকে

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে ভিসার আবেদন করেছিলেন বহু অভিবাসী। কিন্তু আবেদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও অতিরিক্ত যাচাইয়ের কারণে কিছু পরিবারকে মাসের পর মাস, এমনকি তারও বেশি সময় আলাদা থাকতে হচ্ছে। প্রিয়জনদের সঙ্গে এক ছাদের নিচে বসবাসের অপেক্ষা এখন অনেকের জন্য আর্থিক চাপ ও মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে উঠেছে।

২৬ অক্টোবর প্রকাশিত ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওর এক প্রতিবেদনে এমন কয়েকটি পরিবারের দুর্ভোগ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে কাজ করা সাবেক সেনাসদস্য ডাস্টিন হফম্যান তাঁর স্ত্রী গ্লোরিয়া ও সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পরও পরিবারের সদস্যদের ভিসা প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে এবং ১২ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে পরিবারটি আর্জেন্টিনায় অবস্থান করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আদালত অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণে আরোপিত একটি নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরও কিছু আবেদনকারী ভিসা হাতে পাননি। আবেদনকারীদের অতিরিক্ত নথিপত্র দিতে বলা হচ্ছে এবং আর্থিকভাবে স্বনির্ভর থাকার সক্ষমতা যাচাইয়ের মতো বিষয়ও প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো শুধু ভিসার জন্য অপেক্ষা করছে না; তাদের দৈনন্দিন জীবনও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির ঋণ বা অন্যান্য খরচ, অন্যদিকে বিদেশে থাকা পরিবারের বাসাভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হচ্ছে কিছু আবেদনকারীকে। সন্তানদের বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা এবং পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিক জীবন কাটানোর সুযোগ নিয়েও তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে অভিবাসন আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ভিসা সাক্ষাৎকার ও চূড়ান্ত প্রক্রিয়াকরণে বিলম্বের অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রতিটি আবেদন একই অবস্থায় নেই। কারও আবেদন অতিরিক্ত যাচাইয়ের পর্যায়ে থাকতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে আলাদা আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা থাকতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও এ ধরনের খবর গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান কিংবা মা-বাবাকে পারিবারিক অভিবাসন ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আনার অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদের আবেদনসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত যাচাই করা উচিত। তবে প্রতিবেদনে বর্ণিত ঘটনাগুলোকে বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসা স্থগিত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না; কোন দেশের নাগরিক ও কোন ধরনের ভিসা প্রক্রিয়ার আওতায় পড়ছে, তা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।

আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সরকারি নোটিশ ও দূতাবাসের নির্দেশনা অনুসরণ করা, চাওয়া নথিপত্র সময়মতো জমা দেওয়া এবং প্রয়োজনে যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিসা চালু হওয়া বা বন্ধ হওয়ার খবর যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা উচিত নয়।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার