Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

মাইক্রোসফটের ৬০ হাজার কর্মীকে চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব, মিলবে আর্থিক সুবিধা

Icon

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৪ এএম

মাইক্রোসফটের ৬০ হাজার কর্মীকে চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব, মিলবে আর্থিক সুবিধা

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটি ‘ভলান্টারি এক্সিট অফার’ নামে নতুন এই কর্মসূচি চালু করে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ভারতে কর্মরত নির্দিষ্ট বিভাগের কর্মীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মীসংখ্যা পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ৬০ হাজার কর্মীকে সরাসরি ছাঁটাই করা হচ্ছে না। তাঁদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন কর্মসূচির আওতায় মাইক্রোসফটের মোট কর্মীর প্রায় ২৭ শতাংশ চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব পাওয়ার যোগ্য হবেন। গত জুনের শেষ নাগাদ প্রতিষ্ঠানটিতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার পূর্ণকালীন কর্মী ছিলেন। সেই হিসাবে প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের বেশি কর্মী নতুন কর্মসূচির আওতায় আসতে পারেন। তবে কতজন শেষ পর্যন্ত প্রস্তাব গ্রহণ করবেন, সে বিষয়ে মাইক্রোসফট এখনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

মাইক্রোসফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান সোমবার কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের বাইরে নতুন পেশাগত সুযোগ খুঁজতে আগ্রহী কর্মীদের আর্থিক সহায়তা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনার সুবিধা দিয়ে বিদায়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগের পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী কর্মীসংখ্যা সমন্বয়ের সুযোগ পাবে প্রতিষ্ঠানটি। যোগ্য কর্মীদের ইমেইলের মাধ্যমে প্রস্তাবের বিস্তারিত জানানো হবে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মাইক্রোসফটের এআই এক্সপেরিয়েন্সেস, কোপাইলট, ফিন্যান্স, হিউম্যান রিসোর্সেস, এক্সবক্স এবং উইন্ডোজ অ্যান্ড ডিভাইসেস বিভাগের নির্দিষ্ট কর্মীরা এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন। তবে সব বিভাগের কর্মীরা সমানভাবে যোগ্য নন। মার্কেটিং, কমার্শিয়াল বিজনেস ও সিকিউরিটিসহ কয়েকটি বিভাগ এই প্রস্তাবের বাইরে রয়েছে। ডেটা সেন্টার ও বিক্রয় বিভাগের কিছু কর্মীও সুবিধাটি পাবেন না বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাইক্রোসফটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী বিভাগের লেভেল ৭০ এবং তার নিচের কর্মীরা এই কর্মসূচির জন্য যোগ্য হতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ভারতে এই ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট পদে কর্মরত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধা পাওয়া যাবে না। কর্মীর বিভাগ, দায়িত্ব এবং প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী যোগ্যতা নির্ধারিত হবে। এটি সীমিত সময়ের জন্য চালু করা স্বেচ্ছামূলক কর্মসূচি।

চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব গ্রহণকারী কর্মীরা সেভারেন্স প্যাকেজের মতো আর্থিক সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে চাকরি ছাড়লে কর্মীকে কিছু অর্থ ও ক্যারিয়ার পরিবর্তনে সহায়তা দেওয়া হবে। বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্যাকেজের শর্ত মাইক্রোসফটের প্রচলিত সেভারেন্স ব্যবস্থার কাছাকাছি হবে। তবে নতুন কর্মসূচিতে প্রত্যেক কর্মী ঠিক কত অর্থ পাবেন, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। চাকরির মেয়াদ, পদ ও সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ম অনুযায়ী সুবিধার পরিমাণ আলাদা হতে পারে।

মাইক্রোসফট এমন এক সময়ে নতুন এই ঘোষণা দিল, যখন প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে এআই ডেটা সেন্টার, উন্নত চিপ, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং কোপাইলটের মতো প্রযুক্তির উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার বছরে মাইক্রোসফটের মূলধনি বিনিয়োগ প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। এই ব্যয়ের বড় অংশ এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮ হাজার ৭৫০ কর্মীকে স্বেচ্ছায় অবসরের প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল মাইক্রোসফট। ওই কর্মসূচির যোগ্য কর্মীদের ৩০ শতাংশের বেশি প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। এরপর জুলাই মাসে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ পদ বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তে এক্সবক্সসহ কয়েকটি বিভাগ প্রভাবিত হয়েছিল। ফলে অক্টোবরের নতুন কর্মসূচি চলতি বছরে মাইক্রোসফটের কর্মীসংখ্যা পুনর্বিন্যাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তবে নতুন কর্মসূচির সঙ্গে আগের ছাঁটাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। জুলাই মাসে নির্দিষ্টসংখ্যক পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে এবার কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। ফলে ৬০ হাজার কর্মী এই প্রস্তাব পাওয়ার যোগ্য হলেও তাঁদের সবাই চাকরি ছাড়বেন, এমন নয়। কতজন প্রস্তাব গ্রহণ করবেন এবং এর ফলে প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীসংখ্যা কতটা কমবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

মাইক্রোসফটের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের কর্মীদের মধ্যেও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তির সম্প্রসারণের সঙ্গে প্রচলিত চাকরির ধরন কীভাবে বদলাচ্ছে, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো একদিকে নতুন এআই বিশেষজ্ঞ নিয়োগ ও অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করছে, অন্যদিকে কিছু বিভাগে ব্যয় কমাতে চাইছে। তবে মাইক্রোসফটের নতুন কর্মসূচির আওতায় থাকা প্রতিটি পদ সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে, এমন প্রমাণ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রে মাইক্রোসফটে কর্মরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসী প্রযুক্তিকর্মীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসা বা অন্য নিয়োগকর্তানির্ভর ওয়ার্ক স্ট্যাটাসে কর্মরত কেউ স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব গ্রহণের আগে অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম বিবেচনা করা প্রয়োজন। চাকরি শেষ হওয়ার পর বৈধ স্ট্যাটাস বজায় রাখা, নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ শুরু করা কিংবা প্রযোজ্য গ্রেস পিরিয়ডের বিষয়গুলো ব্যক্তির ভিসা ও ইমিগ্রেশন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। আর্থিক প্যাকেজ পাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহাল থাকবে, এমন নয়।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তিত ব্যবসায়িক প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতেও কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন দায়িত্বে স্থানান্তরের সুযোগ তৈরিতে কাজ করা হবে। আগামী বুধবার প্রতিষ্ঠানটির ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে। এর আগে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীর জন্য স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব প্রযুক্তি খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই কর্মসূচির প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে কতজন কর্মী প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের কর্মীসংখ্যা ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করে, তার ভিত্তিতে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার