বিজ্ঞাপন
বিশ্ববাজারে ডলারের চাপে তেল-স্বর্ণে অস্থিরতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৫ এএম
বিজ্ঞাপন
বিশ্ববাজারে ডলারের দর কিছুটা দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি কমেছে জ্বালানি তেল ও স্বর্ণের দাম। সপ্তাহজুড়ে বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার কমে আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৫ ডলারে নেমে আসে। গত সপ্তাহে তেলের দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রোববার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে অবস্থান করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া এ উদ্যোগের খবরে তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়।
ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা কৌশল বিভাগের প্রধান রে অ্যাট্রিলের মতে, ডলারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে আপাতত মার্কিন বন্ডবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য প্রধান অর্থনীতির বন্ডের মুনাফার ব্যবধান কমে আসায় ডলারের ওপর চাপও কিছুটা কমেছে।
মুদ্রাবাজারে সোমবার ইউরোর বিপরীতে ডলারের দর ০.১৬ শতাংশ কমে ১ দশমিক ১২২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ব্রিটিশ পাউন্ডের দর ০.১ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩৩৮৫ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ডলার সূচক সামান্য কমে ১০১ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে নেমেছে।
অস্ট্রেলীয় ডলারের দর ০.০৪ শতাংশ কমে ০.৭০৩০ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। নিউজিল্যান্ডের ডলারের দর ০.০৬ শতাংশ বেড়ে ০.৫৭২ ডলারে পৌঁছেছে। জাপানি ইয়েনের দর ছিল প্রতি ডলারে ১৫৬ দশমিক ৯২০ ইয়েন।
চলতি সপ্তাহে পাঁচটি প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ব্যাংক অব জাপান সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ব্যাংক অব কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের রিজার্ভ ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন বিনিয়োগকারীরা।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নয়, ভবিষ্যৎ নীতির বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কী বার্তা দেয়, সেটিও বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য কমেছে। এতে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৮৬ দশমিক ১৬ ডলারে নেমেছে। ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারেও দরপতন হয়েছে। বিটকয়েনের দাম ০.৬ শতাংশ কমে ৭৯ হাজার ৯২৫ দশমিক ৮৪ ডলারে এবং ইথারের দাম ১.১ শতাংশ কমে ২ হাজার ৩১৭ দশমিক ৩৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।