Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যসহায়তা হারাচ্ছেন লাখো মানুষ, অনিশ্চয়তায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যসহায়তা হারাচ্ছেন লাখো মানুষ, অনিশ্চয়তায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে নিম্ন আয়ের মানুষের খাবার কেনার খরচ মেটাতে সহায়তা দেওয়া সরকারি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী কমেছেন প্রায় ৫৫ লাখ, যা মোট অংশগ্রহণকারীর প্রায় ১৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ও নীতিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমে প্রায় ৩ কোটি ৬১ লাখে দাঁড়ায়।

এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক নাম সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম। সাধারণভাবে এটি খাদ্যসহায়তা বা ফুড স্ট্যাম্প কর্মসূচি হিসেবে পরিচিত। এর মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো নির্দিষ্ট নিয়মে খাবার কেনার জন্য অর্থসহায়তা পায়। যেসব পরিবারে আয় কম, চাকরি নেই কিংবা সন্তানদের ভরণপোষণের ব্যয় বেশি, তাদের দৈনন্দিন খাবারের খরচ সামলাতে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সময় প্রণীত নতুন আইন ও কর্মসূচির নিয়ম পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কার্যকর হওয়া আইনটির আওতায় খাদ্যসহায়তার জন্য কিছু প্রাপকের কাজসংক্রান্ত শর্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। আগে নির্দিষ্ট কিছু প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্ত এখন আরও বেশি মানুষের ওপর প্রযোজ্য হতে পারে। নির্দিষ্ট শ্রেণির সন্তাননির্ভরতা নেই এমন কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, অনুমোদিত প্রশিক্ষণ বা স্বীকৃত কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার শর্ত পূরণ করতে হতে পারে। যোগ্যতা, বয়স, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং আইনে নির্ধারিত ব্যতিক্রম অনুযায়ী নিয়মের প্রয়োগ ভিন্ন হতে পারে।

এই পরিবর্তন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের সমর্থকদের বক্তব্য, কাজের শর্ত জোরদার করলে কর্মসংস্থানে উৎসাহ বাড়বে এবং সরকারি সহায়তার অর্থ আরও টেকসইভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, কাজ খুঁজেও যারা পাচ্ছেন না কিংবা নির্ধারিত কাগজপত্র সময়মতো জমা দিতে পারছেন না, তাঁদের একটি অংশ সহায়তা হারাতে পারেন। ফলে সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমলেই যে সবাই চাকরি পেয়েছেন বা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২৮টি অঙ্গরাজ্যে পাওয়া উপাত্তে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে শিশুদের খাদ্যসহায়তা গ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ কমেছে। এসব অঙ্গরাজ্যের তথ্যের ভিত্তিতে সারা দেশে শিশু সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ কমে থাকতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি অনুমান করেছে। তবে এটি সব অঙ্গরাজ্যের সম্পূর্ণ হিসাব নয়; তাই জাতীয় পর্যায়ের শিশুসংখ্যাটি অনুমান হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

অঙ্গরাজ্যভেদে পরিস্থিতিরও বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির উপাত্তে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত অ্যারিজোনায় খাদ্যসহায়তা গ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৫১ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে টেক্সাসে অংশগ্রহণকারী কমেছেন প্রায় ৭ লাখ ৯ হাজার, আর ফ্লোরিডায় কমেছেন প্রায় ৬ লাখ ৬৬ হাজার। এসব সংখ্যা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পরিবর্তন বোঝায়; প্রত্যেক ব্যক্তি কেন সহায়তা হারিয়েছেন, তা শুধু এই পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় না।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার