বিজ্ঞাপন
ফ্লোরিডায় ক্যানসারের চিকিৎসার মধ্যেও স্কুলছাত্রীর জন্য বেঞ্চ বানালেন দম্পতি, ভিডিও ভাইরাল
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৩ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্কুলবাসের অপেক্ষায় থাকা এক শিক্ষার্থীর জন্য বেঞ্চ তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা পাচ্ছেন এক শিক্ষক দম্পতি। তাঁদের ছোট্ট উদ্যোগ শুধু এক কিশোরীর সকালকে স্বস্তিদায়ক করেনি, বরং আশপাশের অন্য শিশুদের জন্যও তৈরি করেছে বই পড়া ও ভাগাভাগি করার সুযোগ।
মারেন ডগলাস ও তাঁর স্বামী দুজনই শিক্ষক। স্বামীর ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে থাকার সময় বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় তাঁদের চোখে পড়ে, এক স্কুলপড়ুয়া কিশোরী প্রতিদিন সকালে তাঁদের বাড়ির সামনের ড্রাইভওয়ের পাশে বসে স্কুলবাসের জন্য অপেক্ষা করছে। মেয়েটির বাসস্টপ নির্ধারিত ছিল কাছের রাস্তায়। সেখানে গাড়ি দ্রুত চলাচল করায় তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁরা।
১ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনা দেখার পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে দম্পতি একটি বেঞ্চ কেনেন এবং নিজেরাই সেটি তৈরি করে বসিয়ে দেন। পরের সোমবার বেঞ্চটি দেখে কিশোরীর আনন্দ তাঁদের মুগ্ধ করে। পরে মেয়েটি হাতে লেখা একটি চিরকুটে ধন্যবাদ জানায়। সে জানায়, বেঞ্চ থাকায় এখন আর মাটি ও পোকামাকড় নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।
এরপর দম্পতি লক্ষ্য করেন, বাসের অপেক্ষায় থাকা মেয়েটি প্রায়ই বই পড়ে। তাই মারেন একটি ছোট বইয়ের বাক্স তৈরি করে বেঞ্চের পাশে বসান। অল্প সময়ের মধ্যে এলাকার অন্য শিশুরাও সেখান থেকে বই নিতে ও পড়া শেষে ফেরত দিতে শুরু করে। বৃষ্টির দিনগুলোর কথা ভেবে তাঁরা একটি ছাতার ব্যবস্থাও করেন এবং মেয়েটির জন্য কিছু নাশতা রেখে দেন। কৃতজ্ঞতা জানাতে মেয়েটিও তাঁদের ঘরে তৈরি দুটি কুকি উপহার দেয়।
মারেনের এই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে তৈরি টিকটক ভিডিওটি ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি বার দেখা হয়েছে এবং তাতে ৩০ হাজারের বেশি মন্তব্য এসেছে বলে পিপল ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এই গল্পের আরেকটি আবেগঘন দিক হলো, অন্যের পাশে দাঁড়ানোর সময় দম্পতিটি নিজেরাও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। স্বামীর ক্যানসারের চিকিৎসা চললেও মারেন তাঁর শিক্ষার্থীদের সময় দেওয়া এবং পরিবারের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি ছোট ছোট ভালো কাজের মধ্যে মানসিক শক্তি খুঁজে পান।
একটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক জায়গা তৈরি করতে খুব বেশি কিছু লাগে না। তাঁদের এই উদ্যোগ দেখিয়েছে, প্রতিবেশীর প্রতি সামান্য মনোযোগও একটি শিশুর প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা বদলে দিতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি এখন অপরিচিত মানুষের প্রতিও সহমর্মিতা দেখানোর অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।