Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

পাঁচ বছরে আয় ৮ গুণের বেশি, তবু অ্যামাজনের চাকরি ছেড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করলেন নাবিল খান

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২১ এএম

পাঁচ বছরে আয় ৮ গুণের বেশি, তবু অ্যামাজনের চাকরি ছেড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করলেন নাবিল খান

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখা তরুণদের জন্য নাবিল খানের গল্পটি ব্যতিক্রমী। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে অ্যামাজনের একটি গুদামে ব্যবস্থাপনার চাকরি দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল। পাঁচ বছরের মধ্যে সেই কর্মজীবন তাঁকে প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট পণ্য ব্যবস্থাপনার জ্যেষ্ঠ পর্যায়ে নিয়ে যায়।

২০২৫ সালে প্রকাশিত সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৭ বছর বয়সী নাবিলের বার্ষিক মোট পারিশ্রমিক বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৪ লাখ ৩২ হাজার ডলারে। এরপর নিজের ব্যবসা গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি অ্যামাজনের চাকরি ছেড়ে দেন। তাঁর যাত্রার উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিনি শুধু বেশি আয়ের দিকে মনোযোগ দেননি; বরং ভবিষ্যতে নিজের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও আর্থিক প্রস্তুতিও তৈরি করেছেন।

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেন নাবিল। এরপর অ্যামাজনের একটি গুদামে অপারেশনস ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন। শুরুতে তাঁর বার্ষিক পারিশ্রমিক ছিল ৫০ হাজার ডলার। তবে তিনি নিজের প্রথম চাকরিকে চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে দেখেননি। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কীভাবে আরও দায়িত্বশীল পদে যাওয়া যায় এবং প্রযুক্তি খাতে দক্ষতা বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা করতে শুরু করেন।

নাবিলের কর্মজীবনের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে নতুন দক্ষতা অর্জন। তিনি অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরামর্শ নেন, সম্ভাব্য পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা চিহ্নিত করেন এবং কাজের বাইরেও শেখার জন্য সময় ব্যয় করেন। প্রোগ্রামিং শেখার প্রশিক্ষণ নেন এবং ক্লাউড কম্পিউটিং বিষয়ে সার্টিফিকেশন অর্জন করেন। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে নিজের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও বিভিন্ন প্রকল্পে অবদান রাখার চেষ্টা করেন। গুদামের নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়নসহ বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা তাঁকে প্রকল্প পরিচালনার দক্ষতা দেখানোর সুযোগ দেয়।

২০২১ সালে তিনি প্রকল্প ব্যবস্থাপক পদে উন্নীত হন। তখন তাঁর বার্ষিক পারিশ্রমিক বেড়ে হয় প্রায় ৬৬ হাজার ডলার। ২০২৩ সালে পণ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে যাওয়ার পর তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ডলারে। এরপর ২০২৫ সালে তিনি অ্যামাজনের জ্যেষ্ঠ এআই পণ্য ব্যবস্থাপক পর্যায়ে পৌঁছান। ওই সময় তাঁর বার্ষিক মোট পারিশ্রমিক ছিল প্রায় ৪ লাখ ৩২ হাজার ডলার। এই অঙ্কের মধ্যে মূল বেতনের পাশাপাশি কোম্পানির শেয়ারভিত্তিক পারিশ্রমিকও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাই পুরো অর্থকে শুধু নগদ বেতন হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

আয়ের পাশাপাশি অর্থ সঞ্চয়ের ক্ষেত্রেও নাবিল ছিলেন পরিকল্পিত। সিএনবিসির প্রতিবেদনে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি সঞ্চয়ের চেষ্টা করতেন। চাকরি ছাড়ার আগে সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও অবসরকালীন হিসাব মিলিয়ে তাঁর জমা অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ লাখ ৬৬ হাজার ডলার। কাজের ধরন অনুযায়ী দূরবর্তী অবস্থান থেকে কাজ করা এবং বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়ায় তিনি আবাসনসহ কিছু নিয়মিত ব্যয় কমিয়ে রাখতে পেরেছিলেন।

এই সঞ্চয়ই পরবর্তী সময়ে তাঁকে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আর্থিক ভিত্তি দেয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তিনি অ্যামাজন ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে এগিয়ে যান। নিজের উদ্যোগের নাম দেন স্কিলঅ্যাক্সিস। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ছিল প্রচলিত প্রযুক্তি খাতের বাইরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এআইভিত্তিক পণ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা ও সমাধান দিতে সহায়তা করা। অর্থাৎ, বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি নিজেই একটি ব্যবসা গড়ে তুলতে চেয়েছেন।

নতুন প্রতিষ্ঠানের শুরুটা অবশ্য নিশ্চিত সাফল্যের গল্প ছিল না। নিয়মিত বেতনের পরিবর্তে নিজের সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করে এগোতে হয়েছে তাঁকে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৫১ হাজার ডলারের বিক্রির কথা ওই সময়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি নিজের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে প্রতিষ্ঠান থেকে মাসে প্রায় ৫ হাজার ডলার পারিশ্রমিক নিতেন। ব্যবসার বিক্রি, লাভ এবং প্রতিষ্ঠাতার ব্যক্তিগত আয় এক বিষয় নয়—তাই বিক্রির অঙ্ককে নিট মুনাফা হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

নাবিলের গল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য শুধু উচ্চ বেতনের ওপর নির্ভর করেননি। কাজের অভিজ্ঞতা, নতুন প্রযুক্তি শেখা, অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া এবং সঞ্চয়ের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। একটি বড় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন তাঁকে পণ্য উন্নয়ন, প্রকল্প পরিচালনা ও ব্যবসায়িক সমস্যা বোঝার অভিজ্ঞতা দিয়েছে। পরে সেই অভিজ্ঞতাকে নিজের উদ্যোগে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন।

তবে তাঁর সাফল্যের এই পথ সবার জন্য একইভাবে কাজ করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রযুক্তি খাতের উচ্চ পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট দক্ষতা, দায়িত্ব, অভিজ্ঞতা ও কোম্পানির পারিশ্রমিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে। একইভাবে নতুন ব্যবসায় বিনিয়োগ করলে আয় অনিশ্চিত হতে পারে। নাবিলের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় তাঁকে নিয়মিত বেতন ছাড়াই নতুন উদ্যোগ শুরু করার সুযোগ দিয়েছে—এটি তাঁর যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

নাবিল খানের অভিজ্ঞতা থেকে তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি বিষয় স্পষ্ট: প্রথম চাকরির বেতন বা পদবি দিয়ে পুরো কর্মজীবনের সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যায় না। নিজের দক্ষতা বাড়ানো, দায়িত্ব নেওয়া, কাজের ফলাফল দেখানো এবং অর্থ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতিতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে চাকরি ছেড়ে ব্যবসা শুরু করার আগে পর্যাপ্ত সঞ্চয়, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করাও জরুরি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার