Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

পরিবারসহ স্বাস্থ্যবিমায় বছরে গুনতে হচ্ছে ৭ হাজার ৪৭১ ডলার, বাড়ছে মার্কিন কর্মীদের ব্যয়

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০২ এএম

পরিবারসহ স্বাস্থ্যবিমায় বছরে গুনতে হচ্ছে ৭ হাজার ৪৭১ ডলার, বাড়ছে মার্কিন কর্মীদের ব্যয়

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিদাতার মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমা নেওয়া কর্মীদের খরচ আরও বেড়েছে। ২০২৬ সালে পরিবারসহ স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়ামের জন্য কর্মীদের গড়ে বছরে ৭ হাজার ৪৭১ ডলার দিতে হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এই ব্যয় বেড়েছে ৬২১ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৯ শতাংশ। বিশেষ করে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা বেশি চাপে পড়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের নিজেদের পকেট থেকে বিমার খরচের বড় অংশ বহন করতে হয়।

স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে গবেষণাকারী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান কেএফএফের (KFF) নতুন এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ২২ অক্টোবর প্রকাশিত ২০২৬ সালের নিয়োগকর্তা-প্রদত্ত স্বাস্থ্যসুবিধা জরিপে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যবিমার সামগ্রিক ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মী ও নিয়োগকর্তা—উভয়ের ওপরই আর্থিক চাপ বাড়ছে। তবে ছোট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই চাপ তুলনামূলক বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রে অবসর গ্রহণের বয়সের নিচে থাকা প্রায় ১৫ কোটি ৭০ লাখ মানুষ নিয়োগকর্তার মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পান। তাঁদের জন্য এই বিমা চিকিৎসার ব্যয় সামলানোর গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু বিমার খরচ বাড়তে থাকায় কর্মীদের হাতে থাকা অর্থের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। কেএফএফের জরিপ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পরিবারসহ স্বাস্থ্যবিমার মোট বার্ষিক প্রিমিয়াম গড়ে ২৮ হাজার ৩০৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। এই মোট খরচের একটি অংশ কর্মীরা দেন, আর বাকি অংশ বহন করেন নিয়োগকর্তারা।

কেএফএফের স্বাস্থ্যসেবা বাজারবিষয়ক কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক ম্যাথিউ রে বলেন, এ বছর কর্মীদের বিমার জন্য আগের চেয়ে বেশি অর্থ দিতে হচ্ছে। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবা কতটা সাশ্রয়ী থাকছে, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।

ছোট প্রতিষ্ঠানে ব্যয়ের চাপ আরও স্পষ্ট। জরিপে দেখা গেছে, ১০ থেকে ৯৯ জন কর্মী রয়েছে এমন ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পরিবারসহ স্বাস্থ্যবিমার জন্য কর্মীদের গড় বার্ষিক অবদান ২০২৬ সালে বেড়ে ৯ হাজার ৬৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালে এই অঙ্ক ছিল প্রায় ৮ হাজার ৯০০ ডলার। বিপরীতে, ২০০ বা তার বেশি কর্মী রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের গড় অবদান এ বছর ৬ হাজার ৮৪০ ডলার, যা গত বছর ছিল প্রায় ৬ হাজার ২০০ ডলার।

অর্থাৎ, বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের তুলনায় ছোট প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিজেদের পকেট থেকে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি অর্থ দিতে হচ্ছে। ছোট প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা পরিবারসহ স্বাস্থ্যবিমার মোট প্রিমিয়ামের গড়ে ৩৭ শতাংশ বহন করেন। বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই হার ২৫ শতাংশ। ছোট প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩২ শতাংশ কর্মী এমন বিমা পরিকল্পনায় রয়েছেন, যেখানে পরিবারের বিমার অর্ধেকেরও বেশি খরচ তাঁদের দিতে হয়। বড় প্রতিষ্ঠানে এই হার মাত্র ৬ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ৬ কোটি ২৩ লাখ মানুষ কাজ করেন। বেসরকারি খাতের মোট কর্মীর প্রায় ৪৫ দশমিক ৯ শতাংশই এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত। ফলে ছোট ব্যবসার স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়ে যাওয়া বিপুলসংখ্যক কর্মী ও তাঁদের পরিবারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন জেনা ক্যালিগারিস। তাঁর প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৫ জন কর্মী রয়েছেন। তিনি জানান, কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থা চালু রাখা নিয়ে তাঁকে নিয়মিত উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হয়। তাঁর ব্যবসায় দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখতে প্রতিযোগিতা করতে হয়। তাই কর্মীদের ওপর বিমার অতিরিক্ত খরচ চাপিয়ে দিতে চান না তিনি।

প্রতিষ্ঠানটি ইউনিয়নভুক্ত নন এমন কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমার খরচের ৮০ শতাংশ বহন করে। বাকি অর্থ দেন কর্মীরা। ব্যয় সামলাতে প্রতিষ্ঠানটি পুরোনো গাড়ি ও যন্ত্রপাতি আরও দীর্ঘদিন ব্যবহার করছে, বছরের শেষে কর্মীদের বোনাস কমিয়েছে এবং বার্ষিক কোম্পানি পিকনিকও বন্ধ করেছে।

ক্যালিগারিসের ভাষায়, কর্মীদের বিমা সুবিধা বজায় রেখে ব্যবসায় প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠানটিকে বাড়তি খরচের বোঝা নিজেরাই বহন করার চেষ্টা করতে হচ্ছে। গত তিন বছরে ব্যয় কমানোর জন্য তাঁদের প্রতিষ্ঠান একাধিকবার বিমা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করেছে। তারপরও এ বছর প্রিমিয়াম ২৫ শতাংশ বেড়েছে বলে জানান তিনি।

কেএফএফের ম্যাথিউ রে বলেন, ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত বড় কোম্পানির তুলনায় বেশি ডিডাক্টিবল বা বিমা সুবিধা কার্যকর হওয়ার আগে কর্মীদের নিজস্ব অর্থ থেকে পরিশোধ করতে হয়—এমন খরচের মুখে পড়ে। এ ছাড়া ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বাস্থ্যবিমার বাজারে খরচের ওঠানামাও বেশি অনিশ্চিত।

স্বাস্থ্যবিমার ব্যয় বৃদ্ধি এখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। অক্টোবরে পরিচালিত এক এপি-নরক জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের প্রায় ১০ জনে সাতজন বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে স্বাস্থ্যসেবা তাঁদের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জীবনযাত্রার ব্যয়, চিকিৎসার খরচ এবং পরিবারের বাজেট সামলানোর বিষয়গুলোও ভোটারদের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমানোকে তাঁর নির্বাচনী বার্তার অংশ করেছেন। তিনি ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগ এবং কিছু আমেরিকানের জন্য অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা বলেছেন। তবে তাঁর প্রশাসনের নেওয়া অন্য কিছু নীতিগত পদক্ষেপের কারণে কিছু মানুষের স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে। নতুন জরিপেও দেখা যাচ্ছে, অনেক কর্মী বেশি অর্থ ব্যয় করলেও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধায় তেমন উন্নতি দেখতে পাচ্ছেন না।

২০২৬ সালের এই জরিপে ১০ বা তার বেশি কর্মী রয়েছে এমন প্রায় ১ হাজার ৯০০টি বেসরকারি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য নেওয়া হয়েছে। এতে উঠে আসা চিত্র বলছে, স্বাস্থ্যবিমার খরচ বাড়ার চাপ শুধু কর্মীদের ব্যক্তিগত বাজেটেই সীমাবদ্ধ নেই; কর্মীদের সুবিধা ধরে রাখতে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও অন্য ব্যয় কমানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার