বিজ্ঞাপন
নার্সিং হোমে নার্স নিয়োগে বড় উদ্যোগ ট্রাম্পের, তিন বছর কাজ করলে মিলতে পারে ৪০ হাজার ডলার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৩ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে নার্সিং হোমে নার্সের ঘাটতি কমাতে ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন। ‘নার্সেস ফর নার্সিং হোমস’ নামের এই কর্মসূচির আওতায় দেশজুড়ে ৪ হাজারের বেশি নার্স ও নার্সিং শিক্ষার্থীকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যোগ্য আবেদনকারীরা শিক্ষাঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার এবং অতিরিক্ত ১০ হাজার ডলারের ভাতা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এই সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট নার্সিং হোমে তিন বছর কাজ করার অঙ্গীকার করতে হবে।
সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক নাগরিকদের কল্যাণে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিচ্ছেন। তাঁর প্রশাসন দেশজুড়ে নার্স, নার্সিং হোম ও বয়স্কদের দীর্ঘমেয়াদি সেবাকেন্দ্রে বিনিয়োগ করছে। ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এসব প্রতিষ্ঠানে নার্সের প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ এবং মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড পরিষেবা কেন্দ্র (সিএমএস) যৌথভাবে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করবে। এর মূল লক্ষ্য হলো নার্সিং হোমে নতুন নার্স নিয়োগের পাশাপাশি কর্মরত নার্সদের ধরে রাখা। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকা ও যেসব অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মীর ঘাটতি বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠানে নার্স নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
কর্মসূচির মোট অর্থায়নের মধ্যে সিএমএস দেবে ১০ কোটি ডলার। বাকি অন্তত ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেবে অঙ্গরাজ্যগুলো। এ অর্থের উৎস হিসেবে নার্সিং হোমগুলোর ওপর আরোপিত দেওয়ানি আর্থিক জরিমানা থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে নতুন করে সাধারণ করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করা হবে না বলে দাবি করেছেন সিএমএস প্রশাসক মেহমেত ওজ। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ নার্সদের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি বয়স্কদের সেবার মান উন্নত করতে সহায়তা করবে।
এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে হলে আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত নার্স (আরএন) অথবা লাইসেন্সধারী প্র্যাকটিক্যাল বা ভোকেশনাল নার্স (এলপিএন/এলভিএন) হিসেবে বৈধ লাইসেন্স থাকতে হবে। পাশাপাশি তাঁকে মেডিকেয়ার বা মেডিকেইড অনুমোদিত যোগ্য দীর্ঘমেয়াদি সেবাকেন্দ্রে চাকরি করতে হবে এবং সপ্তাহে গড়ে অন্তত ৩০ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করে তিন বছরের চাকরির অঙ্গীকারের বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে।
যোগ্য নার্সদের শিক্ষাঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি তাঁরা ১০ হাজার ডলারের ভাতার জন্যও যোগ্য হতে পারেন। অর্থাৎ, শর্ত অনুযায়ী উভয় সুবিধা পেলে একজন অংশগ্রহণকারীর মোট সহায়তার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার হতে পারে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরো অর্থ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। সুবিধা পাওয়ার জন্য কর্মসূচির যোগ্যতা ও চাকরির শর্ত পূরণ করতে হবে।
নার্সিং বিষয়ে পড়াশোনা করছেন, এমন শিক্ষার্থীরাও আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। তবে অর্থ পাওয়ার আগে তাঁদের পড়াশোনা শেষ করতে হবে, প্রয়োজনীয় পেশাগত লাইসেন্স অর্জন করতে হবে এবং যোগ্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে নতুন নার্সদের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা খাতে কাজ করতে উৎসাহিত করতে চায় কর্তৃপক্ষ।
কর্মসূচিটি যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে চালু হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকার সব নার্সিং হোম এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ছাড়া যেসব এলাকায় নার্সের ঘাটতি বেশি, সেখানকার নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানও সহায়তার সুযোগ পাবে। তবে সব নার্সিং হোমের কর্মী এই সুবিধা পাবেন না; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে।
স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাজারো নার্স নিয়োগ ও ধরে রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ ও বেশি প্রয়োজন রয়েছে এমন এলাকায় সেবার পরিধি বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা খাতে পেশাগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
সিএমএস প্রশাসক মেহমেত ওজের ভাষ্য, শিক্ষাঋণ পরিশোধে সহায়তা শুধু নার্স ও নার্সিং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক চাপ কমাবে না, বরং পরিবারের সদস্যদের জন্যও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে। তাঁর মতে, নার্সদের সঙ্গে বয়স্ক বাসিন্দাদের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে উঠলে তাঁদের জীবনযাপনের মান ও সুস্থতাও উন্নত হতে পারে।
কর্মসূচির জন্য আবেদন শুরু হবে ২৬ অক্টোবর থেকে। আগ্রহীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইট NursesforNursingHomes.cms.gov -এর মাধ্যমে বিস্তারিত জানতে এবং আবেদন করতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নার্সিং হোমগুলো দীর্ঘদিন ধরেই কর্মী নিয়োগ ও ধরে রাখার সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে পর্যাপ্ত নার্স পাওয়া কঠিন। নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে সেই ঘাটতি কমানো এবং বয়স্কদের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার মান উন্নত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।