Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬ অঙ্গরাজ্যে কমেছে ক্রেডিট কার্ডের সীমা, ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা হারাচ্ছেন গ্রাহকেরা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬ অঙ্গরাজ্যে কমেছে ক্রেডিট কার্ডের সীমা, ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা হারাচ্ছেন গ্রাহকেরা

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা কমেছে। নতুন এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত আগের বছরের তুলনায় দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৩৬টিতে গ্রাহকদের গড় ক্রেডিট সীমা কমে গেছে। কোথাও এই পতন তুলনামূলক সামান্য হলেও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এতে গ্রাহকদের ধার করার সক্ষমতা সীমিত হওয়ার পাশাপাশি ক্রেডিট স্কোরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষণে ইউটাহকে ক্রেডিট সীমা কমার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত অঙ্গরাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মিনেসোটা এবং তৃতীয় স্থানে মন্টানা। তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—সবচেয়ে বেশি সামগ্রিক প্রভাবের তালিকায় শীর্ষে থাকা আর শতকরা হিসাবে সবচেয়ে বেশি সীমা কমা এক বিষয় নয়। ইউটাহর বাসিন্দাদের প্রাথমিক ক্রেডিট সীমা তুলনামূলক বেশি থাকায় শতকরা হিসাবে পতন কম হলেও ধার করার সক্ষমতা হারানোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হয়েছে।

মিনেসোটায় ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরের হিসাবে গড় ক্রেডিট সীমা প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, একই সময়ে মন্টানায় গড় সীমা কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ। অর্থাৎ, মন্টানায় শতকরা হিসাবে পতন বেশি হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের সময় প্রাথমিক ক্রেডিট সীমা এবং অন্যান্য আর্থিক সূচকও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এই বিশ্লেষণে অঙ্গরাজ্যগুলোর গড় ক্রেডিট সীমা এবং সময়ের সঙ্গে সেই সীমার পরিবর্তন—দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন খোলা ক্রেডিট কার্ডের সীমা এবং নির্দিষ্ট সময়ে গ্রাহকদের গড় সীমার পরিবর্তনও হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে। ফলে তালিকাটি শুধু কোথায় সীমা কত শতাংশ কমেছে, তা দেখায় না; বরং আগে থেকে পাওয়া ঋণসুবিধার তুলনায় গ্রাহকেরা কতটা ধার করার সক্ষমতা হারিয়েছেন, সেটিও বিবেচনা করে।

ক্রেডিট কার্ডের সীমা কমে যাওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে হলে ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন সম্পর্কে জানা দরকার। একজন গ্রাহকের মোট অনুমোদিত ক্রেডিট সীমার কতটা তিনি ব্যবহার করছেন, সেটিই ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন। ধরুন, কারও ক্রেডিট কার্ডের সীমা ১০ হাজার ডলার এবং তিনি ২ হাজার ডলার ব্যবহার করেছেন। সে ক্ষেত্রে তাঁর ব্যবহারের হার ২০ শতাংশ। কিন্তু ব্যাংক যদি সীমা কমিয়ে ৫ হাজার ডলার করে দেয় এবং বকেয়া ২ হাজার ডলারই থাকে, তাহলে ব্যবহারের হার বেড়ে দাঁড়াবে ৪০ শতাংশে।

অর্থাৎ, নতুন করে কোনো কেনাকাটা না করলেও সীমা কমে যাওয়ার কারণে গ্রাহকের ক্রেডিট ব্যবহারের অনুপাত বেড়ে যেতে পারে। এই অনুপাত ক্রেডিট স্কোর নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। তাই কার্ডের সীমা কমে গেলে কারও ক্রেডিট স্কোর কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে প্রত্যেক গ্রাহকের ক্ষেত্রে একই ফল হবে, এমন নয়। ক্রেডিট ইতিহাস, বকেয়া ঋণ, পরিশোধের অভ্যাস এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপরও স্কোর নির্ভর করে।

ক্রেডিট কার্ডের সীমা কমানোর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। কারও ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া দ্রুত বেড়ে গেলে, নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলে, ক্রেডিট স্কোর কমে গেলে কিংবা আয় কমে গেলে ব্যাংক বা কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ঋণসীমা কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ঋণদাতারা সাধারণত গ্রাহকের আর্থিক পরিস্থিতি ও ঋণ পরিশোধের ঝুঁকি বিবেচনা করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়।

মূল্যস্ফীতিও এ পরিস্থিতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম বাড়লে অনেক পরিবারকে আগের তুলনায় বেশি অর্থ খরচ করতে হয়। কারও হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ না থাকলে তিনি দৈনন্দিন ব্যয়ের জন্য ক্রেডিট কার্ডের ওপর বেশি নির্ভর করতে পারেন। এতে কার্ডের বকেয়া বাড়ে এবং মোট অনুমোদিত সীমার বড় অংশ ব্যবহার হয়ে যায়। একই সঙ্গে সময়মতো বিল পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়লে ঋণদাতার কাছে গ্রাহকের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

ক্রেডিট সীমা কমে গেলে গ্রাহকের দৈনন্দিন ব্যয় সামলানোর সক্ষমতাও প্রভাবিত হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা, গাড়ি মেরামত কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত খরচের সময় কার্ডে পর্যাপ্ত সীমা না থাকলে আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। তবে কম সীমার একটি সম্ভাব্য দিক হলো, এতে কিছু গ্রাহক অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমিয়ে ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ পেতে পারেন।

এ পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া নিয়ন্ত্রণে রাখা, সময়মতো বিল পরিশোধ করা এবং কার্ডের অনুমোদিত সীমার তুলনায় ব্যবহার যতটা সম্ভব কম রাখা। ক্রেডিট সীমা কমে গেলে কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাওয়া যেতে পারে। নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট ও স্কোর নিয়মিত পরীক্ষা করাও উপকারী।

তবে এই পরিসংখ্যান থেকে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি ক্রেডিট কার্ডধারীর সীমা কমানো হয়েছে। বিশ্লেষণটি অঙ্গরাজ্যভিত্তিক গড় পরিবর্তন ও বিভিন্ন সূচকের ওপর তৈরি। ব্যক্তিগতভাবে কারও সীমা কমবে কি না, তা নির্ভর করে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তের ওপর।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার