বিজ্ঞাপন
ওয়াশিংটনে প্রথমবারের মতো স্কুলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবার চালু করছে কেন্ট জেলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০০ এএম
বিজ্ঞাপন
ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কেন্ট স্কুল জেলায় মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য সনদপ্রাপ্ত হালাল খাবার চালু হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে অঙ্গরাজ্যটির প্রথম স্কুল জেলা হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের খাবারের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে কেন্ট। নতুন এই উদ্যোগে কয়েক শ শিক্ষার্থী উপকৃত হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি অলাভজনক সংস্থা।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক ঘোষণায় সংস্থাটি জানায়, কেন্ট স্কুল জেলা শিক্ষার্থীদের জন্য সনদপ্রাপ্ত হালাল খাবার সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে মুসলিম শিক্ষার্থীরা স্কুলের ক্যাফেটেরিয়াতেই নিজেদের ধর্মীয় বিধান ও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ খাবার পাবে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, হালাল খাবার বলতে এমন খাদ্য বোঝায়, যা ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে গ্রহণযোগ্য। মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলে হালাল খাবারের ব্যবস্থা থাকলে তাঁদের প্রতিদিনের খাবার বেছে নেওয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে স্কুলের খাবারের ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পটভূমির শিক্ষার্থীদের চাহিদা বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়।
কেন্ট এলাকায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জনসংখ্যার অনুপাতে ওয়াশিংটনের যেসব এলাকায় মুসলিম বাসিন্দার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, কেন্ট তার একটি। ফলে স্কুলে হালাল খাবার চালুর সিদ্ধান্তটি স্থানীয় অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন্ট হাইস্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাফা মালেকজাই নতুন উদ্যোগ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তার ভাষায়, স্কুলের ক্যাফেটেরিয়ায় নিজের জীবনযাপন ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই খাবার দেখতে পাওয়া দারুণ অনুভূতির। শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করতে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে—এটি তাকে স্কুলের শিক্ষার্থী হিসেবে গর্বিত করেছে বলেও জানায় সে।
এই উদ্যোগ এক দিনে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে স্থানীয় কমিউনিটির সদস্যরা স্কুলে হালাল খাবারের ব্যবস্থা চালুর দাবিতে কাজ শুরু করেন। তাঁদের প্রচেষ্টার পর এবার সেই দাবি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা শুধু পুষ্টির বিষয় নয়; এর সঙ্গে তাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা, পরিচয় এবং স্কুলে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করার বিষয়ও জড়িত। যেসব শিক্ষার্থী ধর্মীয় কারণে নির্দিষ্ট খাবার খেতে পারে না, তাদের জন্য উপযুক্ত বিকল্প থাকা স্কুলের খাবার কর্মসূচিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলতে পারে।
কেন্ট স্কুল জেলার প্রযুক্তি ও অংশীদারত্ববিষয়ক নির্বাহী পরিচালক স্পেন্সার প্যান বলেন, এই সিদ্ধান্ত মুসলিম কমিউনিটি ও শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন ইতিবাচক, তেমনি এটি সব শিক্ষার্থীর জন্যও একটি অর্জন। তাঁর বক্তব্যে উদ্যোগটির গুরুত্ব শুধু একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—বরং স্কুলে শিক্ষার্থীদের বৈচিত্র্য ও চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে প্রথম হিসেবে কেন্ট স্কুল জেলার এই পদক্ষেপ অন্য স্কুল জেলাগুলোর জন্যও একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। তবে বর্তমানে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় কত ধরনের হালাল খাবার পরিবেশন করা হবে কিংবা ঠিক কবে থেকে শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে সেগুলো পাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সব মিলিয়ে, স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবির পর স্কুলের খাবারের ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে। মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চাহিদার স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি স্কুলের ক্যাফেটেরিয়ায় আরও বেশি শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে কেন্ট স্কুল জেলা।