Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

গ্যাসের মজুত তলানিতে, শীতের আগে বিপাকে ইউরোপ

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ এএম

গ্যাসের মজুত তলানিতে, শীতের আগে বিপাকে ইউরোপ

বিজ্ঞাপন

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় রেকর্ড সর্বনিম্ন গ্যাস মজুত নিয়ে শীত মৌসুমে প্রবেশ করছে ইউরোপ। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে মহাদেশটিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়তে পারে এবং জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জার্মানির বার্লিনে বুধবার একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফাতিহ বিরল বলেন, হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্নের কারণে বিশ্বের সব অঞ্চলই জ্বালানি সরবরাহসংক্রান্ত সমস্যার মুখে পড়েছে। তবে ইউরোপের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। উপসাগরীয় অঞ্চলে আজই শান্তি ফিরে এলেও আগামী কয়েক মাসে ইউরোপে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, শীতের আগে সাধারণত ইউরোপের দেশগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত থাকে। কিন্তু এবার শীত মৌসুমে প্রবেশের সময় গ্যাসের মজুত ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় অনেক কম।

আরও পড়ুন
বিরল সতর্ক করে বলেন, শীত তীব্র হলে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম আরও বাড়তে পারে। এ ছাড়া জ্বালানিকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক রাজনীতির প্রভাব বাড়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। চলতি বছর ও আগামী বছর ইউরোপের মানুষের জন্য সহজ হবে না।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গ্যাস সংরক্ষণাগারগুলো বর্তমানে প্রায় ৭২ শতাংশ পূর্ণ। অথচ সাধারণত এ সময়ে মজুত থাকে প্রায় ৯০ শতাংশ। বিশ্লেষকদের হিসাবে, এই ঘাটতি ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ বাড়িতে জ্বালানি সরবরাহের সমপরিমাণ।

এ পরিস্থিতিতে গ্যাসের ব্যবহার সীমিত করার জন্য পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানানো হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানিমন্ত্রীরা।

ফাতিহ বিরল বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে কী করা হবে, তা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন ছিলেন। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থায় নতুন নিয়োগপ্রার্থীদেরও তিনি প্রায়ই প্রশ্ন করতেন, প্রণালিটি আজই বন্ধ হয়ে গেলে তারা কী পদক্ষেপ নেবেন।

তার মতে, সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে জ্বালানি পরিবহনের জন্য নতুন পাইপলাইন নির্মাণ ও বিদ্যমান পাইপলাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।

বিরল বলেন, এসব উদ্যোগ আরও আগেই নেওয়া প্রয়োজন ছিল। এখন সরকারগুলো তড়িঘড়ি করে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার