Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

গোয়েন্দা হওয়ার স্বপ্ন পূরণের আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণীর

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৭ এএম

গোয়েন্দা হওয়ার স্বপ্ন পূরণের আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণীর

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যে পুলিশের গোয়েন্দা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ২২ বছর বয়সী তরুণী এরিন বেনেট। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে স্বপ্নের চাকরিও পেয়েছিলেন তিনি। আর কিছুদিন পরই নর্থামব্রিয়া পুলিশে গোয়েন্দা হওয়ার প্রশিক্ষণ শুরু করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু নতুন কর্মজীবন শুরুর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এই তরুণী। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) ইংল্যান্ডের নর্থাম্বারল্যান্ডে তিনটি গাড়ির সংঘর্ষে নিহত হন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরিন বেনেট নর্থাম্বারল্যান্ডের ক্রামলিংটন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিমিনোলজি ও সাইকোলজি বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। পড়াশোনা শেষে নর্থামব্রিয়া পুলিশে চাকরির সুযোগ পান। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করার ইচ্ছা ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের। সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাওয়ায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন এরিন। কিন্তু প্রশিক্ষণ শুরু করার আগেই দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নর্থামব্রিয়া পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার স্থানীয় সময় দুপুর সোয়া ১২টার কিছু পর নর্থাম্বারল্যান্ডের ফেলটন এলাকার কাছে এ১ মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেখানে তিনটি গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল একটি সাদা রঙের নিসান কাশকাই, একটি লাল রঙের রেনল্ট ক্লিও এবং একটি সাদা টেসলা মডেল থ্রি। নিসান গাড়িটি উত্তর দিকে এবং অন্য দুটি গাড়ি দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিল। কোন পরিস্থিতিতে গাড়িগুলোর সংঘর্ষ হয়, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, এরিন লাল রঙের রেনল্ট ক্লিও গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। সংঘর্ষের পর জরুরি সেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। দুর্ঘটনায় নিসান গাড়ির চালক সামান্য আহত হন এবং চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। একই গাড়ির একজন যাত্রী গুরুতর আহত হলেও পরে হাসপাতাল ছাড়েন। অন্যদিকে টেসলা গাড়িতে থাকা চারজন আহত হন। তবে তাঁদের আঘাত গুরুতর নয় বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ।

দুর্ঘটনার পর এ১ মহাসড়কের সংশ্লিষ্ট অংশ প্রায় নয় ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হয়। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং বিকল্প পথে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। জরুরি সেবার একাধিক অ্যাম্বুলেন্স ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নর্থামব্রিয়া পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল কাজ শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চালকের বিরুদ্ধে দুর্ঘটনার দায় নিশ্চিত করা হয়নি।

বুধবার (২১ অক্টোবর) পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এরিনকে অত্যন্ত যত্নশীল, চিন্তাশীল ও প্রাণবন্ত মানুষ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। স্বজনেরা জানান, পরিবারের কাছে তিনি শুধু একজন মেয়ে কিংবা বড় বোন ছিলেন না, ছিলেন তাঁদের সবচেয়ে কাছের বন্ধুও। তাঁর হাসি এবং আন্তরিক আচরণ আশপাশের মানুষকে আনন্দ দিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে নিজের পছন্দের পেশায় যোগ দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, নর্থামব্রিয়া পুলিশে চাকরি পাওয়ার বিষয়টি এরিনের জন্য ছিল বিশেষ আনন্দের। গোয়েন্দা হওয়ার প্রশিক্ষণ শুরু করার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে এমন এক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা কখনো পূরণ হওয়ার নয় বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সময় যাঁরা সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিলেন এবং জরুরি সেবার কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। এই কঠিন সময়ে পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সম্মান করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

এরিনের প্রেমিক ক্রেগও তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। পরিবারের মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এরিনকে নিজের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেন। ক্রেগ জানান, এরিনের হাসি ও ব্যক্তিত্ব তাঁকে সব সময় আনন্দ দিত। তাঁর সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতি সারা জীবন ধরে রাখবেন তিনি। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার আগেই এরিনকে হারানোর ঘটনা তাঁর কাছের মানুষদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তা চেয়েছে নর্থামব্রিয়া পুলিশ। তদন্তকারীরা বিশেষ করে দুর্ঘটনার আগে সংশ্লিষ্ট তিনটি গাড়ির চলাচলের সিসিটিভি কিংবা ড্যাশক্যামের ফুটেজ খুঁজছেন। সার্জেন্ট গ্রেগ হান্টলি জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে ছোট কোনো তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দুর্ঘটনার সময় এ১ মহাসড়কের ওই অংশ দিয়ে যাঁরা যাতায়াত করছিলেন, তাঁদের কাছে কোনো তথ্য বা ভিডিও থাকলে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এরিনের মৃত্যু উত্তর ইংল্যান্ডের এ১ মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে নর্থাম্বারল্যান্ডের এ১ মহাসড়কে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালে এই সড়কে নিহতের সংখ্যা এরিনকে নিয়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ায় সড়কটির নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তবে এরিনের মৃত্যুর সঙ্গে সড়কের কাঠামোগত কোনো ত্রুটির সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

মাত্র ২২ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন এবং স্বপ্নের চাকরি পাওয়ার পর জীবনের নতুন পথচলা শুরু করার অপেক্ষায় ছিলেন এরিন বেনেট। পরিবারের সদস্যদের কাছে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিল অনেক আশা। সেই প্রস্তুতির মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর জীবন শেষ হয়ে যায়। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে পরিবার এখন এরিনের স্মৃতি নিয়েই এই আকস্মিক ক্ষতি সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার