বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পেতে বড় হতাশা, আট মাসে অনুমোদন কমেছে ৭২ শতাংশ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৪ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও ধীর হয়ে পড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদনের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭২ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে নাগরিকত্বের জন্য অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ থেকে বেড়ে আট লাখের বেশি হয়েছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
এই পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়া বহু অভিবাসীর নাগরিকত্ব গ্রহণের পরিকল্পনা পিছিয়ে যাচ্ছে। নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের গড় অপেক্ষার সময় প্রায় ১৩ মাসে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কারও ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের সময় পেতে দেরি হচ্ছে, আবার কারও নির্ধারিত সাক্ষাৎকার বা নাগরিকত্ব গ্রহণের অনুষ্ঠান বাতিল কিংবা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন আরও কঠোর হয়েছে। নাগরিকত্বপ্রার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা, নাগরিকত্ববিষয়ক জ্ঞান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য এবং ব্যক্তিগত আচরণ ও অতীত রেকর্ড খতিয়ে দেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগের প্রশাসনের সময় অনুমোদিত কিছু নাগরিকত্বের আবেদনও পুনরায় যাচাইয়ের আওতায় আনা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নাগরিকত্বের সিদ্ধান্ত পেতে দেরি হওয়ায় আবেদনকারীদের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব পড়ছে। কাজ, বিদেশ ভ্রমণ, পারিবারিক পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যাঁরা আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্যতা অর্জনের আশায় নাগরিকত্বের আবেদন করেছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ সময়মতো প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারায় ভোট দেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে কিছু আবেদনকারী আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন। তাঁরা আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার নির্দেশ চাচ্ছেন। তবে এ ধরনের মামলা করতে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত আইনি খরচ হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আর্থিকভাবে দুর্বল আবেদনকারীদের জন্য এই পথও সহজ নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন বা আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের বর্তমান আবেদন-অবস্থা ও সরকারি নির্দেশনা নিয়মিত যাচাই করা উচিত। তবে এই পরিসংখ্যানের অর্থ এই নয় যে সব বাংলাদেশির আবেদন একই হারে কম অনুমোদিত হচ্ছে; প্রতিবেদনে বাংলাদেশিদের জন্য আলাদা অনুমোদনের হার দেওয়া হয়নি।