Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসী বহিষ্কারের তথ্য

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৫ পিএম

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসী বহিষ্কারের তথ্য

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে দেশটি থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ের হিসাব বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে বছরে ১০ লাখ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান বহিষ্কারের হার সেই লক্ষ্যের চেয়ে কম। একই সঙ্গে অভিবাসন কার্যক্রমের বিস্তারিত সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ বন্ধ থাকায় প্রশাসনের অভিযান কতটা এগিয়েছে, তা মূল্যায়ন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প অনিবন্ধিত অভিবাসীদের ব্যাপক হারে বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে অভিবাসন নীতির কট্টর সমর্থকদের একাংশের সমালোচনা, প্রশাসন আরও বেশি অনিবন্ধিত অভিবাসীকে দেশ থেকে সরিয়ে দিতে পারত। অন্যদিকে, বহিষ্কারের সংখ্যা ও অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নিয়মিত বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন হিসাব তৈরিতে বিভিন্ন নথি ও তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন মার্ক রোজেনব্লাম, যিনি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের পরিসংখ্যানবিষয়ক দপ্তরের প্রধান ছিলেন। তিনি জুলাইয়ে ওই পদ ছাড়েন। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া নথি এবং বাইরের গবেষকদের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বহিষ্কারের সংখ্যা নিরূপণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ‘বহিষ্কার’ বলতে দুটি পৃথক প্রক্রিয়াকে একসঙ্গে গণনা করা হয়েছে। প্রথমটি হলো ‘রিমুভাল’, যার আইনি পরিণতি তুলনামূলক কঠোর। দ্বিতীয়টি ‘রিটার্ন’, যেখানে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হয়, তবে প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিক বহিষ্কারের তুলনায় কম শাস্তিমূলক হতে পারে। এই দুই ধরনের প্রক্রিয়া মিলিয়েই ৯ লাখ ৮০ হাজারের হিসাব করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময়ের মোট সংখ্যার মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার ছিল আনুষ্ঠানিক রিমুভাল। প্রায় ৩ লাখ ক্ষেত্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের মাধ্যমে রিটার্ন এবং আরও প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক রিটার্ন হয়েছে। অর্থাৎ সব অভিবাসীকে একই আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়নি।

আনুষ্ঠানিক রিমুভালের বার্ষিক গড় হিসাবেও ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সংখ্যা আগের কয়েকটি প্রশাসনের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদে বছরে গড়ে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রথম মেয়াদে এই গড় ছিল প্রায় ৩ লাখ ৯২ হাজার। ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে বার্ষিক গড় ছিল ৩ লাখ ৮০ হাজারের সামান্য কম।

ওবামার শাসনামলে ২০১৩ অর্থবছরে ৪ লাখ ৩২ হাজার অভিবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল, যা এখনো এই ধরনের বহিষ্কারের সর্বোচ্চ বার্ষিক রেকর্ড। অন্যদিকে, দুই ধরনের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া একত্রে বিবেচনা করলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন কার্যক্রমের গতি জো বাইডেনের প্রশাসন এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের তুলনায় বেশি। তবু ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, মোট বহিষ্কারের প্রায় ৬৯ শতাংশ ছিল এমন অভিবাসী, যাঁদের প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে আটক করা হয়েছিল। অর্থাৎ সীমান্তে আটক ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোই এখনো সামগ্রিক সংখ্যার বড় অংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বসবাসরত অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করে বহিষ্কারের হারও বেড়েছে। ২০২৫ সালে অভ্যন্তরীণ গ্রেপ্তার থেকে শুরু হওয়া বহিষ্কারের অংশ ছিল ২৮ শতাংশ; ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তা বেড়ে ৩৯ শতাংশে পৌঁছায়।

অভিবাসীদের অপরাধসংক্রান্ত তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মোট ৯ লাখ ৮০ হাজার বহিষ্কারের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত দুই বছর বসবাসের পর বহিষ্কৃত অভিবাসীদের মধ্যে ৭১ শতাংশের কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড ছিল না। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, বহিষ্কারের আওতায় আসা সবাই অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন না।

সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে অভিবাসী বহিষ্কারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও বছরে ১০ লাখ মানুষকে বহিষ্কারের ঘোষিত লক্ষ্যের সঙ্গে বর্তমান গতি মেলেনি। সরকারি বিস্তারিত তথ্য নিয়মিত প্রকাশ না হওয়ায় স্বাধীনভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের গুরুত্বও বেড়েছে। অভিবাসন নীতির বাস্তব প্রভাব মূল্যায়নে বহিষ্কারের মোট সংখ্যা, আইনি প্রক্রিয়ার ধরন, সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ গ্রেপ্তারের অনুপাত এবং বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য—সবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার