বিজ্ঞাপন
সৌদি আরবে হামলার পর মার্কিন কূটনীতিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ, বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
সৌদি আরবে একের পর এক হামলার পর দেশটিতে মার্কিন কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবে কর্মরত অজরুরি সরকারি কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর হামলা এবং বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাতের ঝুঁকির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গত ২১ অক্টোবর সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় একজন সৌদি নাগরিক ও একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হন এবং আটজন আহত হন। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।
এ ছাড়া সৌদি আরবের শায়বাহ তেলক্ষেত্রের কাছে ড্রোন হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে দুইজন নিহত ও আরও দুইজন আহত হন। এসব ঘটনার পর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, সৌদি আরবে হুতি গোষ্ঠীর হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় অজরুরি মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন দূতাবাসও সম্ভাব্য হামলা, বিমান চলাচলে বিঘ্ন এবং ভ্রমণসংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। তবে এই নির্দেশের অর্থ সৌদি আরবে অবস্থানরত সব মার্কিন নাগরিককে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে—এমন নয়।
এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত সংঘাত। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের মধ্যে সংঘর্ষের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে আরও জটিল করে তুলেছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোতে হামলার ঝুঁকি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক বিমান চলাচল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করছে।
বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় দেশটির তেলক্ষেত্র, রপ্তানি অবকাঠামো বা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে। এতে বাংলাদেশসহ তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আমদানি খরচের ওপর চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি দামে কতটা প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে সংঘাতের স্থায়িত্ব, আন্তর্জাতিক বাজার এবং সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর।
বাংলাদেশিদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী কাজ করেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হলে তাঁদের কর্মস্থলে যাতায়াত, বিমান চলাচল ও দেশে ফেরার পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা, বিমান সংস্থার সর্বশেষ ঘোষণা এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত।
এখন পর্যন্ত মার্কিন নির্দেশটি সৌদি আরবে নিযুক্ত নির্দিষ্ট শ্রেণির সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের জন্য। এটি সৌদি আরব থেকে সব বিদেশি নাগরিককে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ নয়। পরিস্থিতির পরবর্তী পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করবে নিরাপত্তা সতর্কতা আরও বাড়ানো হবে কি না।