Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

গ্রিন কার্ডের আবেদনে কিছুটা স্বস্তি, কয়েকটি ক্যাটাগরিতে এগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার নির্ধারিত তারিখ

Icon

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

গ্রিন কার্ডের আবেদনে কিছুটা স্বস্তি, কয়েকটি ক্যাটাগরিতে এগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার নির্ধারিত তারিখ

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষায় থাকা কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নতুন অগ্রগতির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসের ভিসা বুলেটিনে কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের কয়েকটি শ্রেণিতে ভিসার চূড়ান্ত অনুমোদনের নির্ধারিত তারিখ এগিয়েছে। বিশেষ করে ইবি-২ ও ইবি-৩ শ্রেণিতে ভারত ও চীন ছাড়া বেশ কয়েকটি দেশের আবেদনকারীরা সুবিধা পেতে পারেন। তবে ভারত ও চীনের আবেদনকারীদের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার পরিস্থিতি এখনো রয়েছে।

ভিসা বুলেটিনে আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ী আবেদন জমা দেওয়া এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। তবে আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ এবং গ্রিন কার্ড অনুমোদনের জন্য নির্ধারিত তারিখ এক নয়। তাই কোনো শ্রেণির তারিখ এগিয়েছে দেখেই সব আবেদনকারী এখনই গ্রিন কার্ড পাবেন, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

ইবি-২ শ্রেণিতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে অধিকাংশ দেশের আবেদনকারীদের জন্য। এই শ্রেণিতে উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী এবং বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন আবেদনকারীরা অন্তর্ভুক্ত। নভেম্বর মাসে ভারত ও চীন ছাড়া অধিকাংশ দেশের পাশাপাশি মেক্সিকো ও ফিলিপাইনের আবেদনকারীদের চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ তিন মাস এগিয়ে ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল করা হয়েছে।

তবে ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য ইবি-২ শ্রেণির তারিখ রয়েছে ২০১৩ সালের ১ নভেম্বর। চীনের মূল ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে তারিখটি ২০২১ সালের ১ অক্টোবরেই অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে দেশভেদে অপেক্ষার সময়ের বড় পার্থক্য বজায় আছে।

ইবি-৩ শ্রেণিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। এই শ্রেণির আওতায় দক্ষ কর্মী, পেশাজীবী এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন অন্যান্য কর্মীরা আবেদন করতে পারেন। অধিকাংশ দেশের আবেদনকারীদের চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ এক মাস এগিয়ে ২০২৪ সালের ১৫ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে। মেক্সিকোর আবেদনকারীদের জন্যও একই তারিখ প্রযোজ্য।

ভারতের ক্ষেত্রে ইবি-৩ শ্রেণির তারিখ ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এগিয়ে ২২ জানুয়ারি হয়েছে। চীনের আবেদনকারীদের জন্য তারিখ দুই সপ্তাহ এগিয়ে ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ফিলিপাইনের আবেদনকারীদের তারিখ ২০২৩ সালের ১৫ আগস্টে অপরিবর্তিত রয়েছে।

ইবি-৩-এর ‘আদার ওয়ার্কার্স’ শ্রেণিতেও পরিবর্তন এসেছে। সাধারণত যেসব কাজের জন্য দুই বছরের কম প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, সেগুলোর কিছু আবেদন এই শ্রেণির আওতায় পড়ে। অধিকাংশ দেশ ও মেক্সিকোর আবেদনকারীদের চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ পাঁচ মাস এগিয়ে ২০২২ সালের ১ জুন হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে তারিখ ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এগিয়ে ২২ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইবি-১ শ্রেণিতে অধিকাংশ দেশের পাশাপাশি মেক্সিকো ও ফিলিপাইনের আবেদনকারীদের জন্য ভিসার তারিখ এখনো ‘কারেন্ট’ বা বর্তমান রয়েছে। অর্থাৎ এ শ্রেণিতে নির্ধারিত কাট-অফ তারিখের কারণে আলাদা অপেক্ষা নেই। তবে অন্যান্য যোগ্যতা ও ভিসার প্রাপ্যতার শর্ত প্রযোজ্য। চীনের মূল ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া আবেদনকারীদের জন্য ইবি-১-এর তারিখ এক মাস এগিয়ে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে তারিখ ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারিতেই রয়েছে।

ইবি-৪ শ্রেণিতে, যেখানে নির্দিষ্ট ধরনের বিশেষ অভিবাসীরা অন্তর্ভুক্ত, সব তালিকাভুক্ত দেশের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ২০২২ সালের ১৫ ডিসেম্বর রয়েছে। বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের ইবি-৫ শ্রেণিতে অধিকাংশ দেশের জন্য সাধারণ বা ‘আনরিজার্ভড’ ক্যাটাগরি বর্তমান রয়েছে। তবে চীনের মূল ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া আবেদনকারীদের জন্য তারিখ ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর এবং ভারতের জন্য ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বরেই রয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় বিনিয়োগ, উচ্চ বেকারত্বের এলাকায় বিনিয়োগ এবং অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত ইবি-৫-এর তিনটি শ্রেণি সব তালিকাভুক্ত দেশের জন্য বর্তমান রয়েছে।

আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের তালিকা বা ‘ডেটস ফর ফাইলিং’ চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ থেকে আলাদা। নভেম্বরের বুলেটিনে ইবি-২ শ্রেণিতে অধিকাংশ দেশের আবেদনকারীদের জন্য আবেদন জমার তারিখ ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ রয়েছে। ভারতের জন্য তা ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি এবং চীনের জন্য ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি। ইবি-৩ শ্রেণিতে অধিকাংশ দেশের আবেদন জমার তারিখ ২০২৪ সালের ১ আগস্ট; ভারতের জন্য ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি এবং ফিলিপাইনের জন্য ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থান করে স্থায়ী বসবাসের আবেদন জমা দিতে ইচ্ছুকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নভেম্বর মাসে কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন জমার উপযুক্ত তালিকা দেখতে হবে। তাই আবেদনকারীদের নিজেদের শ্রেণি, জন্মদেশ এবং প্রায়োরিটি ডেট মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ভিসার তারিখ এগোলেও ভবিষ্যতেও একইভাবে এগোবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবেদনকারীর সংখ্যা ও ভিসার প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে কোনো মাসে তারিখ পিছিয়েও যেতে পারে। তাই আবেদনকারীদের নিয়মিত ভিসা বুলেটিন দেখা এবং নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার