Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

পশু থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে শামোন্ডা ভাইরাস! করোনার চেয়েও ভয়ংকর কি?

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

পশু থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে শামোন্ডা ভাইরাস! করোনার চেয়েও ভয়ংকর কি?

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাসের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই নতুন এক ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। গবাদি পশুর শরীরে সংক্রমণ ঘটানো শামোন্ডা ভাইরাসের একটি প্রজাতি এবার মানুষের শরীরেও শনাক্ত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ফ্রান্সে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর ভাইরাসটি নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, ভাইরাসটি কতটা বিপজ্জনক এবং এটি কি করোনাভাইরাসের মতো মহামারির কারণ হতে পারে?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৬০ সালে নাইজেরিয়ার একটি খামারে প্রথম শামোন্ডা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গবাদি পশুর মধ্যে এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। তবে মানুষের শরীরে এর সংক্রমণের দাবি বিরল ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে।

ফ্রান্সে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার রক্তের নমুনা পরীক্ষায় শামোন্ডা ভাইরাসের একটি প্রজাতির উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। এই ভাইরাস সাধারণত গরু, ছাগল, ভেড়া ও ঘোড়ার মতো পশুকে সংক্রমিত করে। কীভাবে ভাইরাসটি ওই ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আক্রান্ত কোনো পশুর মাধ্যমে সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কী এই শামোন্ডা ভাইরাস?

শামোন্ডা ভাইরাস মূলত গবাদি পশুর মধ্যে সংক্রমণ ঘটায়। এর প্রভাবে পশুর প্রজননজনিত সমস্যা, জ্বর, ডায়রিয়া, ত্বকের সমস্যা, দুধ উৎপাদন কমে যাওয়া এবং কখনও স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ভাইরাসটি সাধারণত কীটপতঙ্গের মাধ্যমে পশুর মধ্যে ছড়ায়। মশা বা অন্যান্য রক্তচোষা পতঙ্গ এর বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে মানুষের শরীরে সংক্রমণ, রক্তে ভাইরাসের উপস্থিতি কিংবা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে আরও বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রয়োজন।

ফ্রান্সের ঘটনাটিতে কীভাবে সংক্রমণ ঘটেছে, তা নিশ্চিত না হওয়ায় ভাইরাসটির সংক্রমণপথ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। একইভাবে, এই ভাইরাস মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে কীভাবে প্রভাবিত করে বা সংক্রমণ কতটা গুরুতর হতে পারে, তা নির্ধারণেও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন।

করোনার চেয়েও ভয়ংকর কি?

শামোন্ডা ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও একে করোনাভাইরাসের চেয়ে বেশি ভয়ংকর বলার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সংক্রমণ ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা দেখা গিয়েছিল। শামোন্ডা ভাইরাসের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে নিয়মিত সংক্রমণ বা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত না হলে দুই ভাইরাসের ভয়াবহতা তুলনা করা কঠিন।

ফ্রান্সে মানুষের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতির খবর সত্য হয়ে থাকলেও, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা থেকেই মহামারির আশঙ্কা নিশ্চিত করা যায় না। ভাইরাসটি মানুষের শরীরে কতটা সহজে সংক্রমণ ঘটাতে পারে, একজনের কাছ থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়ায় কি না এবং গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি কতটা—এসব প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি।

বিশ্বজুড়ে কেন সতর্কতা?

প্রতিবেদনে ইউরোপের কয়েকটি দেশে শামোন্ডা ভাইরাসের বিভিন্ন প্রজাতির উপস্থিতির কথা বলা হয়েছে। তবে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের বিস্তার সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সীমিত। ভাইরাসটির কোনো প্রজাতি মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে সক্ষম কি না, তা নিয়ে গবেষকদের আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন।

মানুষের মধ্যে সংক্রমণ শনাক্ত হলে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা অন্যদের পর্যবেক্ষণ, সংক্রমণের উৎস শনাক্ত করা এবং ভাইরাসটির জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নামে সতর্কতা জারির যে দাবি করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য এবং ফ্রান্সের ঘটনাটির নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করা প্রয়োজন। এখনই শামোন্ডা ভাইরাসকে করোনার মতো মহামারির হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করার যথেষ্ট ভিত্তি নেই। পরিস্থিতি বুঝতে প্রয়োজন আরও তথ্য, গবেষণা ও জনস্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ।

সূত্র: আনন্দবাজার

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার