Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

নিউজিল্যান্ডে বাবা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সন্তানের জন্ম দিলেন ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

নিউজিল্যান্ডে বাবা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সন্তানের জন্ম দিলেন ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ

বিজ্ঞাপন

সন্তান জন্ম দেওয়ার স্বপ্ন পূরণে একাধিকবার গর্ভপাতের বেদনা ও সামাজিক বিচার সহ্য করতে হয়েছে নিউজিল্যান্ডের ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ ফ্র্যাঙ্কিকে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সঙ্গী রাওয়ার সঙ্গে তিনি এখন ছেলে হিওয়াকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন তাঁদের পরিবার। তাঁদের এই যাত্রা উঠে এসেছে প্রামাণ্যচিত্র ‘ট্রান্স অ্যান্ড প্রেগন্যান্ট’-এ।

ফ্র্যাঙ্কি জন্মের সময় নারী হিসেবে চিহ্নিত হলেও নিজেকে পুরুষ হিসেবেই পরিচয় দেন। নিজের শরীরকে পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে তিনি স্তন অপসারণের অস্ত্রোপচার ও টেস্টোস্টেরন হরমোনের চিকিৎসা নিয়েছেন। দাড়ি গজানোসহ শরীরে নানা পরিবর্তন এসেছে। তবে পুরুষ হিসেবে নিজের পরিচয় নিয়ে স্বচ্ছন্দ হওয়ার পরও বাবা হওয়ার ইচ্ছা তাঁর কখনো হারিয়ে যায়নি।

সঙ্গী রাওয়ার সঙ্গে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর তাঁদের পথ সহজ ছিল না। সন্তান ধারণের চেষ্টা করতে গিয়ে একাধিকবার গর্ভপাতের মুখোমুখি হন তাঁরা। চিকিৎসাসংক্রান্ত নানা চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি পরিচিত-অপরিচিত মানুষের বিচারমূলক দৃষ্টিও তাঁদের মোকাবিলা করতে হয়েছে। পুরুষ পরিচয় বজায় রেখেই গর্ভধারণ ও সন্তান জন্ম দেওয়ার অভিজ্ঞতা ফ্র্যাঙ্কির জন্য ছিল শারীরিক ও মানসিকভাবে জটিল। এ সময়ে রাওয়া তাঁর পাশে থেকে তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন।

২০২৩ সালে তাঁদের ছেলে হিওয়া-ই-তে-রাঙ্গির জন্ম হয়। এরপর ফ্র্যাঙ্কি ও রাওয়া তাঁদের অভিভাবকত্বের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে ট্রান্সজেন্ডার ও লিঙ্গবৈচিত্র্যময় অন্য মানুষও পরিবার গড়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে পারেন। তাঁদের মতে, সন্তান ধারণের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া এমন মানুষদের বাস্তবতা তুলে ধরার একটি উপায়, যাঁদের জীবন ও পরিবার সম্পর্কে সমাজে এখনও অনেক ভুল ধারণা রয়েছে।

রামন তে ওয়েক পরিচালিত ‘ট্রান্স অ্যান্ড প্রেগন্যান্ট’ প্রামাণ্যচিত্রে এই দম্পতির সন্তান নেওয়ার চেষ্টা, গর্ভপাতের অভিজ্ঞতা এবং শেষ পর্যন্ত সন্তান জন্ম দেওয়ার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালে নির্মিত ৫৮ মিনিটের এই নিউজিল্যান্ডের প্রামাণ্যচিত্রটি ২০২৫ সালের ওশেনীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় এবং প্রথম বিশেষ জুরি পুরস্কার পায়। চলচ্চিত্রটি শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়, বরং অভিভাবকত্ব, লিঙ্গপরিচয় এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

সূত্র: নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড; ওশেনীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (FIFO)।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার