Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

গ্রিন কার্ডের জন্য ভুয়া বিয়ের আয়োজন, ১০ বছরে ৬০ লাখ ডলার আয়ের অভিযোগ মার্কিন নারীর বিরুদ্ধে

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

গ্রিন কার্ডের জন্য ভুয়া বিয়ের আয়োজন, ১০ বছরে ৬০ লাখ ডলার আয়ের অভিযোগ মার্কিন নারীর বিরুদ্ধে

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে ভুয়া বিয়ের আয়োজন করে অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেনিফার গনজালেজ নামে এক মার্কিন নারীর বিরুদ্ধে। দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে তিনি প্রায় ৬০ লাখ ডলার আয় করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। প্রতিটি বিয়ের ব্যবস্থা করে তিনি ৩৮ হাজার থেকে ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত নিতেন। বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০টি বিয়ের আয়োজন করা হতো বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২১ অক্টোবর এ ঘটনায় গনজালেজসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কথা জানায় ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল আইনজীবীদের দপ্তর।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গনজালেজের পরিচালিত ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা পেতে আগ্রহী বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের বিয়ে দেওয়া হতো। এসব বিয়ের উদ্দেশ্য ছিল দাম্পত্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা নয়, বরং বিয়ের কাগজপত্র ব্যবহার করে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার আবেদন করা। এ কাজে গনজালেজ কয়েকজন মার্কিন নাগরিককে অর্থের বিনিময়ে বিয়েতে রাজি করাতেন। তাঁর কর্মীরা বিয়ের ছবি তুলতেন, একসঙ্গে ঘোরাফেরার ছবি রাখতেন এবং সম্পর্কটি প্রকৃত বলে প্রমাণ করার মতো নথি তৈরিতে সহায়তা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এসব নথি ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার কাছে আবেদন জমা দেওয়া হতো।

মামলায় গনজালেজের পাশাপাশি আরও পাঁচজনের নাম এসেছে। তাঁরা হলেন এরিকা ড্যানিয়েলস, ক্রেইসে আলেহান্দ্রো, আমারা পিউ, জেসিকা টাভারেস ও জেলিন হিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ড্যানিয়েলস, আলেহান্দ্রো, টাভারেস ও হিল অর্থের বিনিময়ে গনজালেজের গ্রাহকদের বিয়ে করতেন। অন্যদিকে, পিউ তাঁর প্রতিষ্ঠানে সচিব হিসেবে কাজ করতেন। তদন্তের অংশ হিসেবে অন্তত দুটি বিয়ের ছবি আদালতের নথিতে যুক্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিচ্ছেদের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অন্য বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করতেন, যাতে একই পদ্ধতিতে আরও আবেদন করা যায়।

তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় গনজালেজ বিয়েকে প্রকৃত সম্পর্ক হিসেবে দেখানোর বিভিন্ন কৌশল শেখাতেন। এর মধ্যে যৌথ ব্যাংক হিসাব খোলা, জীবনবিমা করা এবং দম্পতি হিসেবে ছবি তোলার মতো বিষয় ছিল। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি এক গ্রাহকের কাছ থেকে বিয়ের ব্যবস্থা করার জন্য অগ্রিম তিন হাজার ডলার নিয়েছিলেন। অর্থ লেনদেন আড়াল করতে সেটিকে ঋণের চুক্তি হিসেবে দেখানোর নির্দেশ দেওয়ার কথাও নথিতে রয়েছে। এ ছাড়া, বিয়ে বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট মার্কিন নাগরিক বা তাঁদের ঘনিষ্ঠ কাউকে মাসে ৫০০ ডলার করে দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

মার্কিন অ্যাটর্নি লিয়া ফোলির ভাষ্য অনুযায়ী, গনজালেজ কথিত এই কার্যক্রম থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে ব্যবসা ও জমি কেনার কাজে বিনিয়োগ করেছিলেন। তদন্তের সময় এক সহযোগী সাক্ষীর সঙ্গে তাঁর কথোপকথন রেকর্ড করা হয়। সেখানে তিনি ম্যাসাচুসেটসে অভিবাসীদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করেছিলেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। ফোলির দাবি, ২০২৪ সালের শেষ দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনরায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনার কারণে তিনি ভুয়া বিয়ের আয়োজন কমিয়ে দেন এবং ২০২৫ সালে কার্যক্রম বন্ধ করেন। তবে এসব বক্তব্য ও অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি।

এ ঘটনায় সরকারি খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি থেকেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত গনজালেজ যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূরক পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি বা এসএনএপি থেকে এক লাখ ২৪ হাজার ডলারের বেশি পেয়েছেন। আবেদনে নিজের কথিত ব্যবসার আয় ও পরিবারের সদস্যদের তথ্য গোপন করার অভিযোগও আনা হয়েছে। ২১ অক্টোবর গনজালেজ, পিউ, টাভারেসসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপর অভিযুক্ত হিল আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অপরাধে আগে থেকেই অঙ্গরাজ্যের কারাগারে রয়েছেন। মামলাটির তদন্ত চলছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত সবাই আইন অনুযায়ী নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ফক্স নিউজ।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার