বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন অভিবাসী ভিসায় নতুন জটিলতা, আবেদন পুনর্বিবেচনায় স্থগিতাদেশ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৬ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত রাখার বিতর্কিত নীতি অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখেছে দেশটির আপিল আদালত। তবে ওই নীতির কারণে বাতিল হওয়া ভিসার আবেদনগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য নিম্ন আদালত যে নির্দেশ দিয়েছিল, তার ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সার্কিট আপিল আদালতের দেওয়া এই আদেশের ফলে ভিসা-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারের করা স্থগিতাদেশের আবেদনটি বর্তমানে তিন বিচারকের একটি প্যানেলে পাঠানো হয়েছে এবং তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত পূর্বে প্রত্যাখ্যাত আবেদনগুলোর আইনি অবস্থান আপাতত অনিশ্চিতই থাকছে।
গত ২১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের একটি ফেডারেল আদালত ‘ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক (ক্লিনিক) বনাম রুবিও’ মামলার রায়ে ভিসা স্থগিতাদেশ নীতিকে মার্কিন সরকারের আইনগত ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন বলে অবৈধ ঘোষণা করে।
পরবর্তীতে ২৪ আগস্ট আদালত ওই নীতির কারণে বাতিল হওয়া আবেদনগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এই ৭৫টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং ২৮ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়েছিল যে, ২১ আগস্ট থেকে ওই নীতি আর কার্যকর নেই।
তবে আপিল আদালতের নতুন আদেশের ফলে নীতিটি অবৈধ হিসেবে বাতিল থাকলেও, প্রত্যাখ্যাত ভিসা আবেদনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বিবেচনার সুযোগ আপাতত স্থগিত হয়ে গেল।
এই আইনি টানাপোড়েনের মধ্যে ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণগুলো আলাদাভাবে মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে আবেদনকারীর আর্থিক সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আশঙ্কায় ‘পাবলিক চার্জ’ বা ২১২(এ)(৪) ধারায় ভিসা প্রত্যাখ্যান এবং ২২১(জি) ধারায় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বা অতিরিক্ত কাগজপত্রের জন্য ভিসা স্থগিতের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
তাই আপিল আদালতের সর্বশেষ আদেশের অর্থ এই নয় যে, সব বাংলাদেশি অভিবাসী ভিসা আবেদন নতুন করে স্থগিত হয়ে গেছে কিংবা পাবলিক চার্জের কারণে প্রত্যাখ্যাত আবেদনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেক আবেদনকারীকে তাদের ভিসা প্রত্যাখ্যানপত্রের ধারা, প্রকৃত কারণ ও দূতাবাসের নির্দিষ্ট নির্দেশনা বিবেচনা করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে হবে।