বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল!
বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য কী জানা জরুরি?
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৯ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা যাচাই ও বাতিলের কার্যক্রম জোরদার করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রশাসনের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা, আইন লঙ্ঘন এবং ভিসা-সংক্রান্ত জালিয়াতির মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে ভিসা বাতিলের সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই সংখ্যা বেড়ে ৩ লাখের বেশি হয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যানের মধ্যে কোন দেশের কতজন নাগরিক রয়েছেন, কতটি শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হয়েছে কিংবা কতজন বাংলাদেশি এর আওতায় পড়েছেন—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ভিসা বাতিলের এই কার্যক্রমের প্রভাব বিদেশি শিক্ষার্থী, কর্মী, পর্যটক এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি থাকা অন্যান্য বিদেশি নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসন জানিয়েছে, ভিসার শর্ত ভঙ্গ, আইনগত সমস্যা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের মতো বিষয়গুলো যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা বাতিলের বিষয়টি নিয়ে অভিবাসন অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত কঠোর যাচাইয়ের কারণে বৈধ ভিসাধারীরাও সমস্যায় পড়তে পারেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো, ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকানো এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও ভ্রমণপ্রত্যাশীদের জন্য এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসার ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা। শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারীদের অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকা, প্রয়োজনীয় একাডেমিক শর্ত পূরণ করা এবং অনুমতি ছাড়া কাজ না করার মতো শর্তগুলো গুরুত্বের সঙ্গে অনুসরণ করা উচিত। কর্মভিসাধারীদেরও নিজ নিজ ভিসার শর্ত ও অনুমোদিত কর্মসংস্থানের সীমা মেনে চলতে হবে।
এ ছাড়া ভিসার আবেদন করার সময় সঠিক তথ্য দেওয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো নথিতে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে আবেদনপত্রের তথ্যের অসামঞ্জস্য থাকলে অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।