Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

বিশ্বে বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে ১৫ ঘণ্টায় ২২৬ কিমি. সাঁতার

সাইক্লিং ও দৌড় শেষ করলেন সাজিয়া

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৪ এএম

বিশ্বে বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে ১৫ ঘণ্টায় ২২৬ কিমি. সাঁতার

বিজ্ঞাপন

সাইকেল দুর্ঘটনায় বুড়ো আঙুল ভাঙে, আঘাত পান মাথা ও হাঁটুতেও। তবু দক্ষিণ কোরিয়ায় পূর্ণদূরত্বের আয়রনম্যান প্রতিযোগিতা শেষ করেছেন বাংলাদেশের সাজিয়া সুলতানা হ্যাপি। গত ৪ অক্টোবর গুর্যে কাউন্টিতে ১৫ ঘণ্টা ১৬ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডে ২২৬ কিলোমিটারের এই প্রতিযোগিতা শেষ করেন তিনি। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ণদূরত্বের আয়রনম্যান শেষ করা বাংলাদেশের প্রথম নারী তিনি।

ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) জ্যেষ্ঠ প্রিন্সিপাল অফিসার সাজিয়া দুই সন্তানের মা। পেশাগত দায়িত্ব ও পারিবারিক ব্যস্ততার পাশাপাশি ট্রায়াথলনের প্রস্তুতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই অর্জন তাঁর ক্রীড়াজীবনে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ফ্রান্সের নিসে আয়রনম্যান ৭০.৩ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপও শেষ করেছিলেন তিনি।

পূর্ণদূরত্বের আয়রনম্যান প্রতিযোগিতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনটি ধাপ শেষ করতে হয়। প্রথমে ৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার সাঁতার, এরপর ১৮০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং সবশেষে ৪২ দশমিক ২ কিলোমিটার দৌড়। সব মিলিয়ে দূরত্ব প্রায় ২২৬ কিলোমিটার।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিযোগিতায় সাজিয়া এই তিনটি ধাপই সম্পন্ন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখা, শক্তি ও গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ক্লান্তির সঙ্গে লড়াই করা এ ধরনের প্রতিযোগিতার বড় চ্যালেঞ্জ। সাজিয়া ১৫ ঘণ্টা ১৬ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডে ফিনিশিং লাইনে পৌঁছে নিজের লক্ষ্য পূরণ করেন।

প্রতিযোগিতার সাইক্লিং অংশে প্রায় ৪০ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর দুর্ঘটনার শিকার হন সাজিয়া। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় বুড়ো আঙুল ভেঙে যায় এবং মাথা ও হাঁটুতেও আঘাত লাগে। প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি প্রতিযোগিতা চালিয়ে যান। ১৮০ কিলোমিটার সাইক্লিং শেষ করে তাঁকে আরও ৪২ দশমিক ২ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করতে হয়।

আঘাতের পরও ফিনিশিং লাইনে পৌঁছানোর ঘটনা তাঁর প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতাকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। তবে গুরুতর আঘাতের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। আয়রনম্যানের মতো দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সময় শারীরিক অবস্থার প্রতি সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিযোগিতার মাত্র তিন সপ্তাহ আগে, ১২ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের নিসে আয়রনম্যান ৭০.৩ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ করেন সাজিয়া। সেখানে তাঁর সময় ছিল ৭ ঘণ্টা ৫১ মিনিট ৭ সেকেন্ড। এই প্রতিযোগিতায় ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার সাঁতার, ৯০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং ২১ দশমিক ১ কিলোমিটার দৌড়, সব মিলিয়ে প্রায় ১১৩ কিলোমিটার অতিক্রম করতে হয়।

সাজিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, আয়রনম্যান ৭০.৩ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ করা প্রথম বাংলাদেশি নারীও তিনি। অল্প সময়ের ব্যবধানে ফ্রান্সের অর্ধদূরত্বের প্রতিযোগিতা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্ণদূরত্বের আয়রনম্যান শেষ করা তাঁর প্রস্তুতি ও সহনশীলতার বড় পরীক্ষা ছিল।

সাজিয়ার ট্রায়াথলন যাত্রা শুরু হয় ২০২৫ সালে। এর আগে কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের খেলাধুলায় উৎসাহ দেওয়া এবং তাঁদের প্রতিযোগিতায় যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর। ধীরে ধীরে নিজেও দৌড়, সাঁতার ও সাইক্লিংয়ের অনুশীলনে যুক্ত হন। সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি ঘরে অনুশীলনের সুযোগও কাজে লাগিয়েছেন তিনি।

২০২৬ সালে জাতীয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতায় সপ্তম স্থান অর্জনের পর আন্তর্জাতিক ট্রায়াথলনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি জোরদার করেন সাজিয়া। মে মাসে চীনের সাংহাইয়ে আয়রনম্যান ৭০.৩ প্রতিযোগিতা শেষ করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এরপর ফ্রান্সের নিসে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় পূর্ণদূরত্বের আয়রনম্যান শেষ করেন।

আইসিবিতে জ্যেষ্ঠ প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি দুই সন্তানের দেখাশোনাও করতে হয় সাজিয়াকে। ভোরে অনুশীলন, সন্তানদের স্কুলের প্রস্তুতি, অফিসের দায়িত্ব এবং দিনের শেষে সংসার সামলানোর মধ্যেই খেলাধুলার জন্য সময় বের করেন তিনি। নিয়মিত অনুশীলন ও সময় ব্যবস্থাপনা তাঁর প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সাজিয়া চান, তাঁর অর্জন আরও নারীদের শরীরচর্চা ও খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলুক। বয়স, পেশা কিংবা পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যেও পরিকল্পিতভাবে খেলাধুলায় যুক্ত হওয়ার অনুপ্রেরণা দিতে চান তিনি। বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে পূর্ণদূরত্বের আয়রনম্যান শেষ করার তাঁর এই অর্জন দেশের নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার