Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে ৩শহরের নির্বাচনে লড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী

Icon

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৪ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে ৩শহরের নির্বাচনে লড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের তিন শহরের সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিন প্রার্থী—সাজিয়া হক, মোহাম্মদ রহমান ও এম এস আলম। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তাঁরা নিজ নিজ শহরের কাউন্সিল আসনে জয়ী হওয়ার জন্য প্রচার চালাচ্ছেন। প্রথম আলো ও বাংলা বুলেটিনের প্রতিবেদনে তাঁদের বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।

প্রার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শহরগুলোর সরকারি নির্বাচনী তথ্যের সঙ্গেও মিলে যায়। তবে সরকারি নথি মূলত প্রার্থিতা ও নির্বাচনী এলাকার তথ্য নিশ্চিত করে; জাতিগত বা পারিবারিক পরিচয় সব ক্ষেত্রে নথিভুক্ত করে না।

সাজিয়া হক লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মন্টেবেলো শহরের ডিস্ট্রিক্ট ১ থেকে প্রার্থী হয়েছেন। মন্টেবেলো শহরের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রার্থীদের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। একই আসনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জর্জিনা তামায়ো, কিম্বারলি কোবোস ক্যাথর্ন ও রাফায়েল সান্তোয়া। প্রথম আলোকে দেওয়া বক্তব্যে সাজিয়া মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে নগর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, দায়িত্বশীল বাজেট ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পাড়া-মহল্লা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহায়তা।

মোহাম্মদ রহমান রিভারসাইড কাউন্টির পেরিস শহরের ডিস্ট্রিক্ট ১ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পেরিস শহরের সরকারি নির্বাচনী পাতায় তাঁর নাম প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাঁর নির্বাচনী প্রচারে সাশ্রয়ী আবাসন, জননিরাপত্তা, ছোট ব্যবসার বিকাশ এবং তরুণদের জন্য সুযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

অন্যদিকে, এম এস আলম সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির চিনো শহরের ডিস্ট্রিক্ট ৩ থেকে প্রার্থী হয়েছেন। চিনো শহরের সরকারি নির্বাচনী পাতায় তাঁর প্রার্থিতার তথ্য রয়েছে। ওই আসনে বর্তমান কাউন্সিল সদস্য মার্ক লুসিওর সঙ্গে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আলমের নির্বাচনী অঙ্গীকারে পরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন, অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং নগরসেবা উন্নত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

স্থানীয় বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সদস্যরা প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে সহায়তা করছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁদের কেউ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন, কেউ তহবিল সংগ্রহে অংশ নিচ্ছেন, আবার কেউ প্রচারের কাজে সময় দিয়ে সমর্থন জানাচ্ছেন। তবে এই সহায়তার পরিমাণ বা সমর্থকের সংখ্যা সম্পর্কে এখানে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে সিটি কাউন্সিল স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। নগর বাজেট, সড়ক ও অবকাঠামো, আবাসন, জননিরাপত্তা, স্থানীয় ব্যবসা এবং বিভিন্ন পৌরসেবার মতো বিষয় কাউন্সিলের কাজের সঙ্গে যুক্ত। ফলে স্থানীয় নির্বাচনে অভিবাসী ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব কমিউনিটির চাহিদা তুলে ধরার একটি পথ হতে পারে।

তবে তিন প্রার্থীর নির্বাচনী ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। ৩ নভেম্বরের ভোটের পর সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের ঘোষিত ফলাফলের ভিত্তিতেই তাঁদের জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে। প্রার্থীদের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরিচয় সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমের তথ্য থাকলেও, সেটিকে তিনজনের ক্ষেত্রেই সরকারি নথিতে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার