Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক পর্যটন অঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন পরিচিতি, এশিয়ার দূত নিযুক্ত হলেন বাংলাদেশী ডাল্টন জহির

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৮ এএম

আন্তর্জাতিক পর্যটন অঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন পরিচিতি, এশিয়ার দূত নিযুক্ত হলেন বাংলাদেশী ডাল্টন জহির

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের পর্যটন ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, যিনি ডাল্টন জহির নামে পরিচিত, আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির (সিআইএফএফটি) এশিয়া অঞ্চলের দূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা থেকে ২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর এ নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা অনুযায়ী, পর্যটন, আতিথেয়তা ও গণমাধ্যমে ২৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডাল্টন জহির এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পর্যটন সংস্থা, চলচ্চিত্র নির্মাতা, সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করবেন।

এই নিয়োগের মাধ্যমে এশিয়ার পর্যটনকেন্দ্র ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে চলচ্চিত্র, ভিডিও এবং অন্যান্য দৃশ্যভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগে নতুন দায়িত্ব পেলেন তিনি। একই সঙ্গে এশিয়ার পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করাও তাঁর কাজের অংশ হবে।

সিআইএফএফটির পরিচালক আলেকজান্ডার ভি. কামেল জানিয়েছেন, ডাল্টন জহিরের নিয়োগ এশিয়ায় সংস্থাটির কার্যক্রম বিস্তৃত করা এবং মানসম্মত পর্যটন চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রচারের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ।

ডাল্টন জহিরের নতুন দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পর্যটন বোর্ড, সরকারি প্রতিষ্ঠান, চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা, সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় এশিয়ার নির্মাতা ও পর্যটন প্রচারক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করবেন তিনি। ভিয়েনায় অবস্থিত সিআইএফএফটির প্রধান কার্যালয় এবং এশিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগের সেতু হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।

ডাল্টন জহিরের পেশাগত অভিজ্ঞতা পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের পাশাপাশি গণমাধ্যম এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও বিস্তৃত। তিনি ব্র্যাক সার্ভিসেস লিমিটেডের হোটেল গোষ্ঠীতে বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ, ওশান প্যারাডাইস, লেকশোর হোটেল এবং রোজ ভিউ হোটেলের মতো প্রতিষ্ঠানে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

পর্যটন ও গণমাধ্যমভিত্তিক উদ্যোগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। ট্রাভেলারকি, ইউরোপকি, ট্রাভেলারটাইমস ও ওয়েলকাম বাংলাদেশ নামের উদ্যোগগুলোর প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে তিনি রয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নকারীদের সংগঠনের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সিআইএফএফটি আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোর মধ্যে যোগাযোগ এবং সহযোগিতা গড়ে তোলার জন্য কাজ করে। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা, যা বর্তমানে ‘ইউএন ট্যুরিজম’ নামে পরিচিত, তার সহযোগী সদস্য হিসেবে সংস্থাটি আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্রের প্রচার ও স্বীকৃতি নিয়ে কাজ করছে। এর কার্যক্রমের সঙ্গে বিশ্ব পর্যটন চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসবের নেটওয়ার্ক যুক্ত রয়েছে।

বর্তমানে পর্যটন প্রচারে চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একটি দেশের সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বনাঞ্চল, ঐতিহাসিক স্থাপনা, খাবার ও স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে আকর্ষণীয় দৃশ্যভিত্তিক উপস্থাপনা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে দেশটিকে পরিচিত করতে পারে। বাংলাদেশের কক্সবাজার, সুন্দরবন, পার্বত্য অঞ্চল, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রচারপদ্ধতি প্রাসঙ্গিক।

তবে ডাল্টন জহিরের এই নিয়োগের ফলে বাংলাদেশে কতসংখ্যক বিদেশি পর্যটক বাড়বে, কী পরিমাণ বিনিয়োগ আসবে কিংবা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে—এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা নিশ্চিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর নতুন দায়িত্বের বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে ভবিষ্যতের কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব এবং পর্যটন প্রচারে অর্জিত ফলাফলের ওপর।

আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত এশীয় প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর এই উদ্যোগে বাংলাদেশের একজন পর্যটন পেশাজীবী গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক দায়িত্ব পেয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার