বিজ্ঞাপন
মোদির বাসভবনের পাশের ঐতিহাসিক মসজিদ ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নির্দেশ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২২ এএম
বিজ্ঞাপন
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিল্লির ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস মসজিদটিকে অনুমোদনহীন স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করে উচ্ছেদের নোটিশ জারি করে। অথচ নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় মসজিদটির নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, মসজিদটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গের কাছে অবস্থিত। সরকারি জমিতে অনুমোদন ছাড়া স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস।
কর্তৃপক্ষের এই দাবির বিপরীতে মসজিদটির ঐতিহাসিক মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় রেসকোর্স মসজিদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে বর্তমানে সেই তালিকাভুক্তির বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর থেকে মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মুসল্লিদের নামাজ আদায় এবং মসজিদে যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
মসজিদটির পাশাপাশি সংলগ্ন কবরস্থান রক্ষার দাবিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে।
প্রতিনিধিদলের সদস্য মোহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসমি জানিয়েছেন, ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেট এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় রেসকোর্স মসজিদের উল্লেখ রয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃত একটি মসজিদকে অনুমোদনহীন আখ্যা দিয়ে উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়ার আগে এর আইনি অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মসজিদটির বিরুদ্ধে কোনো ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড ও নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।
দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। মসজিদটির সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে মসজিদটি রক্ষায় দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইমাম মোহাম্মদ হারুন।
দ্য হিন্দুস্তান গেজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক ভিডিওবার্তায় ইমাম অভিযোগ করেন, গত ছয় মাস ধরে ওয়াকফ বোর্ডের কাছে সহায়তা চেয়েও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাননি তিনি।
ইমামের ভাষ্য অনুযায়ী, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলকে একটি চিঠি দেওয়া ছাড়া বোর্ড আর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মসজিদে প্রবেশের পথ বন্ধ থাকায় বর্তমানে খাবার পানিও ভেতরে নেওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওয়াকফ বোর্ডকে আদালতে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন তিনি।
মোহাম্মদ হারুনের দাবি, বোর্ড নিজে মামলা করেনি। এমনকি তিনি ব্যক্তিগতভাবে মামলা করার অনুমতি চাইলেও তাঁকে সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ইমাম আরও জানান, ২০২১ সালে পরিচালিত একটি সরকারি জরিপে মসজিদটিকে অনুমোদনহীন কিংবা জবরদখল করা স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে তাঁর এসব দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
রেসকোর্স মসজিদ খালি করার নোটিশ এমন সময়ে দেওয়া হয়েছে, যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনসংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা চলছে।
দ্য হিন্দুস্তান গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ও সৌন্দর্যবর্ধনের স্বার্থে ওই এলাকার বস্তিবাসীদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগে দিল্লি হাইকোর্ট অনুমোদন দিয়েছেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরের সাভদা ঘেভরা পুনর্বাসন কলোনিতে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে শিক্ষা, পরিবহন ও পয়োনিষ্কাশনের মতো মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
তবে বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনসংক্রান্ত এই নির্দেশ এবং ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ খালি করার নোটিশ পৃথক বিষয়। মসজিদটির আইনি অবস্থান ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতির প্রশ্ন এখনো আলোচনার মধ্যে রয়েছে।
ছয় দিনের মধ্যে মসজিদ খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলেও এর বিরুদ্ধে আদালতে কোনো নতুন আবেদন করা হয়েছে কি না কিংবা কর্তৃপক্ষ পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।