Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের ট্যাক্স রিটার্ন: যেসব নিয়ম জানা জরুরি

Icon

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের ট্যাক্স রিটার্ন: যেসব নিয়ম জানা জরুরি

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ২০২৭ সালের আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত করার আগে আয়ের হিসাব, কর জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা, বিদেশি ব্যাংক হিসাব, কর ছাড় এবং সন্তানদের জন্য প্রযোজ্য সুবিধা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। ২০২৭ সালে সাধারণত ২০২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। তবে করদাতার আয়, করের হিসাবে আবাসিক পরিচয়, আয়ের উৎস ও পারিবারিক অবস্থার ভিত্তিতে নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।

২০২৬ করবর্ষে কর ছাড় ও আয়সীমা

২০২৬ করবর্ষে একক করদাতার জন্য স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন ১৬ হাজার ১০০ ডলার এবং বিবাহিত দম্পতির যৌথ রিটার্নের ক্ষেত্রে ৩২ হাজার ২০০ ডলার। তাই ২০২৭ সালে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট করবর্ষের অঙ্ক ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেই প্রত্যেককে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয় না। মোট আয়, বয়স, ফাইলিং স্ট্যাটাস, অন্য কারও নির্ভরশীল হিসেবে গণ্য হওয়া এবং করের হিসাবে আবাসিক পরিচয়ের ওপর রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নির্ভর করে।

উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ করবর্ষে ৬৫ বছরের কম বয়সী এবং অন্য কারও নির্ভরশীল নন, এমন একক করদাতার সাধারণ ফাইলিং সীমা ছিল ১৫ হাজার ৭৫০ ডলার। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে এর চেয়ে কম আয় হলেও রিটার্ন জমা দিতে হতে পারে।

স্বনিযুক্ত কাজ, ফ্রিল্যান্সিং কিংবা ছোট ব্যবসা থেকে বছরে নিট আয় ৪০০ ডলার বা তার বেশি হলে সাধারণভাবে রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। ফলে নিয়মিত চাকরি থেকে আয় কম হলেও স্বাধীনভাবে কাজ করে পাওয়া অর্থের হিসাব রাখা জরুরি। করের হিসাবে অনাবাসীদের জন্য পৃথক নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।

আইটিআইএন থাকলেই কাজের অনুমতি পাওয়া যায় না

ব্যক্তিগত কর শনাক্তকরণ নম্বর বা আইটিআইএন ফেডারেল করসংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত হয়। যাঁরা সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর পাওয়ার যোগ্য নন, তাঁদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে করসংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের জন্য এই নম্বর প্রয়োজন হতে পারে।

তবে আইটিআইএন পাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমতি পাওয়া নয়। এটি কোনো ব্যক্তির অভিবাসন পরিচয় বা অবস্থার পরিবর্তনও ঘটায় না। কর রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা এবং আইনগতভাবে কাজ করার অনুমতি দুটি পৃথক বিষয়।

বাংলাদেশে আয় ও ব্যাংক হিসাব থাকলে করণীয়

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং করের হিসাবে আবাসিক ব্যক্তিদের সাধারণভাবে বিশ্বব্যাপী আয় রিটার্নে দেখাতে হয়। ফলে বাংলাদেশে ব্যাংকের সুদ, বাড়িভাড়া কিংবা অন্য কোনো উৎস থেকে আয় থাকলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী তা মার্কিন কর রিটার্নে অন্তর্ভুক্ত করতে হতে পারে।

বিদেশি আয় ঘোষণা করা এবং বিদেশে থাকা আর্থিক হিসাবের তথ্য জমা দেওয়া পৃথক দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে বিদেশি ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত প্রতিবেদন বা এফবিএআর নিয়মটি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রযোজ্য মার্কিন ব্যক্তির বিদেশি আর্থিক হিসাবগুলোর সম্মিলিত মূল্য ক্যালেন্ডার বছরের যেকোনো সময়ে ১০ হাজার ডলারের বেশি হলে সাধারণভাবে এফবিএআর জমা দিতে হয়। একাধিক ব্যাংক হিসাব থাকলে সেগুলোর সম্মিলিত মূল্য বিবেচনা করা হয়। এ প্রতিবেদন ফিনসেন ফর্ম ১১৪-এর মাধ্যমে আলাদাভাবে জমা দিতে হয়।

বাংলাদেশে নিজের নামে সরাসরি জমি বা ফ্ল্যাট থাকলেই সেটি এফবিএআর কিংবা ফর্ম ৮৯৩৮-এ দেখাতে হবে, এমন নয়। সরাসরি মালিকানাধীন স্থাবর সম্পত্তি এবং বিদেশি আর্থিক হিসাবের নিয়ম আলাদা। তবে সম্পত্তি কোনো বিদেশি কোম্পানি, অংশীদারি প্রতিষ্ঠান বা ট্রাস্টের মাধ্যমে রাখা হলে মালিকানার ধরন অনুযায়ী পৃথক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে।

বিদেশি আর্থিক সম্পদের তথ্য জানানোর ক্ষেত্রে ফর্ম ৮৯৩৮-এর নিয়মও আলাদা। সম্পদের মূল্য, করদাতার ফাইলিং স্ট্যাটাস এবং যুক্তরাষ্ট্রে বা দেশের বাইরে বসবাসের ভিত্তিতে এ ফর্ম জমা দেওয়ার সীমা নির্ধারিত হয়। ফলে এফবিএআর জমা দিলেই ফর্ম ৮৯৩৮-এর দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। আবার সম্পদের তথ্য জানাতে হয় বলেই তার সমপরিমাণ অর্থের ওপর নতুন করে কর দিতে হবে, এমনটিও নয়।

সন্তানদের জন্য কর সুবিধা ও ক্রেডিট

সন্তানদের জন্য কর সুবিধা দাবি করার আগে সংশ্লিষ্ট করবর্ষের নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন। ২০২৫ করবর্ষে যোগ্য প্রতিটি শিশুর জন্য চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটের সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২০০ ডলার। ২০২৬ করবর্ষেও সর্বোচ্চ পরিমাণ ২ হাজার ২০০ ডলার নির্ধারিত রয়েছে।

তবে সর্বোচ্চ ক্রেডিটের অঙ্ক জানলেই সমপরিমাণ অর্থ ফেরত পাওয়া নিশ্চিত হয় না। শিশুর যোগ্যতা, পরিবারের আয় এবং প্রযোজ্য সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরের শর্ত পূরণ করতে হবে।

আর্নড ইনকাম ট্যাক্স ক্রেডিটের পরিমাণও আয় ও পারিবারিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। ২০২৫ করবর্ষে তিন বা তার বেশি যোগ্য সন্তান থাকা করদাতাদের জন্য সর্বোচ্চ ক্রেডিট ছিল ৮ হাজার ৪৬ ডলার। ২০২৬ করবর্ষে তা বেড়ে ৮ হাজার ২৩১ ডলার হয়েছে। যোগ্য সন্তানের সংখ্যা, আয়, ফাইলিং স্ট্যাটাস এবং সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরের শর্ত অনুযায়ী প্রকৃত প্রাপ্যতা নির্ধারিত হবে।

স্বাস্থ্যবিমার নথি ও অভিবাসন স্পন্সরশিপ

ট্যাক্স রিটার্ন তৈরির আগে আয়ের প্রমাণ, খরচের নথি এবং প্রযোজ্য কর ছাড় ও ক্রেডিটের কাগজপত্র সংগ্রহ করা উচিত। মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমা নেওয়া থাকলে ফর্ম ১০৯৫-এ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ নথির তথ্য ব্যবহার করে প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিটের সঙ্গে আগাম পাওয়া আর্থিক সহায়তার হিসাব সমন্বয় করতে হয়।

অভিবাসনসংক্রান্ত আর্থিক স্পন্সরশিপের ক্ষেত্রে আগের তিন বছরের ট্যাক্স রিটার্ন সব পরিস্থিতিতে বাধ্যতামূলক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার ফর্ম আই-৮৬৪-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে সর্বশেষ করবর্ষের ফেডারেল আয়কর রিটার্ন বা ট্রান্সক্রিপ্টের তথ্য দিতে হয়। আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণের প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত বছরের নথিও দেওয়া যেতে পারে।

ট্যাক্স প্রস্তুতকারী বাছাইয়ে সতর্কতা

রিটার্ন তৈরির জন্য পেশাদার সহায়তা নিলে প্রস্তুতকারীর যোগ্যতা ও পরিচয় যাচাই করা জরুরি। পারিশ্রমিকের বিনিময়ে রিটার্ন প্রস্তুতকারীকে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রিটার্নে স্বাক্ষর করতে এবং নিজের প্রস্তুতকারক কর শনাক্তকরণ নম্বর বা পিটিআইএন দিতে হয়।

ফাঁকা রিটার্নে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকতে হবে। রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে আয়ের হিসাব, দাবি করা খরচ, কর ক্রেডিট এবং রিফান্ড পাওয়ার জন্য দেওয়া ব্যাংক হিসাবের তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। জমা দেওয়া রিটার্নের একটি কপিও সংরক্ষণ করা উচিত।

ব্যক্তিগত আয়, বিদেশি সম্পদ, অভিবাসন পরিচয় কিংবা একাধিক দেশের করসংক্রান্ত জটিলতা থাকলে যোগ্য সনদপ্রাপ্ত পাবলিক অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা এনরোলড এজেন্টের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার