Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

আমেরিকায় ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেয়ার আগে জেনে নিন কিছু জরুরি বিষয়

Icon

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৯ এএম

আমেরিকায় ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেয়ার আগে জেনে নিন কিছু জরুরি বিষয়

বিজ্ঞাপন

আমেরিকায় আগামী ট্যাক্স সিজনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বাংলাদেশি করদাতাদের প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে, তাঁরা কোন ট্যাক্স বছরের রিটার্ন জমা দিচ্ছেন। ২০২৭ সালে সাধারণত ২০২৬ সালের আয়ের রিটার্ন জমা দেওয়া হবে। আইআরএসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন সিঙ্গেল ফাইলারের জন্য ১৬ হাজার ১০০ ডলার এবং বিবাহিত দম্পতির যৌথ রিটার্নের ক্ষেত্রে ৩২ হাজার ২০০ ডলার। পুরোনো বছরের অঙ্ক ব্যবহার করলে হিসাব ভুল হতে পারে।

আমেরিকায় থাকলেই সামান্য আয় থেকে সবার ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্ন বাধ্যতামূলক হয় না। আয়, বয়স, ফাইলিং স্ট্যাটাস, অন্যের ডিপেনডেন্ট কি না এবং করের হিসাবে রেসিডেন্ট বা ননরেসিডেন্ট হওয়ার ভিত্তিতে নিয়ম আলাদা হয়। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ সালে ৬৫ বছরের কম বয়সী, অন্যের ডিপেনডেন্ট নন এমন সিঙ্গেল করদাতার সাধারণ ফাইলিং সীমা ছিল ১৫ হাজার ৭৫০ ডলার। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে এর চেয়ে কম আয়েও রিটার্ন জমা দিতে হয়।

বিশেষ করে স্বনিযুক্ত কাজ বা ছোট ব্যবসা থেকে নিট আয় বছরে ৪০০ ডলার বা তার বেশি হলে সাধারণভাবে রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। ফলে সাধারণ আয়ের সীমার নিচে থাকলেও ব্যবসা বা স্বাধীনভাবে কাজ করার আয় উপেক্ষা করা যাবে না। ননরেসিডেন্টদের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।

আইটিআইএন নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। এটি ফেডারেল ট্যাক্সের কাজে ব্যবহৃত শনাক্তকরণ নম্বর। আইটিআইএন পাওয়া মানে আমেরিকায় কাজ করার অনুমতি পাওয়া নয়, এটি অভিবাসন স্ট্যাটাসও পরিবর্তন করে না। কারও ট্যাক্স ফাইল করার দায়িত্ব এবং বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি দুটি পৃথক বিষয়।

বাংলাদেশে আয় থাকলেও তা বিবেচনায় নিতে হবে। আইআরএসের নিয়ম অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিক ও করের হিসাবে রেসিডেন্টদের সাধারণভাবে বিশ্বব্যাপী আয় রিটার্নে দেখাতে হয়। বাংলাদেশের ব্যাংকের সুদ বা বাড়িভাড়া থেকে আয় থাকলে সেটি প্রযোজ্য নিয়মে রিপোর্ট করতে হতে পারে। বিদেশি আয় রিপোর্ট করা এবং বিদেশি অ্যাকাউন্টের তথ্য জমা দেওয়া পৃথক দায়িত্ব।

বিদেশি অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ফিনসেনের এফবিএআর নিয়ম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রযোজ্য মার্কিন ব্যক্তির বিদেশি আর্থিক অ্যাকাউন্টগুলোর সম্মিলিত মূল্য ক্যালেন্ডার বছরের কোনো সময়ে ১০ হাজার ডলার ছাড়ালে এফবিএআর জমা দিতে হয়। সীমাটি শুধু একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের জন্য নয়। একাধিক রিপোর্টযোগ্য অ্যাকাউন্টের মোট মূল্য বিবেচনায় নিতে হয়। এটি ফিনসেন ফর্ম ১১৪ দিয়ে আলাদাভাবে জমা দেওয়া হয়।

তবে বাংলাদেশে নিজের নামে সরাসরি জমি বা ফ্ল্যাট থাকলেই সেই সম্পত্তি এফবিএআর কিংবা ফর্ম ৮৯৩৮ এ দেখাতে হবে, এমন নয়। সরাসরি মালিকানাধীন স্থাবর সম্পত্তি এবং বিদেশি আর্থিক অ্যাকাউন্ট এক বিষয় নয়। সম্পত্তি কোনো বিদেশি কোম্পানি বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাখা হলে সেই প্রতিষ্ঠানে মালিকানার অংশের জন্য আলাদা রিপোর্টিংয়ের প্রশ্ন আসতে পারে।

ফ্যাটকার আওতায় ফর্ম ৮৯৩৮ এর শর্তও এফবিএআর থেকে আলাদা। নির্দিষ্ট বিদেশি আর্থিক সম্পদের মূল্য, ফাইলিং স্ট্যাটাস ও করদাতা কোথায় বসবাস করেন, তার ওপর এই ফর্ম জমা দেওয়ার সীমা নির্ভর করে। একটি ফর্ম জমা দিলেই অন্যটির দায়িত্ব শেষ হয় না। আবার তথ্য রিপোর্ট করার প্রয়োজন মানেই একই অঙ্কের ওপর নতুন করে ট্যাক্স ধার্য হওয়া নয়।

সন্তানসংক্রান্ত ট্যাক্স ক্রেডিটের ক্ষেত্রেও সঠিক বছরের নিয়ম দেখা জরুরি। আইআরএসের হিসাবে ২০২৫ সালে যোগ্য প্রতিটি শিশুর জন্য চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটের সর্বোচ্চ অঙ্ক ছিল ২ হাজার ২০০ ডলার। ২০২৬ সালের জন্যও সর্বোচ্চ অঙ্ক ২ হাজার ২০০ ডলার নির্ধারিত রয়েছে। তবে সর্বোচ্চ ক্রেডিট মানেই সবাই সমপরিমাণ নগদ রিফান্ড পাবেন না। আয়, শিশুর যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের শর্ত পূরণ করতে হবে।

আর্নড ইনকাম ট্যাক্স ক্রেডিটের অঙ্কও সবার জন্য এক নয়। ২০২৬ সালে তিন বা তার বেশি যোগ্য সন্তান থাকা করদাতাদের জন্য সর্বোচ্চ ক্রেডিট ৮ হাজার ২৩১ ডলার। ২০২৫ সালে এই সর্বোচ্চ অঙ্ক ছিল ৮ হাজার ৪৬ ডলার। আয়, ফাইলিং স্ট্যাটাস, যোগ্য সন্তানের সংখ্যা ও সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের শর্ত অনুযায়ী প্রাপ্যতা নির্ধারিত হয়।

রিটার্ন তৈরির আগে প্রযোজ্য আয়ের কাগজপত্র এবং ক্রেডিট বা ডিডাকশনের প্রমাণ সংগ্রহ করা প্রয়োজন। মার্কেটপ্লেস থেকে হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেওয়া থাকলে ফর্ম ১০৯৫ এ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিটের সঙ্গে আগাম পাওয়া সহায়তার হিসাব মিলিয়ে নিতে হয়।

অভিবাসনসংক্রান্ত স্পন্সরশিপের ক্ষেত্রেও তিন বছরের ট্যাক্স রিটার্ন সব সময় জমা দিতেই হবে, এমন সাধারণ নিয়ম নেই। ইউএসসিআইএসের ফর্ম আই ৮৬৪ এর নির্দেশনায় সর্বশেষ ট্যাক্স বছরের রিটার্ন বা ট্রান্সক্রিপ্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। আর্থিক সক্ষমতা বোঝাতে প্রয়োজন অনুযায়ী আগের বছরের তথ্যও দেওয়া যায়।

সবশেষে ট্যাক্স প্রিপেয়ারার বাছাইয়ের সময় যোগ্যতা ও পরিচয় যাচাই করা জরুরি। আইআরএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, পারিশ্রমিকের বিনিময়ে রিটার্ন প্রস্তুতকারীকে রিটার্নে সই করতে এবং নিজের পিটিআইএন দিতে হয়। ফাঁকা রিটার্নে সই করা যাবে না। জমা দেওয়ার আগে আয়, দাবি করা খরচ, ক্রেডিট ও রিফান্ডের ব্যাংক তথ্য নিজে পড়ে দেখে রিটার্নের কপি সংরক্ষণ করতে হবে। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি জটিল হলে সিপিএ বা এনরোলড এজেন্টের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার