বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্কে লাখো মানুষের স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ঝুঁকি
২০২৭ সাল থেকে বদলাচ্ছে মেডিকেইডের নিয়ম
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫০ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরীতে সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেইডের নতুন শর্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে ২০২৭ সালে। নগরীর স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নতুন নিয়মের কারণে বিপুলসংখ্যক সুবিধাভোগী স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। যেসব মানুষ নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ ও হাসপাতালের সেবার জন্য এই বিমার ওপর নির্ভর করেন, তাঁদের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সী নির্দিষ্ট কিছু সুবিধাভোগীকে মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, কর্মদক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ অথবা পড়াশোনায় যুক্ত থাকার প্রমাণ দিতে হতে পারে। নির্দিষ্ট আয়ের শর্ত পূরণকারী ব্যক্তি এবং ছাড় পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিরা আলাদা নিয়মের আওতায় থাকতে পারেন। তাই এই শর্ত সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য হবে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়।
নিউইয়র্ক নগরীর স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নিয়মগুলো ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এবং বর্তমানে মেডিকেইড সুবিধা পাওয়া যাঁদের নবায়ন করতে হবে, তাঁদের ক্ষেত্রে ১ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। যাঁদের ওপর নতুন শর্ত প্রযোজ্য হবে, তাঁদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যোগ্যতার প্রমাণ প্রস্তুত রাখতে হবে।
নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো, নিজেদের স্বাস্থ্যবিমার অবস্থা যাচাই করা এবং সরকারি চিঠি বা বিজ্ঞপ্তি উপেক্ষা না করা। ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য হালনাগাদ রাখা উচিত, যাতে নবায়ন বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ সময়মতো পাওয়া যায়। কেউ কাজ করতে অক্ষম হলে, পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণে থাকলে কিংবা অন্য কোনো ছাড়ের যোগ্যতা থাকলে, নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ম জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
নগরীর স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের সহায়তায় তথ্য প্রচার, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় এবং বিমায় নিবন্ধন-সহায়তা বাড়ানোর কাজ চলছে। যাঁরা নতুন নিয়মে প্রভাবিত হতে পারেন, তাঁদের আগেভাগে নিজেদের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তবে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা সবার জন্য একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। কার ওপর কোন নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা ব্যক্তির বয়স, কর্মসংস্থান, আয়, ছাড় পাওয়ার যোগ্যতা এবং বিমার অবস্থার ওপর নির্ভর করবে। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা এবং প্রয়োজনে অনুমোদিত সহায়তাকেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলা জরুরি।