Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

১৯ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট দেরি বা বাতিলে খাবার ও হোটেল খরচ নাও দিতে পারে এয়ারলাইনস

Icon

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪০ এএম

১৯ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট দেরি বা বাতিলে খাবার ও হোটেল খরচ নাও দিতে পারে এয়ারলাইনস

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হলে যাত্রীদের খাবার, হোটেল কিংবা অন্যান্য সহায়তা পাওয়ার সুযোগ কিছু ক্ষেত্রে সীমিত হতে পারে। ১৯ অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন নিয়মে ফ্লাইট বিপর্যয়ের ১০টি কারণকে এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণের বাইরের ঘটনা হিসেবে আলাদা শ্রেণিতে রাখা হচ্ছে। ফলে এসব কারণে যাত্রা ব্যাহত হলে যাত্রীদের জন্য খাবারের ভাউচার, হোটেলে থাকার ব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য সুবিধা পাওয়া কঠিন হতে পারে।

এত দিন কোনো ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হওয়ার কারণ এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণাধীন বলে বিবেচিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল। এর মধ্যে রয়েছে খাবার বা খাবারের ভাউচার, রাতযাপনের জন্য হোটেল এবং বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা। তবে সব এয়ারলাইনসের প্রতিশ্রুতি এক নয়; কোন প্রতিষ্ঠান কী সুবিধা দেবে, তা তাদের প্রকাশিত গ্রাহকসেবা নীতির ওপরও নির্ভর করে।

নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগের ফ্লাইট দেরি ও বাতিলের কারণ নির্ধারণের শ্রেণিবিন্যাসে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর ফলে আগে এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণাধীন ঘটনা হিসেবে গণ্য হতে পারত—এমন কিছু পরিস্থিতি এখন আলাদা শ্রেণিতে পড়বে। যাত্রীদের সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই পরিবর্তন ভ্রমণকারীদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।

ভ্রমণবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ফ্লাইটির প্রতিনিধি ক্যাটি নাস্ট্রো বলেন, এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর কারণে ফ্লাইট ব্যাহত হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া তাদের পক্ষে কঠিন হতে পারে। তবে নতুন শ্রেণিবিন্যাসের ফলে কোন পরিস্থিতিতে যাত্রীরা সহায়তা পাবেন, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

নতুন নিয়মে যেসব ঘটনাকে এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণের বাইরের হিসেবে আলাদা করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত সময়ের বাইরে হঠাৎ প্রয়োজন হওয়া এমন উড়োজাহাজ মেরামত, যা পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় বা ফ্লাইট পরিচালনার আগে করতেই হবে। উচ্ছৃঙ্খল যাত্রীকে উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনা এবং নির্দিষ্ট কিছু চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতিও এই তালিকায় রয়েছে।

এ ছাড়া প্রযোজ্য সাইবার নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার পরও কোনো সাইবার হামলার কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় সমস্যা হলে সেটিও এই শ্রেণিতে পড়তে পারে। কোনো যাত্রীর মৃ ত্যুর পর উড়োজাহাজ পরিষ্কার করার প্রয়োজন, চরম আবহাওয়া বা বাইরের কোনো বস্তুর আঘাতে উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং নাশকতার কারণে সৃষ্ট ক্ষতিও তালিকায় রয়েছে।

ব্যাগেজ ব্যবস্থার এমন ত্রুটির কারণে লাগেজ বা কার্গো পরিবহনে দেরি হলে, যা এয়ারলাইনস বা তাদের ঠিকাদারের নিয়ন্ত্রণে নেই, সেটিও নতুন শ্রেণিবিন্যাসের আওতায় আসবে। একইভাবে ফ্লাইট নিরাপদে পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সরকারি ব্যবস্থায় অপ্রত্যাশিত বন্ধ বা ত্রুটি, নিরাপত্তাজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া উড়োজাহাজের ব্রেক এবং আগ্নেয়গিরির ছাই, বাতাস বা উইন্ড শিয়ারের কারণে বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও এর অন্তর্ভুক্ত।

নাস্ট্রোর মতে, এসব পরিবর্তনের কারণে যাত্রীরা ফ্লাইট বিপর্যয়ের পর কখন এবং কী ধরনের সহায়তা পাবেন, তা বোঝা আগের চেয়ে কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কারণ, সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করেন, উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ এয়ারলাইনসের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। নাস্ট্রো বলেন, এ ধরনের অপ্রত্যাশিত যান্ত্রিক সমস্যার ক্ষেত্রে খাবারের ভাউচার বা অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে কি না, তা শেষ পর্যন্ত এয়ারলাইনসের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে পারে।

ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হলে অতিরিক্ত খরচের পুরোটা যাত্রীকেই বহন করতে হবে—নতুন নিয়মের অর্থ এমন নয়। তবে ভ্রমণকারীদের আগে থেকেই নিজেদের অধিকার ও বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে জানা জরুরি।

নাস্ট্রো যাত্রীদের ভ্রমণের আগে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, যে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে টিকিট কেনা হয়েছে, সেটির সুবিধাগুলো যাচাই করা উচিত। অনেক কার্ডে ফ্লাইট দেরি, যাত্রা বাতিল বা ভ্রমণসূচি ব্যাহত হলে নির্দিষ্ট শর্তে অতিরিক্ত খরচের জন্য বিমা সুবিধা থাকতে পারে। তবে সুবিধার পরিমাণ ও যোগ্যতা কার্ডভেদে আলাদা হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ব্যয়বহুল ভ্রমণের ক্ষেত্রে ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স বা ভ্রমণবিমা বিবেচনা করা যেতে পারে। ফ্লাইট দেরির কারণে হোটেলে অতিরিক্ত রাত থাকতে হলে কিংবা খাবার ও যাতায়াতে বাড়তি অর্থ খরচ হলে উপযুক্ত বিমা পলিসি কিছু ব্যয় সামলাতে সাহায্য করতে পারে। তবে বিমার শর্ত, কোন পরিস্থিতিতে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে এবং কী কী খরচ বাদ থাকবে, তা আগে দেখে নেওয়া জরুরি।

তৃতীয়ত, এয়ারলাইনসের কাছে সহায়তা চাইতে হবে। কোনো যাত্রী মনে করলেও যে তাঁর পরিস্থিতিতে খাবারের ভাউচার বা হোটেল পাওয়ার সুযোগ নেই, তবু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। বিমানবন্দরে গেট এজেন্টের কাছে জানতে চাওয়ার পাশাপাশি এয়ারলাইনসের ফোনসেবা এবং আন্তর্জাতিক ফোন নম্বরেও যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন নাস্ট্রো। একটি মাধ্যমে উত্তর না পেলে অন্য মাধ্যমেও চেষ্টা করতে বলেছেন তিনি।

নাস্ট্রোর ভাষ্য, নতুন নিয়মের কারণে যাত্রীদের ধরে নেওয়া উচিত নয় যে তাঁদের কোনো সুরক্ষাই অবশিষ্ট নেই। কিছু এয়ারলাইনস নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বাধ্যতামূলক সুবিধার বাইরে নিজেদের সদিচ্ছা থেকে খাবার, হোটেল বা অন্য সহায়তা দিতে পারে। তবে এমন সহায়তা নিশ্চিত নয়; তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতি ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে পারে।

ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হলে টিকিটের অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টিও আলাদা করে বুঝতে হবে। যাত্রীদের খরচের জন্য খাবার বা হোটেলের সুবিধা দেওয়া এবং টিকিটের মূল্য ফেরত দেওয়া এক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক যাত্রী সুরক্ষা বিধি অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট তিন ঘণ্টা বা তার বেশি দেরি হলে কোনো যাত্রী ভ্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিলে নির্দিষ্ট শর্তে টিকিটের অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকার থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে যাত্রীকে ভাউচার বা ভবিষ্যৎ ভ্রমণের ক্রেডিট গ্রহণ করতে বাধ্য করা যায় না। চাইলে তিনি বিকল্প ফ্লাইটে পুনরায় বুকিংয়ের ব্যবস্থাও বেছে নিতে পারেন।

ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণ যা-ই হোক, প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী টিকিটের অর্থ ফেরতের অধিকার আলাদা থাকে। তাই খাবার বা হোটেলের খরচ পাওয়া যাবে কি না, সেই প্রশ্নের পাশাপাশি টিকিটের মূল্য ফেরত পাওয়ার যোগ্যতাও যাচাই করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, ১৯ অক্টোবর থেকে কার্যকর নতুন শ্রেণিবিন্যাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিমানযাত্রীদের ফ্লাইট দেরি বা বাতিলের পরিস্থিতিতে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে আরও সচেতন থাকতে হবে। ভ্রমণের আগে ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা ও বিমার শর্ত যাচাই করা, বিমান সংস্থার কাছে সহায়তা চাওয়া এবং প্রয়োজনে বিকল্প যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা বাড়তি খরচ এড়াতে সহায়ক হতে পারে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার