বিজ্ঞাপন
পূজামণ্ডপে মর্মান্তিক বিপর্যয়, পদপিষ্ট হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
দুর্গাপূজার আনন্দের মধ্যে মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এল কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পূজামণ্ডপে। বৃষ্টির মধ্যে অতিরিক্ত ভিড়, হুড়োহুড়ি ও ধাক্কাধাক্কির জেরে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও বহু দর্শনার্থী। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এই ঘটনায় উৎসবের আবহ মুহূর্তের মধ্যে শোক ও আতঙ্কে বদলে যায়।শুক্রবার সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল। এর মধ্যে প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে মণ্ডপের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে ভিড়ের চাপ আরও বেড়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা।
একপর্যায়ে পিছন দিক থেকে ধাক্কা আসতে থাকলে সামনের সারিতে থাকা অনেকে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তাদের ওপর একের পর এক মানুষ পড়ে যাওয়ায় অনেকে নিচে চাপা পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, আটকে পড়া দর্শনার্থীদের উদ্ধার করাও কঠিন হয়ে পড়ে।এক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি তিন বান্ধবীকে নিয়ে মণ্ডপ থেকে বের হচ্ছিলেন। বাইরে বৃষ্টি হওয়ায় অনেকে মণ্ডপের মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময় পিছন থেকে প্রবল ধাক্কা আসে। সামনে থাকা দর্শনার্থীরা পড়ে গেলে তাদের ওপর অন্যরা পড়তে থাকেন। তার তিন বান্ধবীও ভিড়ের নিচে চাপা পড়েন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা মণ্ডপের অন্য একটি অংশ ভেঙে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন।
জরুরি বিভাগে চিকিৎসা পরিষেবা চালু রাখা হয়। ছুটির আবহে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক হাসপাতালে না থাকলেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের অনেকে হাসপাতালে পৌঁছান এবং বাকিরা পথে ছিলেন। খবর পেয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও হাসপাতালে যান।দুর্ঘটনার পর চোরবাগান সর্বজনীনের পূজামণ্ডপ আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিক খবরে জানা গেছে।
চোরবাগানের এই মর্মান্তিক ঘটনা উৎসবের ভিড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায় কার, তা তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। নিহতদের পরিচয়, আহতদের চূড়ান্ত সংখ্যা এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।