বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন স্বাস্থ্যবিমা বিধিনিষেধে বিপাকে শরণার্থী ও বৈধ অভিবাসী পরিবার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৫ এএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি স্বাস্থ্যবিমার নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর শরণার্থী ও বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের একটি অংশ চিকিৎসাসুবিধা হারিয়েছেন। গত ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া এই পরিবর্তনের ফলে যাঁরা আগে সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় চিকিৎসা পেতেন, তাঁদের অনেকেই এখন নতুন করে যোগ্যতা যাচাইয়ের মুখে পড়েছেন। এতে বিশেষ করে স্বল্প আয়ের পরিবার, নিয়মিত ওষুধ ব্যবহারকারী রোগী এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন নিয়মের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে লাখো বৈধ অভিবাসীর সরকারি স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নয়টি অঙ্গরাজ্য ও রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২ লাখ ৮১ হাজারের বেশি অভিবাসী এই পরিবর্তনের কারণে সুবিধা হারাতে পারেন। তবে এটি দেশজুড়ে সব অঙ্গরাজ্যের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নয়।
এই পরিবর্তনের আওতায় পড়তে পারেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কিছু শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী এবং মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি। আগে তাঁদের একটি অংশ নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করে সরকারি স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পেতেন। নতুন নিয়মে শুধু বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করাই সব ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব অভিবাসীর স্বাস্থ্যবিমা বন্ধ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে গ্রিনকার্ডধারীদের অনেকেই অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করলে সুবিধা পেতে পারেন। তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অপেক্ষার সময়সীমা ও ব্যতিক্রমের নিয়মও বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া নির্দিষ্ট শর্তে কিউবা ও হাইতির আগত ব্যক্তি, কিছু প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রের নাগরিক এবং আইনসম্মতভাবে বসবাসকারী কিছু শিশু ও গর্ভবতী নারীও সুবিধার যোগ্য থাকতে পারেন।
সরকারি স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারালে অনেক পরিবারের জন্য চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিমার খরচ অনেকের আয়ের তুলনায় বেশি হওয়ায় কেউ কেউ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া পিছিয়ে দিতে পারেন, আবার কেউ প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে পারেন। স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় কিছু রোগীর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে এবং পরে জরুরি বিভাগে চিকিৎসার প্রয়োজন বাড়তে পারে।
অঙ্গরাজ্যভেদেও পরিস্থিতি আলাদা। নিউইয়র্কে প্রায় ৬০ হাজার স্বল্প আয়ের অভিবাসী এই পরিবর্তনে প্রভাবিত হতে পারেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁদের একটি অংশকে বছরের শেষ পর্যন্ত বিকল্প, অঙ্গরাজ্য-অর্থায়িত স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে স্থানান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে ফেডারেল সুবিধা বন্ধ হলেও কিছু মানুষ অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব কর্মসূচির মাধ্যমে চিকিৎসাসুবিধা পেতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারও সরকারি স্বাস্থ্যবিমা রয়েছে কি না, তাঁর অভিবাসন-অবস্থা নতুন নিয়মের আওতায় পড়ে কি না এবং অঙ্গরাজ্যে বিকল্প কোনো কর্মসূচি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা উচিত। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের খবর দেখে নিজের সুবিধা বন্ধ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
যাঁরা স্বাস্থ্যবিমা হারানোর নোটিশ পেয়েছেন, তাঁদের চিঠিতে উল্লেখ করা কারণ, কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং আপিলের সুযোগ ভালোভাবে পড়া উচিত। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্যবিমা দপ্তর বা অনুমোদিত স্বাস্থ্যসেবা পরামর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে সরকারি দপ্তরের কাছ থেকে সরাসরি নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।