Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

আগাম ভিসা ছাড়াই ইউএই যেতে পারবেন ৪৬ দেশের নাগরিক, তালিকায় নেই বাংলাদেশ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম

আগাম ভিসা ছাড়াই ইউএই যেতে পারবেন ৪৬ দেশের নাগরিক, তালিকায় নেই বাংলাদেশ

বিজ্ঞাপন

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আগাম ভিসা ছাড়াই প্রবেশের যোগ্যতা রয়েছে ইউরোপের ৪৬টি দেশের নাগরিকদের। প্রকাশিত একটি তালিকায় এসব দেশের নাম তুলে ধরা হয়েছে। এতে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও যুক্তরাজ্যের মতো বড় ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি মোনাকো, সান মারিনো ও ভ্যাটিকান সিটির মতো ছোট রাষ্ট্রও রয়েছে। তবে এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই।

তালিকাভুক্ত দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের ইউএই ভ্রমণের আগে আগাম ভিসার আবেদন করতে হয় না। ফলে ছুটি কাটানো, ব্যবসায়িক কাজে যাওয়া কিংবা স্বল্প সময়ের জন্য দেশটিতে অবস্থানের পরিকল্পনা করছেন—এমন ভ্রমণকারীদের জন্য ভ্রমণপ্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। তবে আগাম ভিসা না লাগার অর্থ এই নয় যে সব ভ্রমণকারী একই মেয়াদে থাকার সুযোগ পাবেন কিংবা প্রবেশের ক্ষেত্রে অন্য কোনো শর্ত মানতে হবে না।

প্রকাশিত তালিকায় ইউরোপের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের দেশগুলো স্থান পেয়েছে। উত্তর ইউরোপের ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেনের পাশাপাশি পশ্চিম ইউরোপের জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস রয়েছে। এ ছাড়া মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকেরাও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।

তালিকায় থাকা ৪৬টি দেশ হলো— আলবেনিয়া, অ্যান্ডোরা, অস্ট্রিয়া, বেলারুশ, বেলজিয়াম, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জর্জিয়া, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, কসোভো, লাটভিয়া, লিশটেনস্টাইন, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, মলদোভা, মোনাকো, মন্টেনেগ্রো, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, রাশিয়া, সান মারিনো, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য ও ভ্যাটিকান সিটি।

তালিকায় ইউরোপের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোও রয়েছে। আলবেনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কসোভো, মলদোভা, মন্টেনেগ্রো, সার্বিয়া ও ইউক্রেনের নাম উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া বেলারুশ, জর্জিয়া ও রাশিয়াও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই তালিকা সরাসরি প্রযোজ্য নয়। ইউরোপের কোনো দেশে বসবাস করলেই একজন বাংলাদেশি নাগরিক স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই দেশের নাগরিকদের মতো ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাবেন না। ইউএইতে প্রবেশের ক্ষেত্রে মূলত পাসপোর্টের জাতীয়তা এবং সংশ্লিষ্ট ভিসাবিধি বিবেচনা করতে হয়। তাই বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ভ্রমণের আগে নিজেদের জন্য প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন।

এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—ভিসামুক্ত প্রবেশ, বিমানবন্দরে পৌঁছে ভিসা পাওয়ার সুবিধা এবং ভ্রমণের আগে ভিসা সংগ্রহের নিয়ম এক নয়। কোনো দেশের নাগরিকদের জন্য আগাম ভিসা না লাগলেও তাঁদের প্রবেশের সময় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হতে পারে। একইভাবে, অনুমোদিত অবস্থানকালের মেয়াদও নাগরিকত্ব ও প্রবেশের নিয়ম অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

ইউএই ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন এমন ব্যক্তিদের তাই টিকিট বুকিংয়ের আগে সর্বশেষ ভিসাবিধি যাচাই করা উচিত। দেশটির সরকারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অথবা সংশ্লিষ্ট ইউএই দূতাবাস থেকে প্রবেশের যোগ্যতা, পাসপোর্টের মেয়াদ এবং অবস্থানের শর্ত সম্পর্কে তথ্য নেওয়া যেতে পারে। সাধারণভাবে, ইউএইতে প্রবেশের সময় পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ছয় মাস থাকা প্রয়োজন হতে পারে।

এ ছাড়া ভ্রমণের উদ্দেশ্য, পাসপোর্টের ধরন এবং অবস্থানের সম্ভাব্য মেয়াদ অনুযায়ী অতিরিক্ত শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে কোনো তালিকায় দেশের নাম থাকা মানেই সব ধরনের ভ্রমণকারীর জন্য নিঃশর্ত প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়।

সব মিলিয়ে, ইউরোপের ৪৬ দেশের নাগরিকদের জন্য ইউএইতে আগাম ভিসা ছাড়াই প্রবেশের সুযোগের বিষয়টি আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে একই সুবিধা রয়েছে—এমন ধারণা করা ঠিক হবে না। ইউএই যাওয়ার আগে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের নিজেদের জন্য প্রযোজ্য ভিসার নিয়ম ও সর্বশেষ প্রবেশশর্ত নিশ্চিত হয়ে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার