Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

নাগরিকত্ব সংশোধন আইনে নাগরিকত্ব পাবেন বাংলাদেশি হিন্দু শরণার্থীরা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২০ এএম

নাগরিকত্ব সংশোধন আইনে নাগরিকত্ব পাবেন বাংলাদেশি হিন্দু শরণার্থীরা

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের আওতায় নাগরিকত্বের সনদ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বনগাঁয় দুর্গাপূজার উদ্বোধন করতে গিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের উদ্দেশে এই বার্তা দেন তিনি। নাগরিকত্বের সনদ পাওয়া এবং ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বনগাঁ ও নদিয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় মতুয়া সম্প্রদায়ের বসবাস। বাংলাদেশ থেকে আসা বহু মানুষের নাগরিকত্বের প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব অতীতেও নির্বাচনি প্রচারে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বিভিন্ন সময়ে এই বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিন বনগাঁয় দুর্গাপূজার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্যকে নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের আওতায় সনদ দেওয়ার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে। সেই অনুযায়ী সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি। তার আশ্বাস, নাগরিকত্বের সনদ পাওয়া কিংবা ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের সমস্যায় পড়তে হবে না। 

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্বের প্রশ্নকে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তবে কতজন আবেদনকারী সনদ পেয়েছেন, কতজনের আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে এবং নতুন করে কতজনকে সনদ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এদিন নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান জানাননি তিনি। 

আরও পড়ুন
নাগরিকত্বের প্রশ্নের পাশাপাশি দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলন নিয়েও বক্তব্য দেন মুখ্যমন্ত্রী। 

আন্দোলনকারীদের একাংশকে কটাক্ষ করে তিনি ‘ছারপোকা’ ও ‘আরশোলা’ বলে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, এই গোষ্ঠীগুলি ভারতকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। নকশালদের থেকেও সতর্ক থাকার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 

অন্যদিকে, বনগাঁ এলাকার উন্নয়ন ও সরকারি সহায়তা নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তার দাবি, এলাকার ৭২ হাজার নারী অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে মাসে তিন হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। যারা এখনও এই সুবিধার জন্য আবেদন করেননি, তাদের আবেদন করার আহ্বান জানান তিনি। আবেদন যাচাই করে যোগ্যদের সুবিধা দেওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

সীমান্ত শহর বনগাঁয় শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্য, এই এলাকায় শিল্প গড়ে উঠলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতির উন্নতি হবে।মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্বের দাবি, সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন এবং সরকারি আর্থিক সহায়তা, এই তিনটি বিষয়ই এদিনের অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়। 

তবে নাগরিকত্বের সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়া কত দ্রুত এগোবে, তা নির্ভর করবে আবেদন যাচাই ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার